ইয়ূথের উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে একুশ উদযাপন

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার-মানচিত্র ইউনিট
বালারহাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করে ৷ এসব
কর্মসূচির মধ্যে ছিল শোক পতাকা ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কালোব্যাচ পরিধান,
প্রভাতফেরী, পুষ্পমাল্য দান, মুক্ত আলোচনা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ৷ এ সকল
আয়োজনে তিন শতাধিক লোক অংশগ্রহণ করে ৷ এছাড়াও এ দিনে অনুষ্ঠিত বিতর্ক, রচনা
এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় দুই শতাধিক প্রতিযোগি অংশগ্রহণ করে ৷ উক্ত
আয়োজনের শুরুতে শোক পতাকা এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের
চেয়ারম্যান জনাব আলহাজ্ব মোঃ গফুর আলী এবং সদস্য শাহাজাদ ৷ মুক্ত আলোচনা
এবং পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফুলবাড়ি
উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বণিক, বিশেষ অতিথি ছিলেন
ফুলবাড়ি উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জনাব মোঃ আব্দুর রহিম,
নাওডাঙ্গা বি এন পি'র সাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃ আব্দুল রহিম এবং নাওডাঙ্গা
আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃ আইয়ূব আলী ৷ ইউনিট লিডার মোঃ রেফাজুল
আলমের উপস্থাপনায় সাংস্কৃতিক ও পুরষ্কার বিতরণী পর্বে মোট ৪৭ জনকে পুরস্কৃত
করা হয় ৷ অনুষ্ঠানটি আয়োজনে যারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে তারা হলো
নাজমূল হুদা, রাসেল মাহমুদ, জনি, আরাফাত-ই-রহমান নীলা, মীরা, মৌসুমী
সরকার, মিতু, পিংকী, রিংকী, রুমি, জেবিন, সুবোধ, আদম, সুশান্ত পাল, আঃ
রহমান, বিপ্লব, মানিক, কাজল, সাজু, রুবেল মাহমুদ এবং রাজন ৷
ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার-ঝিনাইদহ সদর ইউনিট দিনটি উপলক্ষ্যে দিবসের প্রথম
প্রহরে ইউনিট কার্যালয়ে জাতীয় পতাকার উত্তোলনের মাধ্যমে দিনব্যাপী
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ৷ এদিন ইউনিট সদস্যরা সম্মিলিতভাবে প্রভাতফেরিতে জেলা
শহর প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পন করে ৷ এরপর
মর্নিং বেল চিলড্রেন একাডেমিতে 'আমার চোখে আমার দেশ' বিষয়টিকে
প্রতিপাদ্য করে একটি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় ৷ এতে প্রথম স্থান অধিকার করে
মাইশা তারানুম মীম, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে পিয়াস মাহমুদ এবং তৃতীয় হয়
আইভী জামান চৈতী ৷ বিকেলে ইউনিট কার্যালয়ে ইয়ূথ লিডার ছামছুন্নাহার সৃষ্টির
পরিচালনায় দিবসটির গুরুত্ব ও তাত্পর্য্য নিয়ে একটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় ৷
এছাড়াও সদস্যরা রেড ক্রিসেন্ট চত্বরে আয়োজিত একুশের মূল আয়োজন তিন দিনের বই
মেলা, আলোচনা পর্ব এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সাফল্যের সাথে অংশগ্রহণ করে ৷
দিবসটি উপলক্ষে গৌরীপুরের সদর ইউনিট, শম্ভুগঞ্জের লেতু মন্ডল উচ্চ
বিদ্যালয় ইউনিট, জি কে পি কলেজ ইউনিট, শম্ভুগঞ্জের ইউ সি উচ্চ বিদ্যালয়
ইউনিট পৃথক পৃথক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ৷ এ সকল আয়োজনের মধ্যে ছিল
প্রভাতফেরি, আলোচনা সভা এবং পুষ্পমাল্য অর্পন ৷ জাতীয় সম্মেলন কমিটির সদস্য
মানিক, বিদ্যুৎ কুমার নন্দী, নয়ন কুমার দাস, সুমন পন্ডিত, ইউসুফ আলী, নূর
মোহাম্মদ, জনি এবং রাশিদ অনুষ্ঠানের আয়োজনে ভূমিকা পালন করে ৷
ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার-কারমাইকেল কলেজ ইউনিট কলেজের মুক্ত মঞ্চের পাদদেশে
একটি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ৷ উক্ত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় ৬০
জন প্রতিযোগি অংশগ্রহণ করে ৷ এতে প্রথম স্থান অধিকার করে সরকারি বালিকা
বিদ্যালয়ের ছাত্রী নীলা, দ্বিতীয় হয় লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের কুনাল
মজুমদার, তৃতীয় হয়েছে কারমাইকেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী তাসনিম
আরা, চতুর্থ স্থান লাভ করে সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী নাজিকাতুন নিসা
এবং পঞ্চম স্থান অধিকার করে কারমাইকেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী
মায়িশা মালিহা ইসলাম ৷ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করেন
পুলিশ সার্জেন্ট মো: বেলায়েত আলী ৷ এছাড়াও ইউনিট সদস্য লিটন, রাতুল, রিংকি
রবিউল, তুবা, সোমা, সানা, আজাদ এবং মাহফুল আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন
করে ৷
রংপুরের পীরগাছা থানার ফতা দোলপাড়া ইউনিট এবং স্থানীয় মাদকমুক্ত
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন চেতনার উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে
দোলপাড়া উপ-আনুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চিত্রাঙ্কন, কবিতা আবৃত্তি এবং
দেশের গান বিষয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় ৷ এতে সভাপতিত্ব করেন সাপ্তাহিক
উত্তরাঞ্চল বার্তা থানা সংবাদদাতা মোঃ মইদুল ইসলাম ৷ এছাড়াও আয়োজনে সার্বিক
সহযোগিতা করে মুছা, আনোয়ার, মোকছেদুল, সাইফুল, ইউসুফ, স্বপন এবং রাশেদা ৷
প্রতিযোগিতা শেষে বিভিন্ন বিভাগ থেকে মোট সাত জনকে পুরস্কৃত করা হয় ৷
"একুশের কৃষ্ণচুড়া আমাদের চেতনারই রং" - এ চেতনা বুকে লালন করে ইয়ূথ
এন্ডিং হাঙ্গার-নোয়াখালী জেলা ইউনিট সদস্যরা পালন করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা
দিবস ৷ নগ্ন পায়ে অন্ধকারকে পিছনে ফেলে নতুন আলোর প্রত্যাশায় শহীদ মিনারে
সমবেত হয় একঝাঁক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নবীন ৷ সুর্যোদয়ের অনেক আগেই নিবেদিত হয়
আরাদ্ধ পুষ্পাশ্রু ৷ তরুণদের সাথে উপস্থিত ছিলেন দি হাঙ্গার
প্রজেক্ট-বাংলাদেশের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিপ্লব সাহা, জাতীয় সম্মেলন কমিটির
আহ্বায়ক অরুপ সাহা, প্রণব আচার্য্য, ইয়ূথ লিডার করিম, সজীব, মিঠুন, মিলন,
রাখি, শিমু, সুবির, পার্থসহ আরো অনেকে ৷

বিকেল পাঁচটায় নোয়াখালী শহীদ মিনারের সবুজ ঘাসের সংস্পর্শে একুশের চেতনা
আবারো চিত্রিত হয় অসংখ্য খুদে হাতের স্পর্শে ৷ জেলা ইউনিটের আয়োজনে
অনুষ্ঠিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল একুশ ৷ এতে নোয়াখালীর বিভিন্ন
স্কুলের ৩০ জন ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করে ৷ তাদের মধ্য থেকে তিন জনকে
পুরস্কৃত করা হয় ৷ পরিশেষে অরুপ সাহা সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রতিযোগিতার
সমাপ্তি টানে ৷
রিপোর্ট: রেফাজুল, এ কে মানিক, জনি, এম রবিউল ইসলাম, মো: মোকছেদুল ইসলাম
|