|
প্রধান প্রতিবেদন |
|
উজ্জীবক বার্তা, সংখ্যা-১৫, মে-জুন-২০০৪ |
|
সুশাসনের জন্য নাগরিক-(সুজন), পৌরসভা নির্বাচন-২০০৪ |
দারিদ্র্য,
অন্নহীনতা, বেকারত্ব, দুর্নীতি, অধিকারহীনতা, সন্ত্রাস, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কপটতায়
দুর্বিষহ হয়ে ওঠা জনজীবনের হাজারো সমস্যা সমাধানের জন্য কিছু সামাজিক ও
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে
৷ নেতৃত্বহীনতার যে সংকট
তৈরী হয়েছে, তার মোকাবেলা শুরু করতে হবে তৃণমূল পর্যায় থেকেই
৷ এর চূড়ান্ত লক্ষ্য
হবে- একটি স্ব-শাসিত,
শক্তিশালী স্থানীয় সরকার কাঠামো গড়ে তোলা
৷ যাতে, দায়-দায়িত্ব,
সম্পদ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা
জনগণের দোর-গোড়ায় পৌছে দেয়া সম্ভব হয়
৷ এভাবে আমাদের জাতীয়
গণতন্ত্রের একটি শক্ত ভিত রচিত হতে পারে
৷ স্বশাসন ও সুশাসন
প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হতে পারে
৷ একটি শক্তিশালী
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা আমাদের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির জন্যও অপরিহার্য
৷ এতে স্থানীয় নেতৃত্বের
বিকাশ ঘটে, স্থানীয় সম্পদ কাজ লাগানো সম্ভব হয় এবং জনগণের সম্মিলিত ও সংগঠিত
অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়
৷
|
|
|
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুখোমুখি অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ |
আমাদের দেশে
বর্তমানে স্থানীয় সরকারের দু'টি চলমান স্তর রয়েছে- গ্রাম পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ এবং
শহর পর্যায়ে পৌরসভা
৷ এই দু'টি প্রতিষ্ঠানকে
কার্যকর ও শক্তিশালী করার অন্যতম পূর্বশর্ত হলো সত্, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত
ব্যক্তিদের এসকল প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হওয়া ও দায়িত্ব গ্রহণ
৷ আর সত্-যোগ্য
ব্যক্তিরা নির্বাচিত হতে পারেন তখনই, যদি নির্বাচন প্রক্রিয়া হয় সুষ্ঠু,
শান্তিপূর্ণ, অর্থ ও অস্ত্রের
প্রভাবমুক্ত
৷
এই উপলব্ধি থেকেই গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সর্বজনশ্রদ্ধেয় অধ্যাপক
মোজাফফর আহমেদের আহ্বানে দেশের একদল সম্মানিত, সচেতন, শুভবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি ও
কয়েকটি স্বেচ্ছাব্রতী প্রতিষ্ঠান নিয়ে গড়ে ওঠে একটি নাগরিক উদ্যোগ
৷ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন
যাতে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় সে লক্ষ্যে
এই ফোরাম ঐসময় কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করে এবং ইতিবাচক প্রভাব তৈরী করতে সমর্থ হয়
৷ গত ডিসেম্বর মাসে এই
নাগরিক উদ্যোগের নতুন নামকরণ করা হয়- 'সুশাসনের
জন্য নাগরিক-সুজন'
৷ সদ্য সমাপ্ত পৌরসভা
নির্বাচনকে সামনে রেখে সুজন বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট
উদ্যোগ নিয়েছিলো :
সংবাদ সম্মেলন ও নাগরিক সমাজের প্রতি আহ্বান
নির্বাচনের আগে জাতীয় প্রেসক্লাবে
আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলা
হয়, "আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে কালো টাকা, পেশীশক্তি ও ভয়-ভীতি মুক্ত করে যোগ্য
প্রার্থীকে জয়ী করার উপর জাতি হিসেবে আমাদের ভবিষ্যত বহুলাংশে নির্ভর করছে
৷ তাই নির্বাচনকালীন সকল
অপকর্ম রুখে দাঁড়াতে আমাদের জনগণকে সচেতন ও সংগঠিত করা প্রয়োজন, যাতে তারা তাদের
জীবন ও ভবিষ্যতকে নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ পায়
৷ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয়
উদ্যোগ গ্রহণ করার এখনই উপযুক্ত সময়"
৷
এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশের সদস্যদের
কাছে পৃথক পৃথক আহ্বান জানানো হয়
৷ প্রয়োজনীয় সম্পদ ও
জনবল দিয়ে আসন্ন নির্বাচনকে ভয়-ভীতিশূণ্য এবং কালো টাকার প্রভাবমুক্ত করা এবং
শাস্তিপ্রাপ্ত সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজদের প্রার্থী
হিসেবে অযোগ্য ঘোষণা
করার জন্য সরকারের প্রতি দাবী জানানো
হয়
৷ সুশীল সমাজের প্রতি
আহ্বান জানানো হয় তাঁরা যেন গণতন্ত্র ও প্রগতির জন্য আসন্ন নির্বাচনের গুরুত্ব
সম্পর্কে জনগণ ও প্রার্থীদেরকে
অবহিত করেন
৷ মাননীয় সংসদ সদস্য ও
মন্ত্রীগণের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানানো হয় তাঁরা যেন স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম
নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকেন এবং কোনো প্রার্থীর পক্ষে
নির্বাচনী প্রচারণা না
চালান, কিংবা বিধিবহির্ভূতভাবে
নির্দলীয় এ নির্বাচনকে প্রত্যক্ষ
বা পরোক্ষভাবে
প্রভাবিত না করেন
৷ গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের
প্রতি আহবান জানানো হয় তাঁরা যেন আসন্ন নির্বাচনে চটকদার খবরের পরিবর্তে
ব্যাপকভাবে ইস্যুভিত্তিক
কাভারেজ প্রদান করেন এবং বিভিন্ন মতামত নিরপেক্ষভাবে
জনগণের সামনে প্রতিবেদনের মাধ্যমে তুলে ধরেন, যাতে ভোটারদের
পক্ষে
সত্ ও যোগ্য প্রার্থী বেছে
নেয়া সহজ হয়
৷ সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি
আহবান রাখা হয় তারা যেন একে অপরের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ, ভয়-ভীতি প্রদর্শন
পরিহার করে, পারস্পরিক সহনশীলতা প্রদর্শনের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথ
সুগম করে
৷ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল
প্রার্থীর প্রতি আহবান জানানো হয় তাঁরা যেন সমাজের সকল স্তরের মানুষের সংগঠিত
প্রচেষ্টা এবং স্থানীয় সম্পদ কাজে লাগানোর মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া ও অধিকার বঞ্চিতদের
জন্য স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা,
সুষম পুষ্টি, আয় এবং সম-সুযোগ সৃষ্টির
ক্ষেত্রে
দ্রুত পরিবর্তন আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন
৷
সাধারণ
ভোটারদের প্রতি আহবান জানানো হয় তাঁরা যেন প্রার্থীদের ব্যক্তিগত অবস্থান, সততা
ও প্রতিশ্রুতি সমূহ যাচাই করে যোগ্য প্রার্থী
নির্বাচন করেন
৷ নারী ভোটারদের প্রতি
আহবান জানানো হয় তাঁরা যেন আসন্ন নির্বাচনে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নারীর
ক্ষমতায়নে
বিশ্বাসী এবং এ লক্ষ্যে
কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ প্রার্থীকে
নির্বাচিত করেন
৷ পুরুষ ভোটারদেরদের প্রতি
আহবান রাখা হয় তাঁরা যেন সমাজের
ক্ষমতাহীন, অধিকার
বঞ্চিত বিশেষত নারীদেরকে নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে
ক্ষমতায়িত
করেন, যাতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল নাগরিক একটি উন্নত ভবিষ্যত সৃষ্টিতে সমান
অবদান রাখতে পারেন
৷ সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার
জন্য সকল মহলের কাছে যার যার করণীয় পালন করার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সুজন তার
অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলে,"আমরা স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের
ক্ষমতা
ও সম্পদের সত্যিকার বিকেন্দ্রীকরণের দাবীতে এডভোকেসী করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করছি"
৷
সুজনের এই আহবানপত্রটির সাথে সংহতি জানিয়ে এতে
স্বাক্ষর
করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ মোজাফফর আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের
অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জনাব আহমেদ কামাল, 'দৈনিক
প্রথম আলো'র উপ-সম্পাদক আবুল মোমেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের
অধ্যাপক ড.মইনুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আমীরুল ইসলাম
চৌধুরী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর
ইকবাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম,
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মাসুম, চট্টগ্রাম
বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক-প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড.তোফায়েল আহমেদ, সাবেক মন্ত্রী পরিষদ
সচিব মুজিবুল হক, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রোকিয়া আফজাল রহমান,
বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি কাজী খলীকুজ্জামান আহমেদ, বিশিষ্ট সাংবাদিক আতাউস
সামাদ, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিচালক হামিদা হোসেন, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের
নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল, ব্রতী'র নির্বাহী পরিচালক শারমিন মুরশিদ এবং দি
হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশের কান্ট্রি
ডিরেক্টর ড.বদিউল আলম মজুমদার
৷
তথ্যভিত্তিক
ক্ষমতায়ন
|
|
|
টাঙ্গাইলের মুখোমুখি অনুষ্ঠানে প্রার্থীরা |
সুজন মূলত যে প্রক্রিয়াকে তার কার্যক্রম পরিচালনার কেন্দ্রে রেখেছে তা
হলো- প্রার্থী সম্পর্কে ভোটারদেরকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার
সাথে তথ্য সরবরাহ
৷ যাতে ভোটারগণ প্রার্থী
নির্বাচনের ক্ষেত্রে
কিছু বিষয় বিবেচনায় আনেন এবং প্রার্থী সম্পর্কে জেনে, শুনে, বুঝে, সম্পূর্ণ
স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন
৷
একটি সমীক্ষা
থেকে জানা যায়- ভোটাররা প্রার্থীদের সম্পর্কে সাধারণ তথ্যের (প্রার্থীর বয়স,
শিক্ষাগত
যোগ্যতা ইত্যাদি) পাশাপাশি আরও জানতে চায় প্রার্থীদের আয় কত; তাদের আয়ের উত্স কী;
তাদের সম্পদের পরিমাণ ও ধরণ; তারা ঋণখেলাপি কিনা; তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির,
সন্ত্রাস পালনের, দুর্নীতির, নারী নির্যাতনের, সম্পত্তি দখলের, মাদকাসক্তিসহ কোনো
অসামাজিক ও অন্যায় কাজে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ আছে কি না; এবং তারা কোনো মামলার আসামি
কিনা
৷ প্রার্থী আগে নির্বাচন করে
থাকলে কিংবা নির্বাচিত
হয়ে থাকলে, ভোটারগণ জানতে চায় আগে প্রার্থীরা কত টাকা নির্বাচনে ব্যয় করেছেন, কত
টাকা ট্যাক্স
আদায় করেছেন এবং এলাকার মানুষের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে কী কী
পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন
ইত্যাদি
৷ তারা আরও জানতে চায় বর্তমান
নির্বাচনে প্রার্থীরা কত টাকা খরচ করবেন; তাঁদের টাকার উত্স কী; তাঁরা নির্বাচনী
আচরণবিধি মেনে চলবেন কি না; পরাজিত হলে জনগণের রায় মেনে নেবেন কি না এবং বিজয়ীকে
এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে সহায়তা করবেন কি না ইত্যাদি
৷ ভোটারদের চাহিদা মত এ
সকল তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে
গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রাক্কালে একটি প্রশ্নপত্র তৈরি করে ৫৫টি ইউনিয়নে তা
সফলতার সাথে ব্যবহার করা হয়
৷
ইউনিয়ন পর্যায়ের এ অভিজ্ঞতা থেকে 'সুজনে'র উদ্যোগে সারাদেশের অনেকগুলো পৌরসভায় একই
লক্ষ্যে
কার্যক্রম পরিচালিত হয়
৷ এক্ষেত্রে
বিশেষভাবে লক্ষ্য
রাখা হয় যেন নির্দিষ্ট পৌরসভার নির্বাচনে প্রার্থী নন, এমন কয়েকজন সর্বজনশ্রদ্ধেয়,
নির্দলীয় ব্যক্তি এ কাজের দায়িত্ব গ্রহণ করেন
৷ দ্বিতীয়তঃ প্রার্থীদের
সাথে স্থানীয় একদল সম্মানিত ব্যক্তির কথা বলা এবং প্রকাশ্য তথ্য দিতে রাজি করানো
৷ তবে প্রার্থীদের তথ্য
সরবরাহের ব্যাপারে সম্পূর্ণ
স্বাধীনতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন- এ
ক্ষেত্রে কোনোরূপ
বাধ্যবাধকতা অনাকাঙ্খিত
৷ প্রার্থীরা ইচ্ছা করলে
আংশিক তথ্যও দিতে পারবেন
৷ তারা যে তথ্য দেবেন তা-ই
গ্রহণযোগ্য
৷ তৃতীয়ত, প্রাপ্ত তথ্যকে
বিন্যাসিত করার মাধ্যমে প্রার্থীদের "প্রোফাইল" তৈরি করে তা জনগণের মাঝে বিতরণ করা
৷ প্রার্থীদের প্রোফাইল
তৈরির ক্ষেত্রে
যথাযথ সতর্কতা ও সততা প্রদর্শন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
৷ তথ্যভিত্তিক ভোটার
ক্ষমতায়ন
প্রক্রিয়ার শেষ পদক্ষেপ
হলো, নির্বাচনে টাকা খরচের প্রয়োজনীয়তা দূর করার
লক্ষ্যে
প্রার্থী এবং ভোটারদের মুখোমুখি করা
৷ যেখানে জনগণ বিনা
দ্বিধায় প্রশ্ন করতে এবং প্রার্থীরা নি:সংকোচে উত্তর দিতে পারবেন
৷ বিশেষভাবে
লক্ষ্য
রাখতে হবে যে, এ সকল অনুষ্ঠান এবং প্রশ্নোত্তর পর্ব যেন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার
ভিত্তিতে পরিচালিত হয়
৷
জনগণের
মুখোমুখি
|
|
|
উপস্থিত জনতা |
তথ্যভিত্তিক
ভোটার ক্ষমতায়নের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপটি হলো প্রার্থীদেরকে জনগণের
মুখোমুখি দাঁড় করানো
৷ 'সুজন'এর উদ্যোগে পৌরসভা
নির্বাচন-২০০৪ কে সামনে রেখে মোট ১৯টি পৌরসভায় এই মুখোমুখি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা
হয়
৷ স্থানীয় বিশিষ্ট
ব্যক্তিবর্গের সম্পৃক্ততা, সর্বজনশ্রদ্ধেয় জাতীয় ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি, একই মঞ্চে
প্রার্থীদের সহাবস্থান এবং জনগণের বিপুল আগ্রহ ও অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন এসকল
মুখোমুখি অনুষ্ঠান সংশ্লিষ্ট এলাকার নির্বাচনে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম
হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা
৷
|
|
|
প্রার্থীদের প্রশ্ন করছেন একজন ভোটার |
এই মুখোমুখি অনুষ্ঠানসমূহে বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট, সর্বজনশ্রদ্ধেয় জাতীয় ও স্থানীয়
ব্যক্তিত্ব অংশ নেন যাদের মধ্যে আছেন অধ্যাপক ড.মোজাফফর আহমেদ, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও
গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, সাংবাদিক সালিম সামাদ, দৈনিক ইত্তেফাকের সহকারী সম্পাদক
জিয়াউল হক, 'দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ'এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ড.বদিউল আলম
মজুমদার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড.এ.এইচ.এম.জেহাদুল
করিম ও ভূ-গোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রফেসর ড.রকিব আহমেদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের
লোক-প্রশাসন বিভাগের প্রফেসর ড.তোফায়েল আহমেদ, ড.মেহের -ই-খোদা, শিক্ষা অধিদপ্তরের
সাবেক ডিজি ড.আয়েশা খাতুন, প্রাক্তন মন্ত্রী মোসলেম উদ্দিন হাবু মিয়া ও আওলাদ হোসেন
খান, বিটিভির সাবেক মুখ্য বার্তা সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সরকার-সহ অনেকে
৷ এছাড়া যুগান্তর,
সংবাদ, মানবজমিন, খবরপত্র, বাসস, সাপ্তাহিক ২০০০-এর প্রতিনিধিবৃন্দও বেশ কয়েকটি
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন
৷
প্রচারণা
:
পোস্টার ও জারি
|
|
'সুজন' অর্থ ও অস্ত্রের প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব বিবেচনার
ভিত্তিতে, সত্ ও যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করার আহ্বান সম্বলিত পোস্টার প্রকাশ
করে এবং বিভিন্ন পৌরসভার উল্লেখযোগ্য স্থানসমূহে তা প্রদর্শণের ব্যবস্থা করে
৷ এ ছাড়াও সত্
প্রার্থীকে ভোট দেবার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে গাওয়া জারি গানও পৌরসভাগুলোতে মাইক দিয়ে
বাজানো হয় যা
জনমনে ব্যাপক আলোড়ন তৈরী করে
৷
এই পুরো প্রক্রিয়ার অন্যতম লক্ষ্য
ছিলো ভোটারদেরকে সচেতন করা
৷ যাতে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগের
সময়ে প্রার্থীদের অতীত রেকর্ড, বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা বিবেচনায় নেয়
৷ প্রার্থী নির্বাচনের
ক্ষেত্রে প্রশ্নপত্রে সন্নিবেশিত
বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন - এ অনুভূতি ভোটারের মধ্যে সৃষ্টি হলেই প্রক্রিয়াটি
অনেকখানি সফল হয়েছে বলে ধারণা করা যেতে পারে
৷ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে
এসব কার্যক্রমের প্রভাব যাচাই করার
লক্ষ্যে
কয়েকটি পৌরসভায় (লালমনিরহাট, পাথরঘাটা, টাঙ্গাইল এবং নওয়াপাড়া) জরিপকার্য পরিচালনা
করা হয়
৷ সুজনের কার্যক্রম ভোটারদের
সিদ্ধান্তের উপর প্রভাব ফেলেছে কিনা, ভোট দেবার
ক্ষেত্রে
তারা কি কি বিষয়কে বিবেচনায় নিয়েছেন, সুজনের কার্যক্রম সম্পর্কে তাদের মূল্যায়ন কি
প্রভৃতি বিষয় জরিপের প্রশ্নমালার
অন্তভূর্ক্ত ছিল
৷ জরিপের ফলাফল থেকে
দেখা যায়, সুজনের কার্যক্রমের ফলে প্রায় ৩৫% ভোটার ভোট দেবার
ক্ষেত্রে তাদের পূর্বের
সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন
৷ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সুজনের
কর্মসূচীর প্রভাব পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ৫৫.৪% ভোটার
৷ প্রার্থী নির্বাচনের
ক্ষেত্রে
প্রার্থীর সমাজসেবার মানসিকতা বিবেচনায় নিয়ে ভোট দিয়েছেন প্রায় ২৮.৮% ভোটার, সততাকে
মূল বিবেচ্য বিষয় হিসেবে গ্রহণ করেছেন ২৪.৫% ভোটার, প্রার্থীর শিক্ষাগত
যোগ্যতা এবং দলীয় সমর্থন প্রাধান্য পেয়েছে যথাক্রমে ১৭.৪% ও ১৬% ভোটারের কাছে
৷ অধিকাংশ ভোটার (প্রায়
৫৫.২%) সুজনের সার্বিক কার্যক্রমকে ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ উদ্যোগ বলে বর্ণনা করেছেন
৷ ১৪.১% উত্তরদাতা ভোটার
সুজনের এ প্রক্রিয়াটিকে আরো জোরদার করার অনুরোধ জানিয়েছেন
৷ ১১.৯% উত্তরদাতা
বলেছেন যে, প্রক্রিয়াটি জনগণকে তথ্য সরবরাহ করে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের
ক্ষেত্রে
সহযোগিতা করেছে
৷
পৌরসভায় স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার
ক্ষেত্রে
প্রক্রিয়াটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম
বলে মন্তব্য করেছেন ৪.৮% ভোটার
৷ এ পর্যন্ত সারাদেশে
সীমিত সংখ্যক পৌরসভায় 'তথ্যভিত্তিক ভোটার
ক্ষমতায়ন'
কার্যক্রম পরিচালিত হলেও এর সুদূরপ্রসারী ফলাফল সম্পর্কে সুজন আশাবাদী
৷ তবে বিপথগামী জাতীয়
রাজনীতির কারণে কলুষিত নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে শুদ্ধ ও সুষ্ঠু করা একদিনের ব্যাপার
নয়, কিংবা একটি নির্বাচনের মাধ্যমে তা সম্ভবও নয়
৷ এ
লক্ষ্যে
প্রয়োজন সচেতন নাগরিকদের সামাজিক দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদী অব্যাহত
প্রচেষ্টা
৷ আজ এ
ক্ষুদ্র
প্রচেষ্টার সাথে যাঁরা যুক্ত হয়েছেন, তাঁদের সাথে যত বেশী সংখ্যক শুভবুদ্ধিসম্পন্ন
নাগরিক সম্পৃক্ত হবেন তত দ্রুত স্থানীয় নেতৃত্ব বিকাশের উদ্যোগটি পূর্ণতা পাবে
৷ এবং রচিত হবে সুশাসন ও
গণতন্ত্রের স্থায়ী ও মজবুত ভিত্তি
৷
|
তারিখ |
পৌরসভা | স্থান | সভাপিত | অংশগ্রহনকারী চেয়ারম্যান প্রার্থী |
| ২৪/০৫/০৪ | মানিকগঞ্জ | কালী বাড়ি প্রাঙ্গন | মফিজুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নেতা, গণ ফোরাম | উজ্জ্বল আহমেদ, নাসির উদ্দীন আহমেদ যাদু, রমজান আলী, বাবু সুদেব সাহা |
| ৩০/০৪/০৪ | রংপুর | কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার | মুকুল মোস্তাফা (সম্পাদক, সাপ্তাহিক অটল ও আহবায়ক, স্থাণীয় সুজন কমিটি) | আবুল কালাম আজাদ, আব্দুস সালাম, মহিউল আহমেদ মহি, এডভোকেট ফিরোজ কবির চৌধুরী, হায়াত মাহমুদ মানিক, ডা: রওশন আলী |
| ২৯/০৪/০৪ | নওয়াপাড়া | নওয়াপাড়া শংকরপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয় | রেজাউল করিম মিন্টু (আহবায়ক, স্থাণীয় সুজন কমিটি) | সরদার আলিয়ার রহমান, আখতারুজ্জামান তার, আবু নঈম, মোস্তফা ফারুক আহমেদ, আলহাজ্ব এনামুল হক বাবুল, মাওলানা রইছ উদ্দিন আনোয়ারী |
| ২৭/০৪/০৪ | লালমনিরহাট | জেলা পরিষদ মিলনায়তন | ক্যাপ্টেন (অব:) আজিজুল হক বীরপ্রতীক (আহবায়ক, স্থানীয় সুজন কমিটি) | আলহাজ্ব মকবুল হোসেন, জনাব মোশারফ, হোসেন রানা, এডভোকেট মাহাবুবুর রহমান, হাফিজ ফেরদৌস স্বপন |
| ২৫/০৪/০৪ | নান্দাইল | উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন | এডভোকেট হাবিবুর রহমান ফকির (সভাপতি নান্দাইল প্রেসক্লাব) | আব্দুস সাত্তার ভূঞা, মো: রফিকুদ্দিন ভুঞা |
| ২১/০৪/০৪ | তানোর | উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন | মাহমুদুল আলম মাসুদ (আহবায়ক, সুজন, তানোর উপজেলা কমিটি) | মো: আব্দুল কালাম আজাদ (প্রদীপ সরকার), মাওলানা মো: আমিনুল হক, এমরান মোল্লা, মোখলেসুর রহমান সরকার ফিরোজ |
| ৩০/০৪/০৪ | নড়াইল | নড়াইল চৌরাস্তা | মুন্সী হাফিজুর রহমান (সদস্য সচিব, সুজন) | খান মো: কবির হোসেন, জুলফিকার আলী জুলু, এডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস |
| ০১/০৫/০৪ | মহেশপুর, ঝিনাইদহ | পৌরসভা মিলনায়তন | মো: ওয়ালিউল ইসলাম, অআহবায়ক, সুজন | মোহাম্মদ আলী, শফিকুল অআজম খান, এস. এম শাহাজাহান মোহন |
| ০১/০৫/০৪ | ব্রাম্মনবাড়ীয়া | উপজেলা অফিস চত্ত্বর | প্রফেসর মোখলেছুর রহমান (সভাপতি, সুজন) | আল মামুন সরকার, হাফিজুর রহমান মোল্লা. সৈয়দ নুরুল আলম |
| ০১/০৫/০৪ | দাউদকান্দি, কুমিল্লা | উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গন | মুমিনুল হক (আহবায়ক, সুজন, দাউদকান্দি) | রুহুল আমিন সরকার, শাহ আলম চৌধুরী, খন্দকার শামসুল হক, নাসির উদ্দীন আহমেদ, কে এম আই খলিল, রশিদ মুন্সী, বাহারুজ্জামান ও একজন মহিলা প্রার্থী |
| ০১/০৫/০৪ | বড়ুরা, কুমিল্লা | উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গন | ৫ জন প্রার্থী | |
| ০২/০৫/০৪ | গাইবান্দ্ধা | শহীদ মিনার চত্ত্বর | মশিয়ার রহমান, সাংবাদিক | ওয়াহিদুজ্জামান তিতু, শামসুল আলম, ফরহাদ আব্দুল্লাহ হারুন বাবুল |
| ০২/০৫/০৪ | টাঙ্গাইল | শহীদ মিনার প্রাঙ্গন | খান মোহাম্মদ খালেদ (আহবায়ক, সুজন) | শওকত আলী তালুকদার, এমা: শামসুল হক, জামিলুর রহমান মিরন, মোজাম্মেল হক, আজাদ খানসুয়ে |
| ০২/০৫/০৪ | চাটখিল, নোয়াখালী | অধ্যাপক আব্দুল মতিন | নাসির উদ্দীন ভূঞা, দেওয়ান শামসুল, আরেফীন শামীম, মোস্তফা কামাল | |
| ০৩/০৫/০৪ | পাথরঘাটা, বরগুনা | পাথরঘাটা বাজার | সিকান্দার হায়াত (শিক ও সমাজসেবী) | আনোয়ার হোসেন আকন, মল্লিক মো: আইয়ুব, শাহাবুদ্দিন শাকু |
| ০৪/০৫/০৪ | ঝালকাঠি | প্রেসক্লাব চত্ত্বর | বিমল কুমার সাহা (সহ সভাপতি, প্রেসক্লাব) | সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন |
| ০৬/০৫/০৪ | পাংশা, রাজবাড়ী | শিল্পকলা একাডেমী | এস. এম কায়কোবাদ (আহবায়ক, সুজন) | কাজী আসকার দানিয়েল সিপার, ওয়াজেদ আলী মাস্টার |
| ০৫/০৫/০৪ | গৌরিপুর, ময়মনসিংহ | উপজেলা পরিষদ চত্ত্বর | আজিজুর রহমান (সভাপতি, সচেতন নাগরিক সমাজ) | আব্দুল আলী, আব্দুল খালেক মুন্সী, মাহাবুব আলম, শফিকুল ইসলাম হবি |
|
© 2005 The Hunger Project-Bangladesh. All rights reserved. |