কন্যাজাতির জন্য ভাবনা

কন্যাশিশু দিবস সংখ্যা

উজ্জীবক বার্তা, বর্ষ-৩, সংখ্যা-১৭, সেপ্টেম্বর-২০০৪

ড. হালিমা খাতুন
অধ্যাপিকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
 

বিশ্বের দরিদ্রতম জাতি কন্যাজাতি ৷ দারিদ্রের সাথে জড়িত যত অন্ধকার, বঞ্চনা, নিপীড়ন, নির্যাতন, অপমান ও অপমৃত্যু এই কন্যাজাতির ভাগ্য ৷ এই সব রূঢ়, অবর্ণনীয় বিশেষণগুলো কখনো দৃশ্য, কখনো অদৃশ্য ৷ খাঁচা কখনো কাঁটার, কখনো লোহার, কখনোবা সোনার ৷ কন্ঠের রজ্জু, পায়ের শিকলও তাই ৷ বিধির বিধান বলে এই সব সবাই যেন স্বীকার করে নিয়েছে, আজ এই একবিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও বিশ্ব বিবেকের উজ্জ্বল রবির আলোকের মধ্যেও ৷ কিন্তু কেন? কেন? এবং কেন? বিশ্বের প্রাণ প্রবাহের উত্‍স এই কন্যাজাতির লিঙ্গ ভেদ ছাড়া আর তো কোন অপরাধ নেই সারা বিশ্বের যুগ সঞ্চিত হিংস্রতা, নিষ্ঠুরতা, অসম্মান, অবমাননা ও অবমূল্যায়নের শিকার হওয়ার!
 
আদিকালে মানুষ যখন গুহায় বাস করত বা যাযাবর জীবন যাপন করত, শিক্ষা, সভ্যতা, কৃষ্টি ইত্যাদি হীরকোজ্জ্বল ভারী ভারী শব্দের আবরণে নিজেদের জড়াতে শেখেনি, তখনতো কন্যাজাতির এ দুর্দশা ছিলো না! শিকার সন্ধানে, শিকার হননে, শত্রু দমনে, যুদ্ধবিগ্রহে, খাদ্য সংগ্রহে গোষ্ঠীর নারী-পুরুষ সবাই একই সাথে যূথবদ্ধ হয়ে কাজ করে যেতো ৷ জীবন ধারণের কোন পর্যায়ে বা কাজে নারী-পুরুষের মধ্যে সমতার অভাব ছিল না ৷ কালের বিবর্তনে দেখা গেছে জীবনের প্রয়োজনে সভ্যতার অনেক মৌলিক অনুষঙ্গ বা উপাদান উদ্ভাবন করেছে কন্যাজাতি ৷ বনের পশু যেমন কুকুর, গরু, মহিষ ইত্যাদিকে পোষ মানিয়ে কাজে লাগাবার বুদ্ধি আবিষ্কার করে নারী জাতিই সেই আধাঁর ঘেরা সময়ে প্রত্যুষের আলো এনেছিলো ৷ ঐতিহাসিকরাই এর সাক্ষ্য দেন ৷ তাছাড়া শস্য চাষের প্রবর্তন, শস্য ও অন্যান্য সামগ্রী সংরক্ষণ ও বহন করার আধার বা পাত্র, যেমন ডালা, ঝুড়ি, মাছ ধরার জন্য বাঁশ ও বেতের সামগ্রী ইত্যাদি তৈরীর ব্যাপারেও নারীদের অবদান প্রণিধানযোগ্য ৷ রন্ধন প্রক্রিয়া বা কাঁচা মাংস, ফল ইত্যাদি সিদ্ধ করে খাদ্য তৈরীতেও নাকি নারীর দূরদৃষ্টির পরিচয় পাওয়া যায় ৷ সেই আদিম ভয়াল যুগে প্রকৃতির রুদ্র রোষ থেকে দেহকে বাঁচাবার জন্য বয়ন শিল্পের আদি পথিকৃত্‍ নাকি নারী জাতি ৷ আদিম যুগের নারীকে কল্পনা করে নজরুল ইসলাম দীর্ঘশ্বাস ফেলেছেন-
'সে যুগ হয়েছে বাসি
যে যুগে নর ছিলো নাকো দাস
নারী ছিলো নাকো দাসী
৷'
শিক্ষা সভ্যতা বর্জিত আদম মানবকুল যদি নারীকে সমান মর্দা দিতে পারে, তাহলে আজ কেন কন্যাজাতির জন্য এই অমানবিক আচরণ ও অসমতার কারাগার রচনা করা?
 
কালের বিবর্তনে নারীকে শিকল পরানো হয়েছে হয়তো তার superiority-র জন্যে ৷ সে সন্তান ধারণক্ষম, সে মাতা, বিশাল শক্তির সে নিয়ন্তা ৷ তাই হয়ত শক্তিধর যূথপতিরা তাকে করেছিলে রজ্জুবদ্ধ ৷ ক্রমে ক্রমে দিন যত গড়িয়েছে, মানুষের সমাজে তথাকথিত সভ্যতার আলো ঝলমল করে উঠেছে তখন থেকেই বাঁধা, বিপত্তি, নিষেধ, অনুশাসন শস্যের চারার মতো গজিয়ে উঠেছে ৷ আর তা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে কন্যাশিশুর স্কন্ধে ৷ তার মনের মধ্যে অনুপ্রবেশ করিয়ে দেয়া হয়েছে যে সে হীন, সে নীচ, সে অধম এবং সেই সমস্ত অনাসৃষ্টির মূলে ৷ তাই সে হয়েছে 'পথি বিবর্জিতা', হরণের এবং ভোগের ও দুর্ভোগের পাত্রী ৷ সেই জন্যই তৈরী হয়েছে চন্দ্র সূর্যের প্রবেশবিহীন কারাগৃহ তাদের জন্য ৷ এর সঙ্গে আবার যুক্ত হয়েছে আভিজাত্যের বড়াই ৷ বিত্তের উচ্চতার সাথে সাথে নারীর ঘরের দেয়ালের উচ্চতাও বেড়ে গেছে ৷ পাল্কীতে করে গঙ্গা স্নানের সুযোগ দেয়া হয়েছে 'সুখি' হতভাগীনিদের ৷ সব ধর্মেই অনুশাসনের ফর্মান সাজানো রয়েছে নারীর জন্য ৷ গ্রীন কার্ড ছাপানো রয়েছে হাবিয়া দোজখের ৷ জীবন বিপন্নকারী অসুখ হলেও নারীকে ডাক্তারের সামনে উপস্থিত করা যাবে না ৷ তবে বিশেষ ক্ষেত্রে মশারীর মধ্যে তাকে রেখে বাহিরে ডাক্তারের স্টেথিস্কোপ তাকে পরীক্ষা করতে পারবে ৷ সালমান রুশদী তার মায়ের চিকিত্‍সার বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে, তাঁর 'মিড নাইট চিল্ড্রেন' বইতে
 
নারী জাতির পরাধীনতার ইতিহাস বিশ্বের ইতিহাসের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত ৷ সেই ইতিহাস পুরুষের পৌরুষের, বীরত্বের, দম্ভের, বিজয় ও পরাজয়ের চিত্রশালা ৷ নারীকেও সেখানে দেখা গেছে, একেবারে কবিতার মতো চকিত চমকে ৷ কিন্তু ওই পর্যন্তই ৷ কখনো হঠাত্‍ দেখা গেছে তার বীরত্ব, স্বদেশ প্রেম বা মানব প্রেমের জন্য অস্বাভাবিক মূল্য পরিশোধের ইতিহাস ৷ পরাধীনতার গ্লানি থেকে স্বদেশকে মুক্ত করার জন্য ঐশ্বরিক প্রেরণাপ্রাপ্ত কিশোরী 'জোয়ান অব আর্ক' অসম্ভব বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে স্বদেশকে মুক্ত করার পরে, দেশের শাসক ও যাজকরাই তাকে 'ডাইনী' অপবাদ দিয়ে শত্রুর হাতে সমর্পণ করে ৷ তারা পরম উত্‍সাহে, ধর্মীয় উদ্দীপনার সাথে কিশোরী জোয়ানকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারে ৷ এ ইতিহাস তো ভুলবার নয় ৷ একই রকম মূঢ়তা, রূঢ়তা, ববরতা, অমানবিকতা এখনো কি আমাদের অপমানিত, লাঞ্ছিত, পীড়িত ও দগ্ধ করছে না? সেই যাজকরাই অন্য লেবাসে এখানে দুর্দান্ত দাপটে ফতোয়া দিয়ে যাচ্ছে আর নিধন করছে নারীকে, মানবিকতাকে
 
আগেই বলেছি, কন্যাজাতির প্রতি অমানবিক ব্যবহারের ইতিহাস মানুষের ইতিহাসের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত ৷ এ ক্ষুদ্র প্রবন্ধে সেই বিশ্ব পরিক্রমা সম্ভব হবে না ৷ অন্যায় অত্যাচার যার নিত্যদিনের সঙ্গী সেই কন্যাজাতির দারিদ্র যে শুধু আর্থিক, তা নয় ৷ তার সমস্ত অস্তিত্বের সাথে এই দারিদ্র জড়িত ৷ তার আত্মাকেও কিনে নিয়েছে সামাজিক ও ধর্মীয় অনুশাসন ৷ নারী তাই নিজেও হাতে তুলে নিয়েছে নারী নির্যাতনের, নারী নিধনের অস্ত্র ৷ এ সংসারে জটিলা-কুটিলা-মন্থরার তাই কোন অভাব নেই, অভাব নেই বধূ নির্যাতক শ্বাশুড়ির, সন্তানহন্তা সত্‍ মায়ের ৷ এ বিষের পেয়ালা থেকে উগ্র বিষ উপচে পড়ে আমাদের সমাজকে দ্রুত বিলুপ্তির পথে টেনে নিয়ে যাচ্ছে ৷ এমনকি সুশিক্ষিতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী মহিলারাও বধূ নির্যাতনের খাতায় শীর্ষস্থান দখল করে আছেন ৷ মাইকেল মধুসূদন তাঁর 'তিলোত্তমা সম্ভব' কাব্যে এক অরণ্যের বর্ণনায় অজস্র বৃক্ষের নাম উচ্চারণ করে শেষকালে বলেছেন-'আর কতো কতো?' আমিও তাই কন্যা ঘাতক মানব মানবীর কথা আর বেশী বলতে চাই না
 
নারীর ক্ষমতায়নের কথা আজকাল জোরেসোরে প্রচার করা হচ্ছে ৷ তাদের হাতে যাতে দু'পয়সা আসে, তার ব্যবস্থা করার জন্য সরকার ও এনজিওরা প্রচন্ড রকম তত্‍পরতা দেখাচ্ছেন ৷ পোষাক শিল্পে কাজ করে মেয়েরা আজকাল কিছু টাকা পয়সা অর্জন করছে ৷ লেখা পড়া শিখে বহু মেয়ে স্বাধীন ভাবে রুজি রোজগার করছে ৷ কিন্তু এসবের মধ্যে প্রকৃত ক্ষমতায়ন যে কতটুকু হচ্ছে তা গবেষণাসাপেক্ষ ৷ টাকাই শুধু ক্ষমতার উত্‍স নয় ৷ আরো আরো অনেক কিছু যে দরকার, তার হিসাব মিলাতে সমাজ বিজ্ঞানী ও সমাজ বিপ্লবীদের উঠে পড়ে লাগতে হবে ৷ সমাজ ব্যবস্থার কি বদলাতে হবে, তাও চিন্তা করা দরকার ৷ এই জীর্ণ সমাজ ও রাজনীতি একেবারে পচা খড়ে ছাওয়া ৷ এ সমাজ গৃহে বোধ হয় আশু অগ্নি সংযোগ দরকার ৷ তাহলেই সত্যিকার নারী মুক্তি সম্ভব হতে পারে

প্রায়ই শোনা যায়, সবুজ কার্ডধারী অনেক বঙ্গবাসী এ দেশ থেকে সুশ
ক্ষিতা কন্যা বিয়ে করে নিয়ে গিয়ে বিদেশে চাকুরী করিয়ে, প্রতিমাসে বেতনের টাকা কেড়ে নেয় শুধু তাই নয়, তার উপর নির্যাতনও চালায় ৷ কখনও কখনও অসত্‍ পথে অধিক উপার্জনের জন্য কাজ করায়, কখনও তাকে বিক্রিও করে দেয়া হয় ৷ এই সব ঘটনা ঘটছে সারা বিশ্ব জুড়ে ৷ হাড়, মাংস, লিভার, কিডনীর বাজারও চলছে নারী দেহের উপর ভর করে ৷ এই বীভত্‍স প্রক্রিয়া কবে শেষ হবে কে জানে?

আমি এক মেয়েকে জানি, যে জাপান সরকারের বৃত্তি পেয়ে ডাক্তার স্বামীকে নিয়ে পিএইচডি করতে টোকিও গিয়েছিলো
৷ স্বামীর পুরো খরচটা তার দিতে হতো ৷ কিন্তু কি আশ্চর্য! অল্প দিনের মধ্যে স্বামী ফণা তুলে নানা ছুতায় আক্রমণ করতে শুরু করল ৷ তারপর যে দিন ছোরা নিয়ে খুন করতে গেলো, মেয়েটি এক বস্ত্রে ঘর থেকে পালিয়ে জাপান সরকারের কাষ্টডিতে গিয়ে আশ্রয় নিল ৷ এরকম ঘটনা ভুরি ভুরি ঘটছে বিশ্বের মানচিত্রে ৷ তবে আমাদের দেশের মেয়েরা বেশ অসহায় ৷ আভিজাত্যের চাবুকে অনেক শিক্ষিত মেয়ে ঘরে বসে নির্যাতিত হচ্ছে ৷ আর গাঁয়ের রং ময়লা হলে তো কথাই নেই ৷ বয়স বাড়লেও চোখের পানির সাগরে ক্ষতির দিকে তাকে এগিয়ে যেতে হচ্ছে ৷
 
সরকারি ও দেশী-বিদেশী স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর চেষ্টায় ও অবদানে শহর, শহরতলী, গ্রাম, গঞ্জে কন্যাজাতি নানাবিধ নারী প্রশিক্ষণ ও কর্মকান্ডের ভিতর দিয়ে আর্থিক স্বনির্ভরতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ৷ সেই সব স্বেচ্ছাসেবীদের প্রচার পুস্তিকা ও সংবাদপত্রে স্বনির্ভর কন্যাদের বিচিত্র হাস্যোজ্জ্বোল ছবি ও বর্ণনা আমাদের মুগ্ধ করে ৷ তবে সত্যিকার স্বনির্ভরতা বা ক্ষমতায়ন তাদের হচ্ছে কিনা তা জানাতে আমার কৌতুহল হয় ৷ জনগণনার সাথে এ রকম একটা আইটেম জুড়ে দিলে হয়ত কিছু সংবাদ দেশবাসী পেতে পারবে ৷ তবে আর্থিক, আত্মিক ক্ষমতা যতই বাুক না কেন শরীর তথা প্রাণ বাঁচানো তো কন্যাশিশুদের পক্ষে কঠিন হয়ে উঠেছে ৷ চর্যার কবি বলেছেন- 'আপনা মাসে হরিণা বৈরী' ৷ নিজের মাংসের জন্যেই হরিণ তার নিজের শত্রু ৷ মাংসের জন্যই মানুষ তাদের নিধন করে ৷ দেখা যাচ্ছে, দুই বছরের শিশু কন্যা থেকে পঞ্চাশ ষাট বছরের বৃদ্ধ নারীরাও মাংস লোলুপ, নরখাদক ধর্ষকদের হাত থেকে মুক্তি পায় না ৷ দিন যত বাড়ছে এ সমস্যা কেবল এ দেশে কেন, সারা পৃথিবী জুড়ে অপ্রতিহত গতিতে বেড়েই চলছে ৷ যুদ্ধ আর সন্ত্রাসের রমরমা যখন প্রত্যেক দেশের ঋতুবৈচিত্র্য, সেখানে এই মহামারী ভয়াল আকার ধারণ করেছে৷ আফ্রিকা, আমেরিকা, সুদান ও ইরাকে প্রতি মিনিটে যে পরিমাণ নারী ধর্ষিত ও খুন হচ্ছে তা শুনলে মনে হয় - "ধরণী দ্বিধা হও! নারী জাতিকে একেবারে গ্রাস কর ৷ পৃথিবীতে আর নারীর দরকার নেই ক্লোন বা কলম করেই মানুষ বানাক বা রোবট দিয়েই চালাক ৷"
 
নর কিন্তু কোনক্রমেই নারী জাতির শত্রু  নয় ৷ এ বিশ্বকে মনুষ্য জাতির বাসযোগ্য করার জন্য, নারীর মহিমা প্রতিষ্ঠা করার জন্য, মাতৃপূজার কর্ণধার পুরুষই ৷ এই বৈরী সমাজকে নারীর জন্য সহনশীল করতে উন্নয়নের সমস্ত প্রক্রিয়া তার হাতে তুলে দিতে পুরুষের অবদান হিমালয়ের চেয়েও উঁচু ৷ কিন্তু আজ কেন তার এই দুর্গতি? দুঃসহ অত্যাচার? নারীত্রাতা সব্যসাচীরা আজ কোথায়? তাঁদের সংখ্যা বাড়াতে হবে ৷ তাঁদের হাত শক্তিশালী করতে হবে ৷ দস্যু হননে তাঁদের আরো তত্‍পর হতে হবে ৷ শিক্ষা, সভ্যতা ও ধর্মের বাণীকে জাগ্রত সত্যে প্রতিটি মানুষের অন্তরে প্রোথিত করতে হবে ৷ দু'-চারটি ফাঁসি দিলে সমস্যার সমাধান হবে না ৷ মানবতা বিরোধী সব তত্‍পরতা বন্ধের জন্য বিশ্ববাসী, দেশবাসী, সমাজবাসী, সারা গ্রহবাসী সবার সার্বক্ষণিক ও সম্মিলিত চেষ্টা বেগবান করতে হবে ৷ তাহলে হয়ত সুদিনের মুখ দেখা যাবে

বিশ্বব্যাপী শি
ক্ষার এত প্রসার হয়েছে! শিক্ষার উপকরণ হয়েছে অজস্র, মিসাইলের মতো কর্মম ও অভিষ্টমুখী ৷ শিক্ষার জন্য খরচ হচ্ছে অজস্র অর্থ সম্পদ ৷ অগণিত মানুষ এই বিশাল কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ৷ কিন্তু প্রকৃত মানব কল্যাণ তথা নারী কল্যাণ ও কন্যাজাতিকে বাঁচাবার জন্য পৃথিবী কতদূর অগ্রসর হয়েছে? এ বিষয়ে তদন্ত করার দিন ফুরিয়ে আসছে দ্রুতগতিতে ৷ বিশ্ব মহা আশঙ্কা জপ করছে ৷ "আমাকে তুমি রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা"! আর নয়! প্রতিটি কন্যাকে এখন মনে প্রাণে সর্বপ্রকার শক্তি - সাহসে বলীয়ান হবার শিক্ষা দিতে হবে ৷ আত্মরক্ষার ও আত্মনির্ভরতার যত রকম উপায়-উপকরণ, কৌশল ও নিয়মের সাথে তাকে পরিচিত, শিক্ষিত ও দীক্ষিত করে তুলতে হবে ৷ আত্মরক্ষার দুর্বার বাসনা ও অমোঘ শিক্ষা তাকে এক নতুন অস্তিত্ব দান করবে ৷ সে তখন নিজেকে তো রক্ষা করতে পারবেই, রক্ষা করতে পারবে তার মা, বোন ও সন্তানদের এবং সমাজের সব অত্যাচারিতাকে ৷ জুডো কারাতে এখন আর বিলাসিতা নয় ৷ আত্মরক্ষার জন্য দেশের সব মেয়েকে এ বিদ্যায় পারদর্শী করে তুলতে হবে
 
"নারী আমি মহিয়সী
আমার সুরে সুর বেঁধেছে জ্যোত্‍স্না
বীণায় নিদ্রা বিহীন শশী"

এই কোমলতা আর নয়
৷ "নারী আমি... আমার হাতের আয়ুধ করবে সকল অত্যাচারীর মন্ডচ্ছেদ"-এটাই হওয়া উচিত আজ নারীর আত্মরক্ষার শ্লোগান, মেশিন গান
নারী নির্যাতন আর প্রবঞ্চনার পরিধি এত বি
স্তৃত যে হাজার দিন ও হাজার রজনী বর্ণনা করলেও তা শেষ হবে না ৷ এই তালিকার শীর্ষে অঙ্কিত যে নাম, সেই আদি মাতা বিবি হাওয়ার দোহাই দিয়ে বিশ্ববাসীর কাছে ফরিয়াদ করছি - এই অত্যাচার অবমাননা বন্ধের স্থায়ী এবং সুদূর প্রসারী কার্যক্রম গ্রহণ করার সময় এখনই

Previous Article<Index>Next Article


Home  / Feedback

© 2005 The Hunger Project-Bangladesh. All rights reserved.