|
নতুন বছরে নতুন আঙ্গিকে গণিত উত্সবের যাত্রা শুরু
"ছোটবেলায়
গণিতকে খুব ভয় পেতাম, মা-বাবা আমাকে জোড় করে অংক করাতেন ৷ ইংরেজী এবং অংকে
বেশি নম্বর পেতেই হবে - এটাই ছিল মা-বাবার একান্ত প্রত্যাশা ৷ তাই মা-বাবার
প্রত্যাশা পূরণে অংক মুখস্ত করা শুরু করি ৷ কিন্তু অংক যে এত মজার তা আগে
বুঝি নি ৷ আজ আমার কাছে মনে হচ্ছে এতদিন গণিত মুখস্ত করে এসে আমি ভুল করেছি
৷ এখন থেকে গণিতকে বুঝতে চেষ্টা করবো এবং বুঝে গণিত করবো ৷" - অনেকটা ঠিক
এভাবেই অনুভূতির কথা জানালো বারোতোপার অষ্টম শ্রেণী পড়ুয়া এক ছাত্রী নাবিলা
জামান উর্মি ৷
'গণিত নিয়ে খেলা করো, বিশ্বটাকে জয় করো' এই শ্লোগানকে সামনে রেখে পরপর
দু'টি গণিত উত্সব অনুষ্ঠিত হয় যথাক্রমে গাজীপুরের মাওনা ইউনিয়নের বারতোপা
এ কে এম উচ্চ বিদ্যালয় এবং ঢাকার মিরপুরের সিদ্ধান্ত হাই স্কুলে ৷ গত ২৪
ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার বারতোপা ইউনিটের আয়োজনে প্রথমটি এবং
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার মিরপুর ইউনিটের আয়োজনে দ্বিতীয়
গণিত উত্সবটি সফলভাবে সম্পন্ন হয় ৷
.jpg)
গাজীপুরে এ ধরণের উত্সব ছিল এবারই প্রথম ৷ সূর্যের প্রখর তাপের মাঝেও তাই
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক,
অভিভাবকসহ বিভিন্ন স্তরের জনগণের অংশগ্রহণ ছিল লক্ষ্য করার মত একটি বিষয় ৷
বারতোপা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উত্সবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ উত্সবে শ্রীপুর
থানার ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০০ জন ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করে ৷
সকাল ৯.৩০টায় আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ
উদ্বোধন ঘোষণা করেন বারতোপা এ কে এম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব
হাসান আলী ৷ এছাড়া জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির পতাকা উত্তোলন করেন ঐ
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জনাব জহিরুল ইসলাম কাজল ৷ সকাল ১০টায়
ষষ্ঠ থেকে অষ্টম পর্যন্ত জুনিয়র এবং নবম, দশম শ্রেণী ও এসএসসি পরীক্ষার্থী
পর্যন্ত সেকেণ্ডারী মোট এই দুইটি ক্যাটাগরীতে প্রায় পাঁচ'শ জন শিক্ষার্থী
পরীক্ষায় অংশ নেয় ৷ পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে অতিথিরা বিভিন্ন রুম পরিদর্শন
করেন ৷
.jpg)
শতশত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক, ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারের সদস্যরা ছাড়াও এ
ব্যতিক্রমী আয়োজনে ১নং মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব আমীর হামজা
উপস্থিত হয়ে আয়োজকদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং অনুষ্ঠানের সাফল্য কামনা করেন
৷ উত্সবকে আরো প্রাণবন্ত করতে এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দি হাঙ্গার
প্রজেক্টের গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. বদিউল আলম
মজুমদার, বাংলাদেশ জাতীয় অলিম্পিয়াড টিমের কোচ বিজ্ঞানী ড. মাহবুব মজুমদার,
ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারের যুগ্ম ন্যাশনাল কোঅর্ডিনেটর শরিফুল ইসলাম রনি এবং
বিধান চন্দ্র পাল ৷
ড. মাহবুব মজুমদার-এর পরিচালনায় প্রশ্নোত্তর পর্ব ছাড়াও অলিম্পিয়াডে
অন্যান্য অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল পরিচয় ও বন্ধুত্ব পর্ব, গণিতের বিভিন্ন বিষয়
নিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে মতবিনিময়, উন্মুক্ত আলোচনা ও
পুরস্কার বিতরণ ৷ ছাত্র-ছাত্রীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সকলেই সমস্বরে ড.
বদিউল আলম মজুমদারের সাথে তিনটি 'ম'-কে না বলে ৷ এই তিনটি 'ম' হল মাদক,
মিথ্যা এবং মুখস্ত ৷
জুনিয়র ও সেকেন্ডারী ক্যাটাগরীতে অলিম্পিয়াডে প্রতি গ্রুপের ১০ জন করে মোট
২০ জনকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পুরস্কার ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয় ৷ এছাড়াও
প্রতিগ্রুপ থেকে ১ জন করে মোট ২ জনকে 'চ্যাম্পিয়ন অব দ্য
চ্যাম্পিয়ন' পুরস্কার প্রদান করা হয় ৷ জুনিয়র ও সেকেণ্ডারী ক্যাটাগরিতে
চ্যাম্পিয়ন অব দ্য চ্যাম্পিয়নস্ হয়েছে যথাক্রমে সুরভী শায়লা সেতু ও নাসরীন
জাহান শিখা ৷ এছাড়া বারতোপা এ কে এম উচ্চ বিদ্যালয় শ্রেষ্ঠ শিক্ষা
প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ৷
এ আয়োজনকে সফল করতে যারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে তারা হলো- বারতোপা
ইউনিটের কোঅর্ডিনেটর রুবেল মাহমুদ সুমন, রাজিবুল, সাথী, মর্জিনা, মেজবাহ,
মিনি, মাসুদ, রাজীব, তুষার, আলীম, উজ্জল, শ্যামল, শফিক এবং লতিফ ৷
মিরপুরে অনুষ্ঠিত গণিত উত্সবটি উত্সর্গ করা হয় শহীদ বুদ্ধিজীবী জহির
রায়হান এবং গণিতবিদ জনাব মোঃ হেলাল উদ্দিন এর নামে ৷ মিরপুর সিদ্ধান্ত হাই
স্কুল মাঠে উত্সবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ উত্সবে মিরপুরের ১৪টি শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১২০০ জন ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করে ৷ শিক্ষার্থী ও
তাদের অভিভাবক, ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারের সদস্যরা ছাড়াও দিনভর এ ব্যতিক্রমী
আয়োজনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসহ বিভিন্ন স্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন ৷
সকাল ৯.৩০টায় আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে অনুষ্ঠানের শুভ
উদ্বোধন ঘোষণা করেন মিরপুর সিদ্ধান্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ
সোহরাব হোসেন ৷ এছাড়া জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির পতাকা উত্তোলন করেন
বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড টিমের কোচ ড. মাহবুব মজুমদার ৷ সকাল ১০টায় তৃতীয়
থেকে পঞ্চম পর্যন্ত প্রাইমারী, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম পর্যন্ত জুনিয়র এবং নবম,
দশম শ্রেণী ও এসএসসি পরীক্ষার্থী পর্যন্ত সেকেণ্ডারী মোট এই তিনটি
ক্যাটাগরীতে এ অলিম্পিয়াডটি অনুষ্ঠিত হয় ৷
.jpg)
পরীক্ষা শেষে চলে বন্ধুত্ব বিনিময় পর্ব ৷ আর ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন
বিদ্যালয়ের অংশগ্রহণকারীরা নাচ, গান, আবৃত্তি, অভিনয় পরিবেশন করে ৷ এরপর
অনুষ্ঠিত হয় প্রশ্নোত্তর ও অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্ব ৷ শেষে বিজয়ীদের মাঝে
পুরস্কার বিতরণ করা হয় ৷ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর
মুনির হাসান এর পরিচালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের
গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. বদিউল আলম মজুমদার,
NSU-এর
ভিজিটিং প্রফেসর মোহাম্মদ কায়কোবাদ, জনাব হামিদুল হোসেন তারেক বীরবিক্রম,
বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক মূখ্য বার্তা সম্পাদক জনাব রফিকুল ইসলাম সরকার,
মিরপুর সিদ্ধান্ত হাই স্কুল কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ শামসুজ্জামান
সেন্টু প্রমুখ ৷
এছাড়াও উপস্থিত ছিল ইয়ূথ একটিভিস্ট বায়জিদ যশোরী, ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারের
যুগ্ম ন্যাশনাল কোঅর্ডিনেটর শরিফুল ইসলাম রনি, সোমা দত্ত, বিধান চন্দ্র
পালসহ ঢাকা সিটি ইউনিটের একদল তরুণ-তরুণী ৷ দুপুরের কড়া রোদ উপেক্ষা করে
অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো ৷ সকলের চোখে মুখে প্রতিফলিত
হচ্ছিল ভরপুর উদ্দীপনা এবং স্বতঃস্ফূর্ততা ৷
অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্বে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, মুক্তিযুদ্ধে যারা
অংশগ্রহণ করেছিল তারা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে অংশগ্রহণ করেছিল ৷ এখন দেশের
সম্ভাবনাগুলিকে জাগিয়ে তুলতে হলে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে ৷
তিনি টিয়া পাখির একটি গল্পের উদাহরণ টেনে বলেন আমরা মুখস্তের প্রতি
নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি ৷ এই নির্ভরশীলতা আমাদেরকেই দূর করতে হবে ৷
প্রফেসর মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, তিনি এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে খুবই
গর্বিত এবং আনন্দিত ৷ তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারই পারবে
গণিতকে তৃণমূলে পৌঁছে দিতে ৷ এরপর প্রফেসর মুনির হাসানের সাথে সমস্বরে
সকলে তিনটি 'ম'-কে না বলে ৷ এই তিনটি 'ম' হল মাদক, মিথ্যা এবং মুখস্ত ৷
এছাড়া সকল অপরিচ্ছন্নতার বিরুদ্ধেও প্রত্যয়ী হবার জন্য সকলেই হাত উঁচিয়ে
তাদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ৷
প্রাইমারী, জুনিয়র ও সেকেণ্ডারী ক্যাটাগরীতে অলিম্পিয়াডে প্রতি গ্রুপের ১০
জন করে মোট ৩০ জনকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পুরস্কৃত করা হয় ও সার্টিফিকেট হাতে
তুলে দেয়া হয় ৷ এছাড়াও প্রতিগ্রুপ থেকে ১ জন করে মোট ৩ জনকে চ্যাম্পিয়ন অব
দ্য চ্যাম্পিয়ন পুরস্কার প্রদান করা হয় ৷ প্রাইমারী, জুনিয়র ও সেকেণ্ডারী
ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন অব দ্য চ্যাম্পিয়নস্ হয়েছে যথাক্রমে মুনা, প্রথম
আলো কিণ্ডার গার্টেন, রেশমা আক্তার, মীরপুর সিদ্ধান্ত হাই স্কুল ও সানজিদা
আক্তার, হযরত শাহ আলী মডেল হাই স্কুল ৷ এছাড়া তিন ক্যাটাগরীতে তিনটি শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে মনোনীত করা হয় ৷ প্রাইমারী, জুনিয়র ও
সেকেণ্ডারী ক্যাটাগরিতে যথাক্রমে যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শ্রেষ্ঠ হয়েছে
সেগুলো হল: প্রথম আলো কে জি স্কুল, হযরত শাহ আলী মডেল হাই স্কুল এবং মিরপুর
সিদ্ধান্ত হাই স্কুল ৷
মিরপুর ইউনিট-এর সাবেক কোঅর্ডিনেটর এবং প্রথম আলো কিণ্ডার গার্টেনের
প্রিন্সিপাল জাহাঙ্গীর যুবরাজ-এর নেতৃত্বে অনিতা রায়, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম,
স্বরস্বতী রাণী, অনিক, শফিক, ইসমাইল, মোতাহার, সিরাজুল ইসলাম, কামরুল,
মনিরুজ্জামান, সফিকুল, নাজমা, শাপলা, সৌরভ, সাগর, বিপ্লব, পারভেজ, সাদিয়া,
মিলটন, আকাশ, মতিউর, আনোয়ার, নজরুল, মেহেদী, জাকির, আলী, রঞ্জন, মারুফ,
বিপ্লব, রাজ, নাজনীন সুলতানাসহ শতাধিক তরুণ স্বেচ্ছাসেবী ছাত্র-ছাত্রীর
অক্লান্ত পরিশ্রমে সফলভাবে সম্পন্ন হয় মিরপুর গণিত উত্সব ৷ মিরপুর এবং
শ্রীপুর উত্সবের মধ্যদিয়ে ইয়ূথ সদস্যরা যাত্রা শুরু করে শততম উত্সব
আয়োজনের লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে ৷
শরিফুল
ইসলাম রনি ও জাহাঙ্গীর যুবরাজ
|