![]() |
জাগরণের গল্পগাঁথা
সম্পাদনায়
|
|
সূচীপত্র |
ডাউনলোড |
ডকুমেন্টগুলি বাংলাতে তৈরি এবং দেখার জন্য অবশ্যই এডোব এক্রোবেট রিডার সফটওয়্যারটি প্রয়োজন হবে। ডাউনলোড করার জন্য এখানে ক্লিক করুন |
| বরেণ্য ব্যক্তিবর্গের শুভেচ্ছা বার্তা | ||
| দক্ষিণ অঞ্চলের গল্পগাঁথা | 340 KB | |
| উত্তর অঞ্চলের গল্পগাঁথা | 2.17 MB | |
| পূর্ব অঞ্চলের গল্পগাঁথা | 1.03 MB | |
| ঢাকা অঞ্চলের গল্পগাঁথা | 1.22 MB | |
| দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের গল্পগাঁথা | 1.32 MB |
মুখবন্ধ
|
বিস্তীর্ণ উর্বর ভূমি, মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর মাথা নত না করা ১৪ কোটি মানুষের দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ ৷ বুকভরা প্রত্যাশা আর অমিত সম্ভাবনা নিয়ে দেশটি যাত্রা শুরু করেছিল আজ থেকে ৩৩ বছর আগে প্রত্যাশা ছিল বিশ্বের মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার ৷ কথা ছিল একটি অন্যরকম বাংলাদেশ গঠনের, যেখানে দারিদ্র্য আর বঞ্চনা হবে অতীত ইতিহাস ৷ অথচ দুঃখজনক হলেও আমাদেরকে স্বীকার করতে হয়, বর্তমানে হাজারো সমস্যার দেশ বাংলাদেশ ৷ দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী - তথা দুর্বৃত্তায়ন, দারিদ্র্য, পরিবেশ দূষণ প্রভৃতি সমস্যা আজ আমাদের জাতীয় জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে ৷ কেউই আর এ সকল সমস্যার ধরাছোঁয়ার বাইরে নয় ৷ এ ছাড়াও পরনির্ভরশীলতার সংস্কৃতি আমাদের জাতীয় অগ্রগতির আশাকে ভেতর থেকে ক্ষয়ে ফেলছে ৷ এ ক্ষয় ছড়িয়ে পড়েছে সমাজের সকল স্তরে ৷ অর্থনীতি, রাজনীতিসহ সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রেই পড়ছে এর নেতিবাচক প্রভাব ৷ অফুরন্ত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আমরা সামনে এগুতে পারছি না এ সকল সমস্যার কারণে ৷ এগুলোর ভারে আমরা নুয়ে পড়ছি ৷ এ সকল সমস্যার অন্যতম কারণ অপশাসন, যা আমাদের অগ্রযাত্রাকে ক্রমাগতভাবে বাধাগ্রস্ত করছে ৷ এ ক্ষেত্রে রাজনীতিবিদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সমাজের চিন্তাশীল ব্যক্তিগণ তাঁদের যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারেননি ৷ দেশের মানুষকে জাগিয়ে তুলতে, সংগঠিত করতে এবং সঠিক নেতৃত্ব প্রদানে ব্যর্থ হয়েছেন রাষ্ট্রপরিচালকগণ ৷ তাঁরা ব্যর্থ হয়েছেন মানুষের এগিয়ে যাওয়ার জন্য সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে ৷ এ বাস্তবতা অনাকাঙ্ক্ষিত, এ বাস্তবতা ভয়ানক! এভাবেই থেমে থাকতে পারে না বাংলাদেশের মানুষ ৷ দেশের কোটি কোটি মানুষের ভেতরে লুকিয়ে থাকা মেধা, সামর্থ আর স্বপ্নকে জাগিয়ে তুলতে পারলে, সংগঠিত করতে পারলে, খুলে যাবে অনন্ত সম্ভাবনার আলোকিত দ্বার ৷ জেগে ওঠা এক একজন মানুষ পরিণত হবে অসীম শক্তিধর ও অনন্যসাধারণ মানুষে ৷ বদলে দেবে চারপাশ ৷ গোড়াপত্তন হবে অন্য একটি বাংলাদেশের ৷ একটি মর্যাদাবান, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের প্রবল স্বপ্ন আর আত্মবিশ্বাস নিয়ে ১৯৯১ সালে যাত্রা শুরু হয়েছিল দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশের ৷ এ পর্যন্ত সারাদেশে প্রায় ছয়শত উজ্জীবক প্রশিক্ষণ এবং অসংখ্য কর্মশালা, উঠোন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে ৷ মানুষকে উজ্জীবিত করার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আমরা ৷ আত্মজিজ্ঞাসার মাধ্যমে আত্মশক্তিকে উপলব্ধি করে সারাদেশের সংগঠিত মানুষ বর্তমানে প্রচলিত পরনির্ভরশীলতার কাঠামোর বিপরীতে আত্মনির্ভরতার ধারায় সামাজিক পুঁজি সৃষ্টি করে নিজের এবং অন্যের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করছে ৷ নিজেদের সামর্থ্যকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি রাষ্ট্রের নিকট থেকে তাদের প্রাপ্য অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে তা আদায়ের ক্ষেত্রে সচেষ্ট রয়েছে ৷ ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা উজ্জীবকগণ নিজেদের সীমিত সম্পদ কাজে লাগিয়ে একক এবং যৌথভাবে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের হাজারো দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ৷ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিতদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে স্থানীয় নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্থানীয় সম্পদ কাজে লাগিয়ে এলাকার উন্নয়নে অনুকরণীয় ভূমিকা রাখছে তারা ৷ তাদের এ সফলতা দেশের দ্বিধাগ্রস্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার আলো জ্বালবে, আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি ৷ উজ্জীবকদের এরকম হাজারো সফল দৃষ্টান্ত থেকে নির্বাচিত ৫৩টি সফলতার কাহিনী জাগরণের গল্পগাঁথা সংকলনে গ্রন্থিত হল ৷ এমনি আরো অসংখ্য প্রকাশযোগ্য সফলতা নানাবিধ সীমাবদ্ধতার কারণে এবারে গ্রন্থভুক্ত করা সম্ভব হল না ৷ পরবর্তীতে এ ধরনের সংকলন প্রকাশের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে ৷ ড. বদিউল আলম মজুমদার গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ |
বরেণ্য ব্যক্তিবর্গের শুভেচ্ছা বার্তা
|
এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের প্রত্যাশা নিয়ে ৷ ৭১ এ দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটি বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের যেখানে থাকবে আইনের শাসন, প্রতিটি মানুষের ন্যায্য অধিকার ৷ স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানেও জনগণের সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ছিল ৷ কিন্তু বাংলাদেশের আজকের বাস্তবতায় এসে অত্যন্ত দু:খের সাথে আমাদের স্বীকার করতে হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা-জনতার সেই প্রত্যাশার অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়নি ৷ বরং আজকের বাংলাদেশ একটি দরিদ্র , পরনির্ভরশীল এবং দূর্ণীতিপ্রবণ দেশ হিসেবে সারাবিশ্বের কাছে পরিচিতি পাচ্ছে ৷ দীর্ঘদিনের গতানুগতিক উন্নয়ন প্রচেষ্টা আমাদের এ বাস্তবতার কারণ ৷ এই অবস্থা অতিক্রম করা জরুরী ৷ এবং সেটা সম্ভব যদি জনগণ এই অবস্থা পরিবর্তনের দায়িত্ব নিজেরা গ্রহণ করে ৷ দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ জনগণকে সচেতন ও সংগঠিত করার মাধ্যমে উন্নয়নে এক ব্যতিক্রমী প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ৷ স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ এবং সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশের সচেতন নাগরিকদের সংগঠিত করতে সচেষ্ট রয়েছে ৷ ইতোমধ্যেই তৃণমূল পর্যায়ের অনেক উজ্জীবক দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ৷ একটি সংগঠিত সামাজিক শক্তির মাধ্যমে ক্ষুধামুক্ত, আত্মনির্ভরশীল, মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ তার অনবদ্য অবদান রাখতে সফল হবে এই প্রত্যাশা করি ৷ ড. কামাল হোসেন সভাপতি গণ ফোরাম |
|
সপ্তম উজ্জীবক পুনর্মিলনে আন্তরিক শুভেচ্ছা ৷ ত্রিশ থেকে চল্লিশ হাজার উজ্জীবক আসলেই দেশের এক অমূল্য সম্পদ ৷ জীবনটিকে পরিপূর্ণ করতে এবং উপভোগ করতে উদ্বুদ্ধ করার মহান দায়িত্ব পালন করে এক একজন উজ্জীবক ৷ পরিপূর্ণ জীবন যাপনের জন্য চাই শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং রোজগার ৷ জীবনটিকে উপভোগ করার জন্য চাই স্থান, কর্ম ও সহচর ৷ উন্নত জীবনের জন্য তাই প্রয়োজন আত্মশক্তির বিকাশ এবং শুদ্ধি ৷ একটি সমাবেশে অসংখ্য বন্ধু জোটে নানা মত নানা ভাবনার হদীস মেলে ৷ নানা কৌশল ও নানা রাস্তার সন্ধান মেলে ৷ উজ্জীবকের জন্য এই ধরনের সমাবেশ বড় প্রয়োজনীয় ৷ অন্যকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য নিজেকেও অনবরত উত্কর্ষ সাধনে লিপ্ত থাকতে হয় ৷ জ্ঞানাহরণ যেমন সারা জীবনের বিষয়, উত্কর্ষ অর্জনও তেমনি সারা জীবনের সাধনা ৷ জীবনে তাই গতির কোন বিকল্প নেই ৷ যতক্ষণ গতি আছে ততক্ষণই অস্তিত্ব ৷ এবারের সমাবেশ উপলক্ষে উজ্জীবকদের ব্যক্তিগত এবং যৌথ সফলতার কাহিনী নিয়ে প্রকাশিত হচ্ছে বিশেষ গ্রন্থ ৷ আমি নিশ্চিত এখানে অনেক মুক্তো কুড়োনোর সুযোগ মিলবে ৷ সকলের জন্য রইলো সামনে চলার ঐকান্তিক প্রার্থনা ৷ জীবন পরিপূর্ণ হোক ৷ জীবন শুভ হোক ৷ আবুল মাল আব্দুল মুহিত সাবেক অর্থমন্ত্রী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার |
|
ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট হাজার হাজার মানুষকে আত্মশক্তিতে বলীয়ান হতে উজ্জীবিত করে চলেছে অনেকদিন ধরে ৷ পরনির্ভরতা মানুষের সৃজনশীলতায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় ৷ নিজের পথ নিজে খুঁজে নেয়ার যে আনন্দ, যে স্বার্থকতা তার তুলনা হয় না ৷ আমরা দেখেছি পরনির্ভরতা আমাদের দেশের সার্বিক উন্নয়নে অনেক অপসংস্কৃতির জন্ম দিয়েছে৷ আমরা এও লক্ষ্য করেছি সরকারের উপর নির্ভরতা ব্যক্তিক বা স্থানীয় উদ্যোগকেও সীমাবদ্ধ করে দেয় ৷ অন্যদিকে এদেশে অনেক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হয়েছে যেখানে নিজের প্রচেষ্টায় মানুষ কৃষি, হস্তশিল্প, শিক্ষা প্রসারণ, জ্ঞান চর্চা, স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন, পারস্পরিক সহযোগিতার অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে ৷ এখানে ঋণ নয়-আত্মপ্রত্যয়, পরনির্ভর একত্রীকরণ নয়-সহমর্মীতায় আবদ্ধ উজ্জীবন, অন্যের তত্ত্বাবধায়ন নয়-নিজেদের আগ্রহে অগ্রগমন, এমন সব প্রক্রিয়ায় আত্মপ্রত্যয়ের মূল্যবোধ সৃষ্টি হয়েছে ৷ এগুলো এখনও ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা কিন্তু এর সম্ভাবনা বিরাট, বিশাল ৷ এদেশের মানুষ সত্ প্রচেষ্টায় নিজের ভাগ্য বদলে দিতে পারে এগুলো তারই উদাহরণ ৷ দি হাঙ্গার প্রজেক্ট তাদের উজ্জীবক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ প্রচেষ্টায় যে প্রয়াশ চালিয়ে যাচ্ছে তার অল্প কিছু সাফল্যের কাহিনী এখানে সংকলিত হয়েছে ৷ আমাদের বুঝতে হবে এমন সম্ভাবনা রয়েছে সব গ্রামে সব অঞ্চলে সব গৃহকোণে ৷ এমন সত্ ব্যক্তিক প্রচেষ্টাই সামষ্টিক পরিবর্তনের আত্মনির্ভর সম্ভাবনার দিগন্তকে প্রসারিত করে, মুক্তির সম্ভাবনাকে বাস্তবায়িত করে, টেকসই উন্নত জীবনকে সম্ভব করে তোলে, যার ফলে আগামী প্রজন্ম হয় সমৃদ্ধ ৷ দেশজ স্বনির্ভর এমন ক্ষেত্র আমাদের ভবিষ্যতকে সব রকমের পরনির্ভরতার মানসিকতা থেকে আমাদের মুক্ত করবে এ আশা আমি রাখি ৷ এ প্রচেষ্টা সফল হোক নিরন্তর ৷ অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ |
|
ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মানুষের আজন্মের সহচর ৷ বাংলাদেশের দারিদ্র্য কথাটি এখন যেন প্রবাদে পরিণত হয়েছে ৷ পরম আশার কথা এই যে, ক্ষুধার রাজ্যকে সুধার রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ দেশের সংকল্পবদ্ধ উজ্জীবক ভাই-বোনদের আত্মশক্তিকে বলীয়ান করে ক্ষুধা দারিদ্র্যের এই অন্ধকারকে জয় করার কাজে উদ্বুদ্ধ করছে ৷ আত্মশক্তি সবার মধ্যে রয়েছে ৷ কিন্তু সুপ্ত সেই মহাশক্তিকে জাগ্রত করার মন্ত্র দি হাঙ্গার প্রজেক্ট ছড়িয়ে দিয়েছে হাজার হাজার জনতার হৃদয় মন্দিরে ৷ তারা উদ্যমী, তারা দুর্বার, তারা সংহত ও সংযত৷ দেশ তথা বিশ্বকে ক্ষুধা দারিদ্র্যের অক্ষমতা, বঞ্চনা ও অপমান থেকে মুক্ত করার কাজে এই উজ্জীবকরা ব্রতী হয়েছেন ৷ ইতোমধ্যে এই সরু বৃক্ষে ফুল ফুটেছে ৷ ফুলে ফুলে ভরা উজ্জীবকদের সফলতার কাহিনী সবার মনে নবতরঙ্গের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে ৷ যদিও দারিদ্র্য মলিন অবক্ষয়ে দীন ধ্রুবতারার মতো প্রত্যয়ে ভাস্বর আমার স্বদেশ, সবুজ কালিতে লেখা ঈশ্বরের সংক্ষিপ্ত সাক্ষর বাংলাদেশ ৷ হালিমা খাতুন অধ্যাপিকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় |
|
দি হাঙ্গার প্রজেক্ট সংগঠনটির ইংরেজী নামের আক্ষরিক অর্থ আপনাকে আমাকে যাতে বিভ্রান্ত না করে, সেজন্যে তার ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন মনে করি ৷ অনন্ত আসমানের নিচে এই পৃথিবীর সুখ, দুঃখ, সমস্যা সমাধানের প্রয়াসের প্রতিকূল ও অনুকুল পরিবেশ, সার্বিকভাবে মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বলেই আমরা দেশ কাল পাত্র ভেদে কম বেশী বিবেকের ঐক্য খুঁজে পাই ৷ সে উন্নত বিশ্বেই হউক বা ক্ষুধা দারিদ্র্যে জর্জরিত উন্নয়নকামী বিশ্বেই হউক ৷ খুঁজে পাই মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক অংশীদারিত্ব, সহযোগিতা এবং ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত সুস্থ সমাজ গড়ার লক্ষ্যে দেশের এবং দেশের মানুষের কাছে জবাবদিহিতা বা দায়বদ্ধতা ৷ দি হাঙ্গার প্রজেক্ট এমনই এক আন্তর্জাতিক সংগঠন যার মূল দায়িত্ব মানুষকে আত্মশক্তি নির্ভর করে নিজ ভাগ্যের পরিবর্তন এবং ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়তে উজ্জীবিত করা ৷ এক কথায় নিজের শক্তিতে স্বাবলম্বী হবার সর্বাঙ্গীন চেষ্টা ৷ এ চেষ্টার সফলতা নির্ভর করবে তার প্রতিকুল পরিবেশকে জয় করার মনোবল আর আত্মসচেতনতার উপর ৷ বাস্তবে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট জনবহুল বাংলাদেশের জনপ্রিয় দেশজ সংগঠন যা একাত্তরের স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে নানা প্রচেষ্টায় নিয়োজিত ৷ এর পদ্ধতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া; হাত পেতে অনুদান বা সাহায্য দেয়া বা গ্রহণ করা নয় ৷ তবে তার পদ্ধতি কি হবে? এবং কি প্রক্রিয়ায়? সেই শিক্ষাই উজ্জীবক প্রশিক্ষণে দেয়া হয়, দি হাঙ্গার প্রজেক্টের মাধ্যমে ৷ আজ ৪৩ হাজারের অধিক উজ্জীবক - বালক, যুব, বয়স্ক উজ্জীবিত হয়ে নিজেকে দেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে চাচ্ছে-নিজের দেশজ স্বকীয়তা, সত্ত্বা, কৃষ্টি, সংস্কৃতি রক্ষা করে ৷ এই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আমার সম্পর্ক এবং সমপৃক্ততা বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে ৷ দি হাঙ্গার প্রজেক্ট আজ দেশব্যাপী পরিচিত একটি শুধু নামই নয়: এর প্রতিফলন হচ্ছে শহরে, গ্রামে-গঞ্জে হাজারো উজ্জীবক প্রশিক্ষণ এবং কর্মশালায় দীক্ষিত ব্যক্তির মধ্যে ৷ এই সেদিন মতিঝিল থেকে ফেরার পথে একটি যুবক আমাকে সম্মোধন করাতে আমি ফিরে তাকাই প্রশ্নবোধক দৃষ্টি নিয়ে তার পরিচয় জানতে৷ সে শুধু বলেছিল, "আমি আপনাকে চিনি, আমি একজন উজ্জীবক"৷ আবার একদিন পুরানা পল্টনে মসজিদের গলি দিয়ে আসছি ঠিক এমনি ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলো ৷ আমার সে দু'দিনের এক বিস্মিত মজার অনূভুতি ৷ মনে হয়েছে কবে এমন হবে যে, পথে নামলেই উজ্জীবক হিসেবে সম্বোধিত হব? আমি নিজেও একজন উজ্জীবক বলে নিজের এই বিশেষ পরিচয়ে নিজের মূল্যবোধ, নিজের আত্মশক্তিতে আবারো যেন উজ্জীবিত হলাম ৷ জীবনের প্রান্তে এসে নবীনের হাত ধরে দেশের বর্তমান প্রতিকূল পরিবেশকে পরাহত করার শুধু স্বপ্ন দেখছি না, সাধ্যমত শক্তিও অর্জন করছি এই হাঙ্গার প্রজেক্টের মাধ্যমেই ৷ প্রতিদিন আমার দেশের সঙ্গে আমার পরিচয় নিবিড় হচ্ছে আবিষ্কারের মাধ্যমে ৷ এই উদ্বুদ্ধ নবীন যুব সমপ্রদায় দেশ গড়ার হাতিয়ার এবং দেশ মায়ের ঋণ শুধতে অঙ্গীকারবদ্ধ ৷ কারণ সে এক উজ্জীবক এবং অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী ৷ লতিফা আকন্দ প্রফেসর (অব:) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় |
|
দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ এর 'সপ্তম উজ্জীবক পুনর্মিলন' এ আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি দি হাঙ্গার প্রজেক্টের সকল উদ্যোগী এবং পরিশ্রমী সদস্যদের ৷ হাঙ্গার প্রজেক্টের সদস্যবৃন্দ তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দেশের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত এ প্রজেক্টের সফলতা পৌঁছে দিয়েছে ৷ আমি দীর্ঘদিন যাবত্ দি হাঙ্গার প্রজেক্টের কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করছি ৷ আমাদের মত দরিদ্র দেশের বেকার ও নিঃস্ব নারী-পুরুষ, যুবা-বৃদ্ধ, বালক-বালিকাদের সুসংগঠিত করে উজ্জীবকদের নেতৃত্বে জীবনমানের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট যে সকল কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে তা খুবই প্রশংসনীয় ৷ গ্রামের অসহায় মানুষদের সুসংগঠিত করে, তাদের মাঝে কর্ম উদ্দীপনা জাগানো এবং আত্মনির্ভরশীল ও আত্মমর্যাদাবান করে গড়ে তুলতে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট যে অবদান রাখছে, দেশের মানুষ তা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করবে ৷ বাংলাদেশের হতদরিদ্র কিন্তু পরিশ্রমী মানুষদেরকে উজ্জীবিত, অনুপ্রাণিত ও সংগঠিত করার প্রচেষ্টারত স্বেচ্ছাব্রতী সংস্থা দি হাঙ্গার প্রজেক্ট তাদের কর্ম পরিধিকে আরও বিস্তৃত করে দেশের বেকার ও কর্মহীনদের আত্মপ্রত্যয়ী ও স্বনির্ভর করে গড়ে তোলার জন্য অনবরত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে বলে আমি আশা রাখি ৷ আমিও আপনাদের এ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কাজ করব ৷ মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হউন মুহাম্মদ ফারুক খান সংসদ সদস্য গোপালগঞ্জ - ১ |
|
স্বাধীনতার পর থেকে এ দেশের পিছিয়ে পড়া দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকারী এবং বেসরকারী পর্যায়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে ৷ এ সকল প্রচেষ্টা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল বয়ে এনেছে - এ কথা নিশ্চিত করে বলা যাবে না ৷ অতীতের অধিকাংশ উন্নয়ন প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়নে দেশের বিশাল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের সুযোগ ছিলো না ৷ আজকে তিন দশক পাড়ি দিয়ে অতীতের অভিজ্ঞতাগুলো থেকে যদি শিক্ষা নিতে চাই তাহলে একথা আমাদেরকে স্বীকার করতে হবে যে, জনঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করা না গেলে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয় ৷ আশার কথা হচ্ছে বর্তমানে বিষয়টি অনেকেই উপলব্ধি করছেন ৷ দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ তেমনি একটি ব্যতিক্রমী সংস্থা যারা তৃণমূলের মানুষকে সচেতন ও সংগঠিত করার মাধ্যমে স্থানীয় সম্পদ ও স্থানীয় নেতৃত্ব নির্ভর উন্নয়ন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ৷ সারাদেশের স্বেচ্ছাব্রতী উজ্জীবকদের অনুপ্রেরণামূলক সফলতার নির্বাচিত তথ্য নিয়ে একটি সংকলন প্রকাশিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত ৷ তাদের এই আন্তরিক প্রচেষ্টা সফল হোক এ শুভ কামনা করছি ৷ গোলাম মোহাম্মদ কাদের সংসদ সদস্য রংপুর - ৩ |
|
দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ উজ্জীবকদের সফলতা নিয়ে বই প্রকাশ করতে যাচ্ছে জেনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ৷ দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ গতানুগতিক এনজিও বা দাতা সংস্থার মতো প্রতিষ্ঠান নয় ৷ এটি একটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ৷ এ প্রতিষ্ঠান দেশকে ক্ষুধামুক্ত, আত্মনির্ভরশীল করার লক্ষ্যে গণজাগরণ সৃষ্টির যে প্রয়াস চালাচ্ছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় ৷ এ ক্ষেত্রে এ প্রতিষ্ঠান সফলতা অর্জন করে চলেছে ৷ আর এ কাজের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে একদল প্রশিক্ষিত উজ্জীবক যারা নিজেদের তাগিদে সামাজিক দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধভাবে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, যাতে তারা নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করতে পারে ৷ ২৩ ডিসেম্বর ২০০৪ তারিখে রাজারবাগ পুলিশ লাইন মাঠ, ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য "৭ম উজ্জীবক পুনর্মিলন" উপলক্ষ্যে প্রকাশিত বইটি উজ্জীবকদের মাঝে নতুন কর্ম উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে বলে আমি আশা করি ৷ দি হাঙ্গার প্রজেক্টের এ উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাচ্ছি ৷ শুভেচ্ছান্তে- জহির উদ্দিন স্বপন সংসদ সদস্য বরিশাল-১ |
|
আমি দি হাঙ্গার প্রজেক্টের একজন পরম অনুরাগী ৷ হাঙ্গার প্রজেক্ট, বিগত কয়েক বত্সরে তার কান্ট্রি ডিরেক্টর জনাব ড. বদিউল আলম মজুমদার এবং তাঁর সহকর্মীদের বিশেষ করে উজ্জীবকদের প্রচেষ্টায়, দেশের উন্নতি ও অগ্রগতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে ৷ দি হাঙ্গার প্রজেক্ট শিখিয়েছে কিভাবে আত্মশক্তিতে বলীয়ান হয়ে এবং নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে দারিদ্র্য কমিয়ে আনা যায় এবং উন্নতি করা যায় ৷ আমি ৭ম উজ্জীবক পুনর্মিলন অনুষ্ঠানের সাফল্য কামনা করি ৷ শাহ আবদুল হান্নান চেয়ারম্যান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড |
|
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের দায়িত্ব পালনকালে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ এর কার্যকলাপ সম্পর্কে আমি অবহিত হই ৷ কোন কোন বিষয়ে দি হাঙ্গার প্রজেক্টের সংগে আমার নিজস্ব মতামতের অমিল থাকলেও তাদের সার্বিক কার্যকলাপ এবং দেশের মানুষের জন্য তাদের ভালবাসার নিদর্শন পেয়ে আমি সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি ৷ তাই আজ প্রাক্তন সচিব হিসেবেও তাদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক আজও অটুট রয়েছে ৷ দি হাঙ্গার প্রজেক্টের বহুমুখী কাজের মধ্যে যেটা আমাকে বিশেষভাবে আকর্ষণ করেছে তা হলো দেশের সম্ভাবনাময় জনগোষ্ঠীকে উজ্জীবক হিসেবে জাগিয়ে তোলা ৷ প্রত্যন্ত এলাকা থেকে বিভিন্ন বয়সের, বিভিন্ন পেশার - এমনকি আপাততঃ বেকার পুরুষ ও মহিলাকে মাত্র ৩-৪ দিনের ওরিয়েন্টেশনের মাধ্যমে সকলের সুপ্ত প্রতিভা তুলে ধরে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট যেভাবে তাদের মধ্যে নেতৃত্ব ও স্বনির্ভরতা সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তা প্রশংসনীয় ৷ তবে একটি প্রশ্ন যেটি অনেকের সংগে আমিও হাঙ্গার প্রজেক্টকে করেছি তা হল - কোন অর্থনৈতিক বা অন্যান্য সহায়তা না পেলে উজ্জীবকরা কিভাবে নিজেদেরকে কাজে লাগাবে? সময়ের বিবর্তনে আমি অবশ্য এ প্রশ্নের জবাব কিছুটা হলেও পেয়েছি ৷ আমি দেখেছি উজ্জীবকরা অনেকেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে চলেছে - নিজস্ব বা যৌথ উদ্যোগে কিছু না কিছু শুরু করেছে ৷ এভাবে শুরু করাটাই যে সম্ভব - তা তারা আগে বুঝতে পারতেন না - এখন পারেন ৷ তাই হাঙ্গার প্রজেক্টকে জানাই ধন্যবাদ এবং সঙ্গে জানাই শুভকামনা ৷ এ. ওয়াই. বি. সিদ্দিকী স্থানীয় পরামর্শক স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ডি এফ আই ডি'র যৌথ প্রকল্প 'আপসু' |
|
দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ একটি ব্যতিক্রমী সংগঠন ৷ কারণ, আর দশটি সেবা সংস্থার মত এই সংগঠন খয়রাতি সাহায্য বিতরণ করে সাধারণ মানুষকে পরনির্ভর হতে উত্সাহী করছে না ৷ এর উজ্জীবক প্রশিক্ষণ কর্মসূচী সারাদেশে সাড়া জাগিয়েছে ৷ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত 'উজ্জীবক'গণ আত্মনির্ভরশীল হবার যেসব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা' অন্যদেরকেও অনুপ্রাণিত করছে ৷ ফেরদৌস আহমদ কোরেশী সম্পাদক দৈনিক দেশবাংলা |
|
জাতীয় উন্নয়নে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট যে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে তা আজ সর্বজন স্বীকৃত ৷ এক দশক আগে তাদের উদ্যোগে শুরু হয়েছিল ক্ষুধামুক্ত দেশ গড়ার সংগ্রাম ৷ ড. বদিউল আলম মজুমদারের নেতৃত্বে গ্রাম গ্রামান্তরে কর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছিল প্রশিক্ষণ, সৃষ্টি হয়েছিল দেশ গড়ার সৈনিক ৷ আজ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আত্মপ্রত্যয়ী উজ্জীবকদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজারের কাছাকাছি ৷ ক্ষুধামুক্ত দেশ গড়তে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই সুবিশাল বাহিনী বিশেষ অবদান রাখতে সক্ষম তাতে কোন সন্দেহ নেই ৷ আজ তাই শুধু ক্ষুধামুক্ত নয়, নিরক্ষরমুক্ত আত্মনির্ভরশীল স্বচ্ছল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে আমাদের সামনের দিকে এগুতে হবে ৷ দি হাঙ্গার প্রজেক্টের ৭ম উজ্জীবক পুনর্মিলনীতে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার শপথই হোক আজকের অঙ্গীকার ৷ বোরহান আহমদ নির্বাহী সম্পাদক দৈনিক জনকন্ঠ |
|
আমাদের জাতীয় পল্লী উন্নয়ন নীতির অন্যতম প্রতিপাদ্য ও মূল দর্শন হলো সমাজের সর্বস্তরের সকল শ্রেণীর প্রতিটি মানুষের মধ্যে বিপুল পরিমাণ সৃজন ক্ষমতা সুপ্ত রয়েছে ৷ সরকার, জনপ্রতিনিধি ও অগ্রণী সমাজকর্মী হিসেবে আমাদের অন্যতম দায়িত্ব হলো প্রাকৃতিকভাবে সক্ষম সকল মানুষের সুপ্ত ক্ষমতাকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ তৈরী করা, স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সাহায্য সহযোগিতা সহজলভ্য করা, তাঁদের চলার পথের বাধা-অন্তরায়সমূহ দূর করা এবং কাঠামোগত এক সহায়ক অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলা ৷ ভিক্ষা বা রিলিফমুখী অমর্যাদাকর মন মানসিকতার পরিবর্তে সম্মানজনক আত্মনির্ভরশীল স্বচেষ্টায় উন্নয়ন চিন্তার আলোকে মানুষকে উদ্বুদ্ধ ও সংগঠিত করার মহান ব্রত নিয়ে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট আমাদের জাতীয় পল্লী উন্নয়ন নীতির মূলদর্শন বাস্তবায়নের পথে এক শক্তিশালী নীরব অভিযাত্রী হিসেবে নিজকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে ৷ মানুষের আত্মশক্তি বিকাশে দি হাঙ্গার প্রজেক্টের প্রচেষ্টা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত ভবিষ্যত বিনির্মাণে সুদূরপ্রসারী হোক এই কামনা করি ৷ মো: সিকান্দার আলী মন্ডল মহা পরিচালক বিসিএস প্রশাসন একাডেমী শাহবাগ, ঢাকা৷ |
|
ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার কারিগর উজ্জীবকদের সাফল্যগাঁথা প্রকাশনার যে মহতী উদ্যোগ দি হাঙ্গার প্রজেক্ট নিয়েছে, ৫০০ তম উজ্জীবক প্রশিক্ষণ কোর্সের একজন গর্বিত অংশগ্রহণকারী হিসেবে সেজন্য আমি উদ্যোক্তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞ ৷ আমি মনে করি, এই সব কাহিনী সফল উজ্জীবকদের উত্সাহিত করবে তাদের কর্মকাণ্ডের আরো বিস্তৃতি ঘটাতে এবং অনুপ্রাণিত করবে অন্যান্য উজ্জীবকদের নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণে ৷ যার ফলে, ইনশাল্লাহ, অচিরেই বাংলাদেশ থেকে চিরতরে নির্বাসিত হবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য ৷ মোহাম্মদ মাসুম অধ্যাপক অর্থনীতি বিভাগ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় |
|
উজ্জীবক আন্দোলনঃ স্বাবলম্বী ও আত্মমর্যাদাশীল জাতি গঠনের নতুন সোপান ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের বিজয়ের মাস ৷ এ মাসেই ১৯৯৩ সালে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশের উদ্যোগ ও অনুপ্রেরণায় উজ্জীবক প্রশিক্ষণের সূচনা হয় ৷ সে থেকেই উজ্জীবক সৃষ্টির অব্যাহত ধারায় এ প্রশিক্ষণ সারা দেশের জনমানুষের মাঝে অভুতপূর্ব সাড়া জাগিয়েছে ৷ বিশেষতঃ স্থানীয়ভাবে উজ্জীবকদের উদ্যোগে স্বাবলম্বী সমিতি গঠন এবং নিজস্ব সঞ্চয় ও পুঁজি ব্যবহার করে বর্ধিত উপার্জনের সাথে সাথে সমাজ উন্নয়নে সার্বিক অবদান রাখার প্রচেষ্টায় উজ্জীবকগণ জাতীয়ভাবে অত্যন্ত বৈশিষ্ট্যপূর্ণ নতুন একটি ধারা সৃষ্টি করেছে ৷ স্ব-উদ্যোগ, আত্মনির্ভরশীলতা, স্বাবলম্বন, আত্মমর্যাদাবোধ ইত্যাদি উন্নয়ন সাহিত্যে এখন নির্বাসিত প্রত্যয় ৷ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো আজকাল স্বেচ্ছাসেবা করে না ৷ পরের অর্থে পরার্থপরতা এখন স্বেচ্ছাসেবীদের একটি স্বীকৃত নীতি ৷ বৈদেশিক সাহায্যের প্রত্যাশায় তারা দাতাদের দারে দারে ধর্না দেয় ৷ দারিদ্র্যের কিছু কুত্সিত ছবি ও প্রতিবেদন নিয়ে তারা দাতাদের মন গলানোর চেষ্টা করে৷ একজন পেশাদার ভিক্ষুক এবং তথাকথিত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও উন্নয়ন ফেরীওয়ালাদের মধ্যে পার্থক্য খুবই সামান্য৷ একজন রাজপথে দাঁড়িয়ে হাত পাতে আর অন্যজন পাজেরোতে চড়ে অথবা টেলিফোন, ফ্যাক্স, ই-মেইল ইত্যাদি ব্যবহার করে ভিক্ষা করে ৷ দারিদ্র্যের এই অমানবিক ও বিমানবিক ব্যবহার ও অপব্যবহার আমাদের সামজিক অবক্ষয়ের অন্য একটি রুঢ় চিত্র ৷ এদেশে দারিদ্র্য ব্যবসার দ্রুত প্রসার হচ্ছে ৷ এ ব্যবসার বহু রকমের নিত্য নতুন কৌশলও আবিস্কৃত হচ্ছে ৷ কিন্তু দরিদ্র মানুষের অসহায়ত্ব দিন দিন বাড়ছে ৷ আমরা গত পঞ্চাশ বছর আগে যে রকম দরিদ্র ছিলাম এখন আর সে রকম দরিদ্র নই ৷ আমাদের অবস্থা ও অবস্থান নিঃসন্দেহে উন্নত হয়েছে ৷ স্বাবলম্বী এবং আত্মমর্যাদাশীল হলে আমাদের অবস্থা ও অবস্থান আরো দ্রুত উন্নত হবে ৷ উজ্জীবক সৃষ্টির আন্দোলন আমাদের স্বাবলম্বন এবং আত্মমর্যাদার সাথে দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সহায়ক হবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস ৷ তোফায়েল আহমেদ অধ্যাপক লোক প্রশাসন বিভাগ চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় |
|
অন্যান্য দশটা-পাঁচটা এনজিও'র সঙ্গে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট এর তফাত্ হচ্ছে তারা জনগণকে উপর থেকে কিছু সরবরাহ করার নীতিতে বিশ্বাসী নয় ৷ তারা জনগণের চেতনায় আঘাত করে তাকে উজ্জীবিত করে নিজের চেষ্টায় নিজের মুক্তি অর্জনের কথা বলে থাকে ৷ নিঃসন্দেহে কাজটা মুখে বলা যত সহজ করা তত কঠিন ৷ তবে সবচেয়ে কঠিন হচ্ছে জনগণকে জাগ্রত করার পর নিজের আসনে জনগণকে আসীন করা ৷ বামপন্থীরাও কোথাও কোথাও জনগণকে জাগ্রত করেছিল, কিন্তু তারপর তারাই জনগণের পরিচালকে পরিণত হয়ে রাষ্ট্র বিলুপ্তির বদলে শক্ত রাষ্ট্র গড়ে তুলেছিলেন ৷ হাঙ্গার প্রজেক্টও কি জনগণকে জাগ্রত করার পর নিজের নেতৃত্ব প্রত্যাহার না করে আরো শক্ত একটি সংগঠনে পরিণত হবে! এইখানেই দি হাঙ্গার প্রজেক্টের নেতৃত্বকে ভাবতে হবে এবং বিষয়টা নিয়ে তারা আন্তরিকভাবে ভাববে এবং নিরন্তর আত্মসমালোচনা অব্যাহত রাখবে এটা আমার প্রত্যাশা ৷ এম. এম. আকাশ অধ্যাপক অর্থনীতি বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় |
|
উজ্জল বাংলাদেশের উজ্জীবক বাংলাদেশ একদিকে পৃথিবীকে নতুন ভাবনা, নতুন ধারণা উপহার দিয়েছে ৷ নিজে তীব্র প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে বেড়ে উঠেছে ৷ অন্যদিকে সুশাসন, সুব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের অভাবে তার মাথা বারবার ঝুঁকে পড়েছে ৷ তার মতো এত সহ্য, এত ধৈর্য্য, এত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও সে যেন স্থির হয়ে মাথা উচুঁ করে দাঁড়াতে পারছেনা ৷ গণতন্ত্রের জন্য স্বাধীনতা যুদ্ধ, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উদ্ভাবন-সবইতো বাঙ্গালীর অর্জন ৷ পৃথিবীর অন্যতম দরিদ্র দেশ-দারিদ্রমুক্ত হওয়ার সাধনায় ক্ষুদ্র ঋণের আবির্ভাব-এও এদেশের মানুষের চেতনারই ফল ৷ উপমহাদেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের নারীমুক্তি আন্দোলন একটি আলাদা মাত্রা যোগ করেছে ৷ এ ব্যাপারে বেসরকারী সংস্থাগুলোর অবদান অনস্বীকার্য ৷ তাই বলে এ প্রশংসা সকল সংস্থাগুলোর প্রাপ্য নয় ৷ ভুলে গেলে চলবে না বাংলাদেশের আর দশটা প্রতিষ্ঠানের মতো এখানেও অনিয়ম, অব্যবস্থা ও দুর্নীতি বিদ্যমান ৷ এখানেও বিদেশী শক্তির দোসর হয়ে আদর্শ ও দেশপ্রেমকে বিকিয়ে দিয়ে, বিকৃত ও পরনির্ভর 'উন্নয়ন' ঘটিয়ে দাসত্বের বেড়াজালকে আরো ঘনীভূত করা হচ্ছে ৷ এই কালো আকাশের বুকে যে অল্প ক'টি নক্ষত্র এখনো উজ্জ্বল-নিজরূপে, নিজ শক্তিতে বেরিয়ে আসার প্রেরণা জোগাচ্ছে, আহ্বান করছে-এর মধ্যে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ একটি চমত্কার উদাহরণ ৷ দি হাঙ্গার প্রজেক্ট আত্মশক্তিতে বিশ্বাসী ৷ বিশ্বাসী জনগণের শাসনে, সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্যে একমাত্র জনগণের উপর তাদের আস্থা ৷ তাই স্থানীয় সরকার কার্যকর করার জন্যে তার এতো উদ্বেগ ৷ সচেতন নাগরিক, যে দয়া দাক্ষিন্য নয় বরং আত্ম-মর্যাদা নিয়ে নিজকে গড়ে তুলবে, দেশকে গড়বে, এমন 'উজ্জীবক' হাজার হাজার গড়ে উঠছে সারা বাংলাদেশে এই সংস্থার একনিষ্ঠ চেষ্টায় ৷ বিভিন্ন গ্রামের উচ্ছল ছেলে-মেয়েরা 'উজ্জীবক' হয়ে উত্পাদনমুখী নানা কাজ করছে অন্যের মুখাপেক্ষি না হয়ে ৷ বিনা পারিশ্রমিকে স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের মর্যাদা বৃদ্ধি করছে ৷ দি হাঙ্গার প্রজেক্টের আরেকটি উদ্যোগ আমাকে খুবই অনুপ্রাণিত করেছে ৷ স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করা এবং স্থানীয় দ্বন্দ্ব নিরসনে তাদের উদ্যোগ খুবই ফলপ্রসু ৷ এই সংস্থার উদ্যোগে, আমরা গত ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণকালে, লক্ষ্য করলাম হিংস্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের একটি প্ল্যাটফর্মে এনে আলোচনায় বসানোর ফলে গ্রামের মানুষের সামনে প্রার্থীগণ বাধ্য হয় সংঘাত-সংঘর্ষ-সন্ত্রাস সৃষ্টি থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দিতে ৷ আশ্চর্য বিষয় এই যে, যে সমস্ত জায়গায়, যেমন হাতিয়া, উজিরপুর, ফরিদপুরের কিছু কিছু এলাকায় (যেখানে এই সভাগুলো হয়েছিল) নির্বাচনী সংর্ঘষ কম ছিল বলে সেখানকার মানুষ মতামত ব্যক্ত করেন ৷ দি হাঙ্গার প্রজেক্ট, বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে টাকা না দিয়েও মানুষকে 'উজ্জীবক' করা যায়-আত্নবিশ্বাসী করা য়ায় ৷ সামাজিক ন্যায়বিচারে বিশ্বাসী, মানুষের শক্তির বিকাশে বিশ্বাসী, এই সংস্থা বাংলাদেশে উন্নয়নকে মাটির কাছে-মানুষের কাছে নিয়ে এসেছে ৷ উজ্জল হোক তাদের কাজ ৷ আরো উজ্জল হোক এই দেশ ৷ শারমীন মুরশিদ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্রতী |
|
বয়স যখন ঊনষাট, আমার চির পরিচিত কর্মক্ষেত্র শিক্ষাঙ্গন থেকে অবসর নেয়ার পর বসেছিলাম ৷ ভাবছিলাম এখন কি করবো ৷ কারণ গত ছয় মাস কোমর ভেঙ্গে বিছানায় পড়েছিলাম ৷ নতুন কিছু করার সাধ থাকলেও সাধ্য ছিলো না ৷ এমন সময় যোগাযোগ ঘটল দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশের সাথে ৷ ৪ দিনের একটা প্রশিক্ষণ নিয়ে ফেললাম ৷ প্রশিক্ষণটি হলো উজ্জীবক প্রশিক্ষণ ৷ ব্যাচ ছিলো ২৭তম ৷ এরপর জানিনা কেমন করে কিভাবে কেটে গেলো বছরগুলো ৷ হলাম ক্যাটালিস্ট-স্বেচ্ছাসেবী প্রশিক্ষকও হলাম ৷ বসলাম রমনা মাঠে, ঘুরলাম গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে -পথে ঘাটে মাঠে ৷ পেলাম বন্ধু, ভাই, ছেলে মেয়ে, নাতি-নাতনী ৷ হলাম দাদা, নানা, বাবা, মামা, আঙ্কেল ৷ আমি একজন প্রত্যাশার ফেরীওয়ালা ৷ ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের একজন কর্মী ৷ দান-খয়রাত, দয়া, করুণার মাধ্যমে জীবনকে চলমান রাখা গেলেও তা যেমন জীবন থাকে না - উন্নয়ন দান খয়রাতের মাধ্যমে ঘটালে তা টেকসই হয় না ৷ নিজের ভাগ্য গড়তে হবে নিজের চেষ্টায় - আর তার জন্য বিশ্বাস করতেই হবে "আত্মশক্তিতে বলীয়ান ব্যক্তি কখনও দরিদ্র থাকতে পারে না" এ মূল মন্ত্রে ৷ আমি এখন ফেরী করে বেড়াচ্ছি সেই মন্ত্র যা আমাকে উজ্জীবিত করেছে - কর্মে প্রেরণা আর উত্সাহ যুগিয়েছে ৷ বাংলাদেশের ঘাটে-মাঠে-পথে আর প্রান্তরে ৷ প্রত্যাশা, এদেশের মানুষ তার অভ্যাসের পরিবর্তন করবে-কুঅভ্যাস ত্যাগ করবে ৷ এর জন্য আমরা শুরু করেছি একটা অভিযান-বাঁচাতে চাই নগর (বাঁচান) যা এলাকা ভিত্তিক কু-অভ্যাস ত্যাগের গণ আন্দোলন ৷ মানুষের সহজাত অভ্যাস নিজের উন্নয়ন ৷ সেটা আর্থিক, সামাজিক, বৈষয়িক অথবা পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক যাই হোক না কেন, তার পরিবর্তনে চেষ্টা করতে হবে ৷ আশে পাশের সবাইকে একত্রিত করে - এক সাথে সৌহার্দ্যের মাধ্যমে ৷ এটাই বাঁচান ৷ পাশাপাশি সুযোগ প্রত্যাশী নারীদের নিয়ে গড়ে তুলছি একটি প্রতিষ্ঠান যার নাম সুযোগ বঞ্চিত নারী শিক্ষালয় (সুবনাশি)৷ আল্লাহ আমাদের সহায় হউন ৷ আমিন ৷ প্রফেসর ড. মো: মেহের-ই-খোদা অব: অধ্যক্ষ ও অধ্যাপক প্রাণিবিদ্যা |
|
বেশ কয়েক বছর আগে যাচ্ছিলাম গোপালগঞ্জে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট পরিচালিত ৭ম উজ্জীবক প্রশিক্ষণে অংশ নেবার জন্য ৷ ঢাকা থেকে কান্ট্রি ডিরেক্টর জনাব বদিউল আলম মজুমদারসহ একটি দল যাচ্ছিলেন প্রশিক্ষণ দেবার জন্য ৷ আমার সৌভাগ্য হয়েছিলো ঢাকা থেকে হাঙ্গার প্রজেক্টের কর্মীদের সাথে একই সঙ্গে গোপালগঞ্জ যাবার ৷ একটি পুরো দিন লেগেছিলো পথে ৷ ঐ দিনটিকে আমি একটি বিশেষ দিন বলে মনে করি ৷ সারাটা দিন আমার সুযোগ হয়েছিলো কান্ট্রি ডিরেক্টর এবং অন্যান্যদের সাথে মানুষের উন্নয়নের ব্যাপারে সরাসরি আলোচনা করবার ৷ হাঙ্গার প্রজেক্ট বিভিন্ন দিক বিশেষ করে মানুষের মনোবল বাড়াবার জন্য এবং উজ্জীবিত করবার জন্য যা করে থাকে সে সম্পর্কে সেদিন আমার প্রাথমিক জ্ঞান লাভ হয়েছিলো ৷ আমার মনে আছে কান্ট্রি ডিরেক্টর বারবারই বলছিলেন আমাকে ÒYou are the leaderÓ ৷ কথাটা আমি বিশ্বাস করি ৷ পরপর চারদিন প্রশিক্ষণ হলো ৷ বুঝতে পারলাম মানুষের উন্নয়ন যদি কেউ করতে চান তাকে সবচাইতে প্রথম পরিবর্তন করতে হবে তার মনে ৷ তার নিজের বিশ্বাস করতে হবে, "আমি এই কাজটি করতে পারবো" ৷ যত বাধাই আসুক আমি সেগুলো পার হয়ে যেতে পারব ৷ দি হাঙ্গার প্রজেক্ট মানুষের মনে এই বিশ্বাস জাগিয়ে তুলছে ৷ মানুষের মনের দুর্বল, দোদুল্যমান স্থানটিতে নাড়া দিচ্ছে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট ৷ শক্তিশালী করে তুলছে তাদের বিশ্বাসের ভিতকে ৷ প্রশিক্ষণগুলোতে মানুষকে বিশ্বাস করানো হচ্ছে যে, মানুষ ইচ্ছা করলেই অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলতে পারে ৷ বিশ্বাস করতে সাহায্য করছে যে মানুষ ইচ্ছে করলেই উন্নত করতে পারে নিজের জীবনকে এবং অন্যের জীবনকে ৷ দি হাঙ্গার প্রজেক্ট মানুষের ভিতরের এই বিশ্বাসকে করছে উজ্জীবিত ৷ মানুষের কর্মক্ষমতাকে বাড়িয়ে তুলছে, আত্মবিশ্বাসকে উজ্জীবিত করছে ৷ এটি একটি অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ৷ সব বয়সের, সব মানুষের জন্য অত্যন্ত সম্ভবনাময় একটি প্লাটফর্ম ৷ এর শক্তি এবং সম্ভাবনা অপরিসীম ৷ মানুষের উন্নয়নের কাজে এবং দেশের উন্নয়নের কাজে একটি বিরাট অবদান রাখবার অবস্থানে রয়েছে এই প্লাটফর্মটি ৷ এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এবং দেশের মানুষকে বাঁচান ৷ ড. আসমা খাতুন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বাংলাদেশ পাট গবেষণা প্রতিষ্ঠান |
|
© 2005 The Hunger Project-Bangladesh. All rights reserved. |