টাঙ্গাইলের কালিহাতি
উপজেলার একটি গ্রাম গান্ধিনা৷ এ গ্রামের মেয়ে সুমী
ইসলাম ২৬-তম ব্যাচের উজ্জীবক৷ তাঁর প্রেরণায় গ্রামের
'সূর্যমুখী মহিলা সমিতি' ২০০৩ সাল থেকে সঞ্চয়মূলক তত্পরতা শুরু করে৷ সমিতির বর্তমান সঞ্চয়
দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার টাকা৷ এই টাকা দিয়ে সমিতির সদস্যরা
তাঁতের শাড়ির ব্যবসা শুরু করেছেন৷ সমিতির ভবিষ্যত
পরিকল্পনা- একটি শাড়ির শো-রুম করা এবং একটি দর্জি বিজ্ঞান স্কুল খোলা৷
ঘাটাইলের ৭৫-তম ব্যাচের
উজ্জীবক সাইফুর রহমান বাদল, ৩০-তম ব্যাচের সিরাজুল হক এবং ১৮১-তম ব্যাচের ফিরোজুর
রহমান ১,৯৫,০০০ টাকা বিনিয়োগ করে গড়ে তুলেছিলেন যৌথ খামার৷ এক বছরে লাভ এসেছে দেড়
লাখ টাকার উপরে৷
নাটোর জেলার গুরুদাসপুর
উপজেলার একটি ইউনিয়ন খুবজিপুর৷ এই ইউনিয়নের 'বিলচলন
বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ'-এর শিক্ষক
মোঃ সাজেদুর রহমান ৪৫১- তম ব্যাচের উজ্জীবক৷ এ বছরের শুরুতে ৫
শতাংশ জমিতে ৩০০ টাকা বিনিয়োগ করে সবজি চাষ শুরু করেন তিনি৷ প্রথম মৌসুমেই তাঁর
লাভ এসেছে ৫০০ টাকা৷
৩৮৫-তম ব্যাচের উজ্জীবক,
গাইবান্ধার জুমারবাড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা মোঃ ফিরনি আক্তার মুক্তা ২০০৩ এর অক্টোবরে
২০০০ টাকা বিনিয়োগ করে হাঁস পালন শুরু করেন৷ এ পর্যন্ত তাঁর মোট
লাভের পরিমান ১২,০০০ টাকা৷
জুমারবাড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা ছাইদুল ইসলাম ২০০৩ সালের মাঝামাঝি শুরু করেছিলেন গরু
মোটা-তাজাকরণ প্রকল্প৷ ১০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করে ৬
মাসে তাঁর লাভ এসেছে ৩০,০০০ টাকা৷
৪র্থ ব্যাচের উজ্জীবক
মনজিল হোসেন সরকার৷ গাইবান্ধার ঘাঘোয়া ইউনিয়নের
কোনারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা৷ গত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের
সহায়তায় মনজিল হোসেন-সহ আরও ১৫ জন মিলে ২ কিলোমিটার রাস্তায় ২,৭০০ চারা লাগিয়েছেন৷ মোট বিনিয়োগ ছিলো
২০,০০০ টাকা৷ ৭ বছর পর তাঁদের প্রত্যাশিত
লাভ ২ লক্ষ টাকা৷
ফরিদপুর রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সমাজ কল্যাণের ছাত্রী বিলকিস আক্তার৷ জুন ২০০৩ সালে
অনুষ্ঠিত ৩৯৬-তম ব্যাচে উজ্জীবক প্রশিক্ষণের
মাধ্যমে উজ্জীবিত হয়ে বাবা, মা ও শিক্ষক
আলতাফ হোসেনের সহযোগিতায় নিজের বসত বাড়ীতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গড়ে তোলেন হস্তশিল্প
বিষয়ক উদ্যোগ 'দৃষ্টি নন্দন'৷ প্রাথমিকভাবে ২,৫০০
টাকা বিনিয়োগ করেন তিনি৷ বিভিন্ন প্রকার শো-পিস,
মোমবাতি, কৃস্টাল সামগ্রীর ব্যবসায় যত দিন যাচ্ছে তত আয় বাড়ছে৷
প্রতি মাসে প্রায় ৫,০০০ টাকা আয় হয় তার৷ এ টাকা থেকেই তার
পড়াশুনার খরচ চলে৷ বাবা, মাকেও সহায়তা করে সে৷ ব্যবসার পাশাপাশি
পাড়ার কয়েকটি বাচ্চাকে সামাজিক দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে ফ্রি কোচিং করায় বিলকিস আক্তার৷ পরিকল্পনায় আছে এলাকার
নারীদের সম্পৃক্ত করে বড় আকারের একটি শো-রুম করার৷
চাঁদপুর সদর উপজেলার একটি ইউনিয়ন তেঁতুলতলা৷ এ ইউনিয়নের তরপুর
চন্ডী গ্রামের বাসিন্দা খালেদা আক্তার ৪২৮-তম ব্যাচের উজ্জীবক৷ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর
থেকে ব্লক-বাটিক-এম্ব্রয়ডারীর উপর ৭ দিনের প্রশিক্ষণ
নিয়ে ৫০০ টাকা বিনিয়োগ করে কাজ শুরু করলেন তিনি৷ এখন তাঁর মাসিক আয়
১,০০০ টাকা৷ কাজের পরিধি আরও বাড়িয়ে তিনি
মাসিক আয় ৫,০০০ টাকায় উন্নীত করতে চান৷
চাঁদপুরের সদর উপজেলার মিশন রোডে সালমা আক্তারের বাড়ি৷ তিনিও ৪২৮-তম ব্যাচের
উজ্জীবক৷ যুব উন্নয়ন থেকে প্রশিক্ষণ
নিয়ে তিনিও সমপ্রতি ব্লক-বাটিকের কাজ শুরু করেছেন৷