| UPDATED May 2005 |
দি হাঙ্গার
প্রজেক্ট-বাংলাদেশ
দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাব্রতী সংস্থা
৷ বিশ্বব্যাপী বিরাজমান
ক্ষুধা-দারিদ্র দূর করার জন্য একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৭৭
সালে যুক্তরাষ্ট্রে এর যাত্রা শুরু হয়
৷ বর্তমানে এশিয়া,
আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার ২৩টি দেশে এর কার্যক্রম বিস্তৃত এবং ক্রমেই তা সমপ্রসারিত
হচ্ছে
৷ বাংলাদেশে দি হাঙ্গার
প্রজেক্টের কার্যক্রম ১৯৯১ সালে আরম্ভ হয়
৷
দি হাঙ্গার প্রজেক্ট যে দর্শনের ভিত্তিতে কাজ করে তা হলো - দান-অনুদান বা মানুষের
জন্যে করে দেয়ার মাধ্যমে ক্ষুধা-দারিদ্রের অবসান ঘটে না, এর মধ্য
দিয়ে বরং পরনির্ভরশীলতার
একটা সংস্কৃতি গড়ে ওঠে
৷ যা একটি জাতির স্বাধীন
আত্মবিকাশের পথ রুদ্ধ করে দেয়
৷ ক্ষুধা-দারিদ্র দূর
করতে প্রয়োজন এমন একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন যেখানে প্রতিটি মানুষ একই
প্রত্যাশা নিয়ে এবং নিজের অন্তর্নিহিত শক্তিতে উজ্জীবিত হয়ে, উপলব্ধি করবে যে, তারা
নিজেরাই নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে সক্ষম
৷ প্রতিটি মানুষ তার নিজ
নিজ অবস্থান থেকে, নিজের যে সম্পদ আছে তাকেই প্রাথমিক পুঁজি হিসেবে কাজে লাগিয়ে একক
এবং যৌথভাবে সমাজের ক্ষুধা-দারিদ্র দূর করতে উদ্যোগী হবে
৷ দি হাঙ্গার প্রজেক্ট
এমন একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতেই অনুঘটকের ভূমিকা পালন করছে এর জন্য অবশ্য
প্রয়োজন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গীর রূপান্তর এবং তাদেরকে নতুন করে চিন্তা করতে শেখা
৷
দি হাঙ্গার প্রজেক্ট তাই কোন গতানুগতিক এনজিও বা দাতাসংস্থা নয়
৷ এটি একটি বিশ্বাস,
একটি প্রতিশ্রুতি ও একটি সামাজিক আন্দোলনের প্রত্যাশা
৷ এ প্রতিষ্ঠান বিশ্বাস
করে, প্রতিটি মানুষ সক্ষম, সৃজনশীল ও অফুরন্ত সম্ভাবনার আধার
৷ তার সুপ্তশক্তিকে যদি
জাগরিত করা যায়, যদি তাকে উজ্জীবিত করা যায়, তাহলে সে অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারবে
৷ এর জন্য যে সহায়ক
পরিবেশ সৃষ্টির প্রয়োজন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট সে পরিবেশ সৃষ্টি করতে সহায়তা করতে
প্রতিশ্রুতিদ্ধ
৷
কাজের ধারা
কার্যক্রমের শুরুতে বাংলাদেশের উন্নয়নের বাস্তবতা এবং মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা
বিশ্লেষণ করে তৃণমূল পর্যায়ের কৌশল ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কৌশল এই দু'ধারা
বিশিষ্ট কর্ম-কৌশল প্রণয়ন করা হয়
৷
প্রথমত, তৃণমূল পর্যায়ের কৌশল হিসেবে দেশের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ক্ষুধামুক্ত
বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যাশা জাগিয়ে তোলার লক্ষ্যে প্রত্যাশা, প্রতিশ্রুতি ও কার্যক্রম
শীর্ষক কর্মশালা এবং উজ্জীবক প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হয়
৷ এগুলোর মাধ্যমে
অংশগ্রহনণকারীদের মধ্যে আত্মজিজ্ঞাসা ও আত্মোপলব্ধি সৃষ্টি করে উজ্জীবিত, সংগঠিত
এবং সমাজ পরিবর্তনের নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করা হয়
৷
দ্বিতীয়ত, নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের কৌশল হিসেবে সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও
জাতীয় পর্যায়ের নীতি-নির্ধারকদের ক্ষুধামুক্তির আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে
বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়
৷ এ প্রক্রিয়াতে
সম্পৃক্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে তৃণমূল
মানুষের পক্ষে আইন ও কাঠামোগত সংস্কারে সোচ্চার কন্ঠ
৷
কার্যক্রম:
দি হাঙ্গার প্রজেক্টের চালিকাশক্তি হচ্ছে একদল উজ্জীবক
৷ চারদিনের উজ্জীবক
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের মাধ্যমে একদল ব্যক্তি আত্মজিজ্ঞাসা ও আত্মোপলব্ধির ভিত্তিতে
প্রণোদিত হয় এবং উজ্জীবক হিসেবে ভূমিকা রাখার শপথ গ্রহণ করে
৷ এরা স্বেচ্ছাব্রতী
৷ এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০
হাজার উজ্জীবক নিজ নিজ এলাকায় মানুষকে উজ্জীবিত, সংগঠিত ও ক্ষমতায়িত করে
ক্ষুধামুক্তির সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে
৷ এই সংখ্যা প্রতিদিন
বাড়ছে
৷
এই স্বেচ্ছাব্রতী উজ্জীবকদের নিরলস প্রচোষ্টার ফলে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে
দরিদ্র নারী-পুরুষদের নিয়ে গড়ে উঠেছে সহস্রাধিক সংগঠন
৷ হাজার হাজার মানুষের
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে
৷ স্থানীয় সম্পদ কাজে
লাগিয়ে নিজেদের পরিকল্পনায় স্থানীয়ভাবে সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বিভিন্ন একক ও যৌথ
উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে সফলতার সাথে
৷
দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক
নামে যে নাগরিক উদ্যোগটি গড়ে উঠেছে, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট সেখানে অনুঘটকের ভূমিকা
পালন করছে৷ সংগঠনটি প্রশাসনের সর্বস্তরে স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা তথা সুশাসন নিশ্চিত
করতে এবং এ লক্ষ্যে জনমত সৃষ্টিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে৷ দি হাঙ্গার প্রজেক্ট সুজনের
সচিবালয় হিসেবে কাজ করছে
৷
মানুষকে জাগ্রত ও সংগঠিত করতে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে স্থানীয় নেতৃত্ব ও
স্থানীয় গণতান্ত্রিক সরকার
৷ ইউনিয়ন পরিষদ এক্ষেত্রে যাতে
আরও কার্যকর ও গতিশীল ভূমিকা রাখতে পারে, প্রতিষ্ঠানটি তার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে
৷ দি হাঙ্গার প্রজেক্টের
অনুপ্রেরণায় গঠিত স্ব-শাসিত ইউনিয়ন পরিষদ এডভোকেসি গ্রুপ-বাংলাদেশ এর মাধ্যমে
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারগণ অনুপ্রাণিত, সংগঠিত হচ্ছেন এবং শক্তিশালী
স্থানীয় সরকার গঠনের লক্ষ্যে দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তুলছেন
৷ ইতোমধ্যেই অনেক
ইউনিয়নে তারা পরনির্ভরশীলতা আর অবকাঠামো নির্ভর উন্নয়ন ধারার বিপরীতে স্থানীয়
নেতৃত্বে স্থানীয় সম্পদ কাজে লাগিয়ে উন্নয়নের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন
৷
এই স্বেচ্ছাব্রতী সংস্থা বিশ্বাস করে, আমাদের সমাজে নারীরাই ক্ষুধামুক্তির মূল
চাবিকাঠি
৷ নারীদের প্রতি বঞ্চনা ও
বৈষম্যের নিরসন না হলে ক্ষুধা-দারিদ্র দূর করা সম্ভব নয়
৷ এ বিবেচনা থেকে নারীর
ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে ইউনিয়নভিত্তিক গণজাগরণ দি হাঙ্গার প্রজেক্টের অন্যতম
অগ্রাধিকার
৷ সংস্থার উদ্যোগে নারী ও
কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য নিরসনে গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে ৩০ সেপ্টেম্বরকে জাতীয়
কন্যাশিশু দিবস হিসেবে সারা দেশে পালন করা হচ্ছে
৷ বর্তমানে দিবসটি
জাতীয়ভাবেও পালিত হচ্ছে
৷ দি হাঙ্গার প্রজেক্ট কন্যা
শিশু এডভোকেসি ফোরামের সচিবালয়ের দায়িত্ব পালন করছে
৷
ক্ষুধামুক্তির আন্দোলনে ছাত্র-যুব সমাজকে এ প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে
মনে করে
৷ এই চেতনা থেকে ইয়ূথ এন্ডিং
হাঙ্গার নামে একটি স্বেচ্ছাব্রতী সংগঠন সারাদেশে কাজ করে যাচ্ছে
৷ এ পর্যন্ত প্রায় এক
লক্ষ ছাত্র-ছাত্রী নিজেদের বিকাশের সাথে সাথে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার মানসিকতার
ভিত্তিতে বিভিন্ন সমাজ উন্নয়ন মূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়েছে ৷
দি হাঙ্গার প্রজেক্ট মনে করে, ক্ষুধামুক্তির এ আন্দোলন হচ্ছে বাংলাদেশের জন্যে
দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ
৷ মুক্তিযুদ্ধের মতোই প্রত্যাশা
ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে স্বত:প্রবৃত্ত হয়ে এ আন্দোলনে যোগ দিতে হবে৷ সমস্যা কবলিত
দরিদ্র মানুষেরাই হবে এ আন্দোলনের মূল সৈনিক, আপন ভাগ্য গড়ার কারিগর, তার নিজ
ইতিহাসের নায়ক
৷
|
© 2005 The Hunger Project-Bangladesh. All rights reserved. |