|
মেধা যাচাই পরীক্ষা
সাড়া জাগিয়েছে গোটা হেসাখালে
'উন্নত জীবনের সন্ধানে তারুণ্য' এ শ্লোগানকে সামনে রেখে গত ২২
সেপ্টেম্বর ২০০৫ ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার হেসাখাল ইউনিট আয়োজন করে মেধা যাচাই
পরীক্ষা ৷ স্থানীয় হেসাখাল বাজার হাইস্কুলে অনুষ্ঠিত হয় এ পরীক্ষা ৷
নাঙ্গলকোট থানার ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যুব উদ্যোগ শিশু নিকেতন, হেসাখাল
বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং হেসাখাল বাজার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে
দেড় শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৷ যার মধ্যে ছাত্রী ছিল
৭৮ জন ৷ প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর যখন অনাগ্রহ, তখন এ
উদ্যোগ পুরো শহরে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছে ৷
.jpg) সকাল থেকেই ছাত্র-ছাত্রীরা পরীক্ষা কেন্দ্রে আসতে শুরু করে ৷ বেলা ১০
টার সময় যখন পরীক্ষা শুরু হলো তখন হেসাখাল বাজার হাইস্কুলের সব কটি রুম
প্রার্থীতে পরিপূর্ণ ৷ একটিও অতিরিক্ত সীট ফাঁকা নেই ৷ তখনও অংশগ্রহণকারীরা
আসছিল ৷ কিন্তু তাদের ফিরে যেতে হয়েছে ৷ তৃতীয় থেকে নবম শ্রেণীর
ছাত্র-ছাত্রীরা এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৷ প্রায় শতাধিক অভিভাবকের উপস্থিতি
ছিল লক্ষ্য করার মত ৷
এ পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল - ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে পাঠ অভ্যাস বৃদ্ধি
করা ৷ নিজেকে সমৃদ্ধ করতে পাঠ্য পুস্তকের বাইরেও পড়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি
করা ৷ অভিভাবকদেরকেও উত্সাহিত করা যাতে করে তারা তাদের সন্তানদের নন
একাডেমিক বিষয়ে পড়ার প্রতি যত্নবান হন ৷
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র করা হয় পাঠ্য পুস্তকের ভিতর থেকেই, কিন্তু নিয়মিত
পাঠ্যসূচির বাইরে ৷ সাধারণত পরীক্ষায় দেখা যায় ছাত্র-ছাত্রীদের নির্দিষ্ট
কিছু বিষয় নির্বাচন করে দেয়া হয় ৷ ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা ওই সকল নির্বাচিত
বিষয়গুলোর প্রতিই মনোযোগী হয় ৷ কিন্তু ওই বিষয়গুলো ছাড়াও পাঠ্য বইতে এমন
অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকে, যা তাদের দৃষ্টির অগোচরেই রয়ে যায় ৷ তাদের
চিন্তা চেতনা হয়ে ওঠে অনেকটাই ছাঁচে ঢালা, বিশেষত সিলেবাসকেন্দ্রিক ৷ তাই এ
পরীক্ষার অন্যতম একটি উদ্দেশ্য ছিল ছাত্র-ছাত্রীদের জ্ঞানশিখার এ মৌলিক
দিকটিতে নাড়া দেয়া ৷
প্রায় দুই মাস আগে থেকে এ পরীক্ষার জন্য আয়োজকদের প্রস্তুতি চলছিল ৷
হেসাখাল ইউনিটে এ নিয়ে ছিল সাজ সাজ রব ৷ সদস্যরা এ উদ্যোগে শিক্ষক ও
অভিভাবকদের সহযোগিতা নেবার জন্য বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একাধিক
প্রচারাভিযান, কর্মশালা ও আলোচনা সভার আয়োজন করে ৷ এ কারণেই মেধা যাচাই
পরীক্ষার গুরুত্ব গভীরভাবে ছাত্র-ছাত্রীসহ শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমভাবে
উত্সাহিত করে ৷ এর ফলে ছাত্র-শিক্ষক সুসম্পর্কের নতুন ভিত্তি রচিত হয়েছে ৷
যা শিক্ষার সার্বিক মান উন্নয়নে সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ ৷

পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ইউনিট একটি ১১ সদস্য বিশিষ্ট
মেধা বিকাশ পরীক্ষা প্রস্তুতি কমিটি গঠন করে ৷ ইয়ূথ লীডার মনির হোসেন শামীম
এই টিমের নেতৃত্ব দেয় ৷ পরীক্ষা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সকল
কর্মকাণ্ড এই কমিটিই নিখুঁতভাবে পরিচালনা করে ৷ আর এই টিম যাতে করে
সঠিকভাবে এগোতে পারে এ ব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতা করে ময়মনসিংহের ইয়ূথ
লীডার ইয়ূথ একটিভিস্ট সুব্রত কুমার পাল ৷ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান
পরিচালনা করে ইয়ূথ লীডার মো: হান্নান ৷
এ পরীক্ষা সম্পর্কে শিক্ষক ও অভিভাবকদের অনুভূতি উল্লেখযোগ্য ৷ হেসাখাল
বাজার হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন 'উদ্যোগটি খুবই ইতিবাচক ৷ এ পরীক্ষাটি
অবশ্যই ছাত্র-ছাত্রীদের মেধা বিকাশে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে ৷
তবে এটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ব্যাপার ৷ আমি এ প্রক্রিয়ায় অবদান রাখতে চাই ৷'
উপস্থিত একজন অভিভাবক জানালেন - 'আমার মেয়ে এই পরীক্ষায় অংশ নেয় নি ৷
আমি নিজেও তাকে উৎসাহিত করি নি ৷ ভেবেছিলাম সময় নষ্ট করবে ৷ কিন্তু এখন মনে
হচ্ছে ভুল করেছি ৷'
একজন অংশগ্রহণকারী জানায় 'এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ফলে পরবর্তী বার্ষিক
পরীক্ষায় তার ফলাফল অনেক ভাল হয়েছে ৷ এ পরীক্ষাটি বার্ষিক পরীক্ষায় ভাল
ফলাফল করতে সহায়ক হিসেবে গড়ে উঠেছিল ৷'
শামীম এবং হান্নান
|