|
কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের সাথে যুক্ত বিভিন্ন সংগঠনের অভিব্যক্তি |
|
| কন্যাশিশু দিবস সংখ্যা |
উজ্জীবক বার্তা, বর্ষ-৩, সংখ্যা-১৭, সেপ্টেম্বর-২০০৪ |
|
অনেকগুলো সংগঠন গত চার বছর ধরে অত্যন্ত নিবেদিতভাবে
কন্যাশিশুদের স্বার্থ
রক্ষার
লক্ষ্যে এ ফোরামের সাথে কাজ করে আসছে
৷ সেইসব
সংগঠনের মধ্য থেকে কিছু কিছু সংগঠন কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষ্যে তাদের
অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেছে
৷ এগুলো
তুলে ধরা হলো
৷ আশা করছি এ
অভিব্যক্তিগুলোই আমাদের আগামী পথচলাকে শক্তি যোগাবে
৷
কন্যাশিশুদের জন্য এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটাতে প্রেরণার সঞ্চার
করবে
৷ |
| জুলিয়েট লিপিকা সরকার, প্রোগ্রাম অফিসার (জেন্ডার এন্ড ডেভেলপমেন্ট) কারিতাস |
| "কন্যাশিশু
এ্যাডভোকেসি ফোরাম" বিগত চার বছর ধরে কন্যাশিশু দিবসটি জাতীয়ভাবে পালন
করে আসছে
৷ কারিতাস প্রথম
থেকেই এই ফোরামের সদস্য
৷ কারিতাস
তার বিভিন্ন কর্মসূচিতে কন্যা শিশু দিবস উদযাপন অন্তভূর্ক্ত
করেছে
৷ কারিতাস দরিদ্র
মানুষের সার্বিক
উন্নয়নের জন্য বিগত ৩৩ বছর ধরে কাজ করে আসছে
৷ কারিতাসের
"অবহেলিত শিশু শিক্ষা প্রকল্পে"র অধীনে অবহেলিত শিশুদের শিক্ষা
উদ্বুদ্ধকরণের কাজ চলছে
৷ এছাড়া
কারিতাস তার বিভিন্ন প্রকল্পের অধীনে কন্যাশিশুর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব
তৈরীর জন্য বিভিন্ন শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কাজ করে যাচ্ছে৷ কারিতাস চায়
সমাজে কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক এবং কন্যা শিশুর নিরাপত্তা
সুরক্ষিত হোক৷ কারিতাস, ফোরামের সদস্য হিসাবে কন্যা শিশুদের স্বার্থে
সকলের সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবে
৷ |
| সুরাইয়া ফারজানা, জেন্ডার প্রোগ্রাম অফিসার, ইউনিটারিয়ান সার্ভিস কমিটি অফ কানাডা ইন বাংলাদেশ (ইউএসিসিবি) |
| কন্যাশিশু,
বিশেষ করে কিশোরীদের সামাজিক শোষণ প্রক্রিয়া থেকে মুক্তির মাধ্যমে
উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করার জন্য ইউএসসিসি-বি অবিরাম প্রচেষ্টা
চালিয়ে যাচ্ছে
৷ অসহায় দরিদ্র
কিশোরীদের উন্নয়নকল্পে ইউএসসিসি-বি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে৷
এগুলোর মধ্যে অন্যতম 'কিশোর কিশোরী উন্নয়ন কর্মসূচি', যেখানে মূলত
গ্রামীণ দরিদ্র কিশোরীরাই অভীষ্ট জনগোষ্ঠী (কিশোরী ৮০%)৷ কর্মসূচিটির
উদ্দেশ্য হচ্ছে- দরিদ্র, নিরক্ষর এবং সুবিধাবঞ্চিত কিশোরীদের সাক্ষর,
সামাজিকভাবে সচেতন এবং আত্ননির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলা, যাতে তারা জ্ঞান
ও দক্ষতার মাধ্যমে নিজেদেরকে সকল প্রকার সামাজিক শোষণ থেকে সুরক্ষা
করতে পারে
৷ দেশের ৫৬ টি
জেলায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে সর্বোমোট ৪৫,০০০ কিশোরীকে ১৮ মাস ব্যাপী
সাক্ষরতা কোর্স সমাপন শেষে, কারিগরি দক্ষতা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া
হয়েছে
৷ ফলে শিক্ষার
পাশাপাশি উন্নয়ন, অধিকার এবং সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে তারা সচেতন হয়ে
উঠেছে
৷ যার ফলশ্রুতিতে
তারা সামাজিক অনাচার থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হচ্ছে
৷ এটি
দারিদ্র্য জনগোষ্ঠীর উপর একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে
৷ যেমন,
বাল্যবিবাহের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, বিয়ে রেজিষ্ট্রি বেড়েছে
(৯১%), যা তালাক ও বহুবিবাহ প্রতিরোধে সহায়তা করছে
৷ সেই সঙ্গে
জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে জনসংখ্যা পূর্বের
তুলনায় কমেছে
৷ বিবাহিত ৭৫০ জন
কিশোরীকে তাদের স্বামীসহ পারিবারিক উন্নয়নভিত্তিক 'দম্পতি প্রশিক্ষণ'
দেয়া হয়েছে
৷ সর্বমোট ৮,৭২১ জন
দুস্থ কিশোরীকে গরু মোটাতাজাকরণ, ছাগল পালন, গৃহস্থালী বাগান, হাঁস
মুরগী পালন, নার্সারী, লন্ড্রি, বিউটি পার্লার ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে
দক্ষতামূলক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে
৷ এদের
মধ্যে ৭,৫১২ জন সুদক্ষ কিশোরীকে উপার্জনমূলক কাজের জন্য আর্থিক অনুদান
প্রদান করা হয়েছে
৷ সর্বোপরি
কর্মসূচির প্রভাবে, কন্যাসন্তানকে শিক্ষা দানের ক্ষেত্রে পরিবারের
সদস্যদের আগ্রহ বেড়েছে
৷ পরিবার
এবং সমাজে তাদের মযর্াদাও বৃদ্ধি পেয়েছে
৷ এছাড়া 'অ্যাডোলেসেন্ট ইনোভেশন এন্ড অপরচুনিটি' প্রোগ্রাম এর আওতায় গ্রামের সুবিধা বঞ্চিত ৩,০০০ কিশোরীর জন্য ৬ টি জেলায় ৬ টি 'কিশোরী সভা' প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ৷ কিশোরী সভাগুলোতে বিভিন্ন সেবা ও সুবিধা দেয়া হয় ৷ যেমন, অব্যাহত শিক্ষার জন্য পাঠাগার সুবিধা, প্রজনন ও সাধারণ স্বাস্থ্য পরামর্শ এবং দল কেন্দ্রীক আয় উপার্জনমূলক কর্মকান্ডের জন্য উপকরন সরবরাহ ইত্যাদি ৷ এইভাবে ইউএসসিসিবি কন্যাশিশু ও কিশোরীদের অবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে তাদের নানামুখি কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছে ৷ এই সংস্থা মনে করে, কন্যাশিশুদের সকল অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সম্মিলিত শক্তি প্রয়োজন ৷ এই জন্যই কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের গুরুত্ব অনেক বেশি ৷ |
| উপমা দাশগুপ্ত, কর্মসূচি কর্মকর্তা (জেন্ডার), ন্যাশনাল পলিসি এ্যাডভোকেসি সেল, সমতা |
| আগামী ৩০
সেপ্টেম্বর ৫ম কন্যাশিশু দিবস
৷ আজকের
কন্যা শিশু জাতির আগামীদিনের কর্ণধার
৷ এদেশের
কন্যাশিশুদের সুষ্ঠু বিকাশের জন্য চাই নির্যাতনমুক্ত,
নিরাপদ ও বৈষম্যহীন উদার সমাজ
৷ অথচ
দু:খজনক হলেও সত্যি, বাস্তবে আমাদের কন্যাশিশুরা স্বাস্থ্য, পুষ্টি,
শিক্ষা, নিরাপত্তাসহ সকল অধিকার থেকে বঞ্চিত
৷ বেসরকারী
উন্নয়ন সংস্থা 'সমতা' মনে করে যে, কন্যাশিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও
সংরক্ষণের জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন
৷ সমতা তার
কর্ম এলাকায় 'উইমেন এ্যাকশন কমিটি'র মাধ্যমে বাল্যবিবাহ ও স্কুল থেকে
ঝরে পড়া রোধে সক্রিয়ভাবে কাজ করে চলেছে
৷ তৃণমূল
স্তরে সচেতনতা সৃষ্টি করার লক্ষ্যেও তারা কাজ করছে নিরলসভাবে ৷ সমতা
গভীরভাবে বিশ্বাস করে যে, পর্যাপ্ত
সুযোগ-সুবিধা ও অনুকূল পরিবেশে বেড়ে উঠলে একদিন এদেশের কন্যাশিশুরাও
তাদের সৃষ্টিশীলতা ও কর্মদক্ষতায় দেশকে সমৃদ্ধ করে তুলবে৷ আর তার জন্য
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার এখনই প্রকৃষ্ট সময় ৷ |
| ইশরাত জাহান, পরিচালক, পুষ্পনদী |
| যে কোন ন্যায্য
অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে 'পুষ্পনদী' সবসময়েই সোচ্চার
৷ যদিও
আমাদের কর্মকান্ড মূলত সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলেই পরিচালিত হয়, তবুও অধিকার
ভিত্তিক সামাজিক আন্দোলনের সাথেও আমাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে
৷ সেই জায়গা
থেকেই 'কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামে'র সাথে আমরা যুক্ত আছি
৷ নারী পুরুষ বৈষম্যের মূল উত্পাটন করতে হলে, মনোযোগ দিতে হবে কন্যাশিশুর প্রতিই ৷ আপামর নারীর পুষ্টি, শিক্ষা, চিকিত্সাসহ বিকাশের সকল আয়োজন নিশ্চিত করা গেলেই, বৈষম্য রোধ ও জাতীয় অগ্রগতি সম্ভবপর হতে পারে ৷ 'পুষ্পনদী' তাই কন্যাশিশুর অধিকার রক্ষার আন্দোলনে আরও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে ৷ |
| কুহেলী মোস্তফা, মহাসচিব, ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশন ফর ক্যানসার কেয়ার (ওয়াক) |
| ওয়েল ফেয়ার
এসোসিয়েশন ফর ক্যানসার কেয়ার (ওয়াক) মূলত মহিলাদের ব্রেস্ট ক্যান্সার
এওয়ারনেস এবং তামাক নিয়ন্ত্রণে কর্মরত একটি সংগঠন
৷ কিন্তু
নারী ইস্যু নিয়েও এ সংগঠন একক ও যৌথভাবে বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা
করে থাকে
৷ এরই অংশ হিসেবে
ওয়াক 'কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামে'র সাথে যুক্ত রয়েছে
৷ ওয়াক মনে
করে, প্রতিটি শিশুরই রয়েছে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠার অধিকার৷
কন্যাশিশুও এর বাইরে না
৷ ওয়ক
তাই কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের সক্রিয় সদস্য হিসেবে 'কন্যাশিশু
দিবস'কে গুরুত্বের সাথে উদযাপন করে
৷ ফোরামের
কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি নিজস্ব উদ্যোগেও এ দিবস'টি
পালন করে
৷ কন্যাশিশুর
অধিকার রক্ষার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত রাখতে 'ওয়াক'
দৃঢ়প্রতিজ্ঞ
৷ |
| সানজিদা লিপি, অপারেশন ম্যানেজার, ডেমোক্রেসী ওয়াচ |
| বাংলাদেশে
মানবাধিকার লঙ্ঘনের উপলক্ষ্য তৈরী হয় একটি শিশুর জন্মের সময় থেকেই,
বিশেষ করে শিশুটি যদি হয় কন্যা
৷ আমাদের
দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির আশঙ্কাজনক হারের পেছনে একটি বিষয় প্রায়ই কাজ
করে, তা হলো পুত্র সন্তানের আকাঙ্ক্ষায় বারবার সন্তান গ্রহণ
৷ আমাদের
দেশের মানুষকে এখন বোঝাতে হবে - প্রতিটি শিশুর জন্মই একটি নতুন
সম্ভাবনার জন্ম দেয়
৷ এই
সম্ভাবনার কোন লিঙ্গ বিভাজন নেই এবং উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধা ও প্রশিক্ষণ
পেলে কন্যাশিশুও দেশের জন্য সম্পদে পরিণত হতে পারে
৷ জাতীয়
কন্যাশিশু দিবসের মধ্য দিয়ে এই সম্ভাবনার কথাটুকুই মানুষের কাছে আমরা
পৌঁছে দিতে চাই
৷ |
| শাহীনা আক্তার, প্রজেক্ট অফিসার, এসিসটেন্স ফর স্লাম ডুয়েলার্স (এএসডি) |
| বিগত কয়েক বছর
ধরে আমাদের দেশে ৩০ সেপ্টেম্বর জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত হয়ে আসছে
৷ এ দিবসকে
সামনে রেখে এএসডি তার কর্ম এলাকায় নানা ধরণের কর্মসূচি পালন করে থাকে
৷ দাতা
সংস্থা, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট পৌরসভা
কমিশনার ও এএসডির অনানুষ্ঠানিক শিক্ষাকেন্দ্রের কিশোর-কিশোরী ও
'কিশোর-কিশোরী পরিষদে'র সহায়তায় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের
আয়োজন করা হয়
৷ আলোচনা সভার
মাধ্যমে দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়
৷
চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং গান, নাটক ইত্যাদির
মাধ্যমে কন্যাশিশুর বাল্য বিবাহ, কিশোরীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টির
প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়
৷ এতে
কিশোর-কিশোরীসহ এলাকার অভিভাবকগণ কন্যাশিশুদের বিভিন্ন সমস্যার কারণ
এবং প্রতিকার সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা লাভ করেন
৷ এএসডি মনে করে এ দিবসটি শুধু জাতীয়ভাবেই নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃত হওয়া দরকার ৷ এর মধ্য দিয়েই কন্যাশিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সকল প্রকার অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটবে এবং তাদের অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হবে ৷ |
| হোসেইন আল মাসুম, পরিচালক, যুব কর্মসংস্থান সোসাইটি (যুবক) |
| এই পৃথিবীতে
প্রতিটি মানবশিশুর রয়েছে বেঁচে থাকার অধিকার৷ নারী ও পুরুষ একই
স্রষ্টার সৃষ্টি
৷ নারী ও
পুরুষ দু'জনের যা পার্থক্য, তা সৃষ্টির প্রয়োজনে, সৃষ্টির বৈচিত্রের
প্রয়োজনে মানুষে মানুষে ব্যবধান তৈরীর জন্য নয়
৷ আমাদের দেশে অবহেলিত অংশের অন্যতম হচ্ছে কন্যাশিশু ৷ কন্যাশিশুদের অবস্থা উন্নয়নে কাজ করছে 'কন্যাশিশু এডভোকেসি ফেরাম' ৷ গত চার বছরে কন্যাশিশুর পরিচয়, তার অধিকার, তার সেবা ও নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে নানা কার্যক্রম, যেমন: কর্মশালা, ক্যাম্পেইন, প্রতিযোগিতা ইত্যাদি আয়োজন করা হয়েছে ৷ বাংলাদেশের কন্যাশিশুরা তাদের প্রাপ্য অধিকার লাভ করুক, সমাজ ও সমাজের মানুষের মমতা, ভালবাসা এবং সেবা পরিপূর্ণভাবে পাক- সেই লক্ষ্যে আরও যা কিছু করা প্রয়োজন তার সবটাই করার জন্য 'যুবক' প্রস্তুত রয়েছে৷ কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের সদস্য হিসেবে 'যুবক' সম্মানিত বোধ করে৷ |
| মুহাম্মদ আসগর আলী, পরিচালক, বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম |
| আমরা অনেকেই
শিশুদের অধিকারের কথা বলি, শিশুদের নিয়ে কাজ করি, কিন্তু একটু গভীরভাবে
অনেকেই ভেবে দেখি না আমাদের শিশুদের মধ্যে একটি বিশেষ শ্রেণীর শিশু
অন্যদের তুলনায় বেশিমাত্রায় সমস্যা আক্রান্ত
৷ এরা হলো
কন্যাশিশু
৷ এরা
অধিকারবঞ্চিত, এরা বঞ্চনা ও নিগ্রহের শিকার৷ এরা ফুঁটে উঠার আগেই ঝরে
যায়
৷ আজ সময় এসেছে
এদের পাশে দাঁড়াবার৷ কন্যাশিশুদের রক্ষায় আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে,
দায়িত্ব নিতে হবে, বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে হবে৷ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই
কেবল পারে কন্যাশিশুদের জন্য একটি বৈষম্যহীন সমাজের ভিত রচনা করতে
৷ |
| নিলু ভূঞা, সমাজসেবী |
| 'কন্যাশিশুরও
রয়েছে বেঁচে থাকার ও বিকশিত হবার পূর্ণ অধিকার'- এই কথাটির যৌক্তিকতা
সকলের সামনে তুলে ধরাই আজকের কন্যাশিশু দিবসের তাত্পর্য৷ সকল সচেতন
নাগরিক আজ কন্যাশিশুর অধিকার রক্ষার সামাজিক আন্দোলনে সম্পৃক্ত হবেন-
এটাই আমাদের প্রত্যাশা
৷ |
| লিলি হক, সভাপতি, চয়ন সাহিত্য ক্লাব |
| "আমি
কন্যাশিশু, আমাকে আদর দাও, আমি তোমাদের সুন্দর পৃথিবী উপহার দেবো"
৷ হ্যাঁ,
ভাবছিলাম ফুটফুটে চাঁদের কণা মামনিদের কথা৷ আগামীর আমন্ত্রণে চোখ ভরা
স্বপ্ন আর বুক ভরা ভালবাসা নিয়ে যে কন্যা শিশুটি জগত্ সংসারে এলো, তার
জন্য আমরা কতটুকু তত্পর? "কন্যাশিশু এ্যাডভোকেসি ফোরাম" গত চার বছর
ধরে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনকে সাথে নিয়ে "কন্যা শিশু দিবস"
পালন করে আসছে অত্যন্ত সফলতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে
৷ আমি একজন
উজ্জীবক হিসেবে আনন্দের দৃষ্টিতে লক্ষ করছি গ্রামে, হাঁটে, বাজারে,
বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে, এমনকি পারিবারিকভাবেও ঘরে ঘরে কন্যা
শিশুটির প্রতি সহায়ক পরিবেশ গড়ে উঠছে
৷ খেটে
খাওয়া মানুষ, যেমন: রিক্সাচালক,
ভ্যান ও ঠেলা গাড়ী চালক, দিনমজুর শ্রেণীর মানুষের সাথে কথা বলে বুঝেছি,
তারা কতটা সচেতন হয়েছে
৷ এতো আশার
কথা, বাঁচার কথা, অধিকার আদায়ের কথা! আমাদের "চয়ন সাহিত্য ক্লাব" থেকে
সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত আমরা কাজ করে যাচ্ছি, অসহায়
মানুষদের স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে
৷ এ সংগঠন
কন্যাশিশুদের শিশুশ্রম বন্ধ করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে৷
যেমন, বিধবা ও দিনমজুর মা-কে টিনের ঘর তৈরী করে একটা গাভী বা ছাগল কিনে
দেয়া, কৃষি কাজে সহায়তা করা
৷
আত্মনির্ভরশীলতার লক্ষ্যে কন্যাশিশুদেরকে শিক্ষা গ্রহণে সহযোগিতা করা,
প্রয়োজনে দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা
৷ প্রশিক্ষণ
শেষে কোন কোন ক্ষেত্রে উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা প্রদান করা, মাঝে মাঝে উঠোন
বৈঠকের মাধ্যমে তাদেরকে আত্মমর্যাদাবান নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠার জন্য
আত্মশক্তিতে বলীয়ান করা ইত্যাদি
৷ সবশেষে আমি দৃঢ় অঙ্গীকারে বলতে চাই, আমাদের ভালবাসা পেলে আজকের কন্যাশিশু হতে পারে জীবনযুদ্ধে জয়ী সাহসীযোদ্ধা ৷ হতে পারে আশালতা, অন্নপূর্ণা, অনন্ত যৌবনা মোনালিসা৷ আরো বেশি সাহসী হয়ে জেগে উঠবে ভেতরের চাঁদ সুলতানা, নদের চাঁদের সুন্দরী কন্যা মহুয়া, বীরাঙ্গনা সখিনা৷ হতে পারে সে পতাকাবাহী আলোর বৃষ্টি, হতে পারে অসম্ভব সুন্দর কোন সৃষ্টি! |
| মিলি জাকারিয়া, সভানেত্রী, এসো মিলে করি |
| বাংলাদেশ
বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ
৷ এই
দারিদ্রকে কাটিয়ে ওঠার জন্য যে সর্বাত্মক উন্নয়ন প্রচেষ্টা দরকার, তা
নারীদেরকে বাদ দিয়ে সম্ভব নয়
৷ আর
নারীদেরকে কর্মক্ষম, উত্পাদনশীল করে গড়ে তুলতে হলে, প্রয়োজন
কন্যাশিশুর প্রতি গুরুত্ব প্রদান
৷ কারণ,
আজকের কন্যাশিশুই আগামী দিনের নারী
৷ ৩০
সেপ্টেম্বর তাই জাতীয়ভাবেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন
৷ এ দিনটিকে
'জাতীয় কন্যাশিশু দিবস' হিসেবে পালন করার মধ্য দিয়েই আমরা কন্যাশিশুর
বিকাশের ব্যাপারে সচেতন হই, তার অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হই
৷ আমরা
সত্যিকার অর্থেই বিশ্বাস করি-বিকশিত কন্যাশিশুই আমাদের সমৃদ্ধ আগামীর
বার্তাবাহক
৷ |
| ফাতেমা পারভীন, পরিচালক, সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস এন্ড কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট |
| "বিশ্বে যা
কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর ৷" (কবি নজরুল ইসলাম) অথচ নারী যুগ যুগ ধরে বঞ্চিত হয়ে আসছে পুরুষশাসিত সমাজে ৷ বঞ্চনার শুরু হয় মাতৃজঠর থেকে, চলে সারা জীবনভর৷ প্রতিটি শিশুই জাতির ভবিষ্যত্ নাগরিক ৷ এসকল শিশুর অর্ধেক কন্যাশিশু ৷ তাদের অবহেলিত, অরক্ষিত রাখা মানে, জাতির ভবিষ্যত্কেই ক্ষতিগ্রস্ত করা৷ জাতির ভবিষ্যত্ গর্ভধারিনীও এই নারী ৷ তাই আসুন, যার ক্রোড়ে শিশু বড় হয়, যার আদর্শকে শিশু গ্রহণ করে বেশি, যার জঠরে নারী-পুরুষের বাস, তার অধিকারকে পুরুষের সমস্থানে উন্নীত করি ৷ নর ও নারী সমঅধিকারী হই ৷ একের প্রতি অপরের সহানুভূতি, প্রেম, দায়িত্ববোধের উদয় হোক ৷ গড়ে উঠুক এক উন্নত জাতি ৷ এই হোক আজকের কন্যাশিশু দিবসের প্রত্যাশা ৷ |
| শাহিন আক্তার ডলি, নির্বাহী পরিচালক, নারী মৈত্রী |
| আজকের
কন্যাশিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত্, অথচ আমাদের দেশে কন্যা শিশুদের প্রতি
যথাযথভাবে যত্ন নেয়া হয়না
৷ কন্যা
শিশুদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত সংকীর্ণ
৷ পরিবারে
একটি ছেলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব সবসময় একটি মেয়ের চেয়ে বেশী৷ অথচ একটি
কন্যা শিশু একটি ছেলে শিশুর চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়
৷ যেখানেই
মেয়েদের জন্য যথাযথ সুযোগ সৃষ্টি করা গেছে সেখানেই মেয়েরা কৃতিত্বের
স্বাক্ষর রেখেছে
৷ প্রতি বছর কন্যা শিশু দিবস কন্যা শিশু এ্যডভোকেসি ফোরামের মাধ্যমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালিত হয় ৷ এটা খুবই আনন্দের ব্যাপার ৷ কিন্তু শুধু দিবস পালনের মধ্যেই এর গুরুত্ব সীমাবদ্ধ রাখলে চলবেনা ৷ এ বিষয়ে শিক্ষক-শিক্ষণ কর্মসূচি ও পাঠ্যক্রমে কন্যা শিশুর গুরুত্ব তুলে ধরতে হবে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে ৷ কারণ একজন শিক্ষিত নারী একটি শিক্ষিত জাতি গড়ে তুলতে সহায়তা করতে পারে ৷ একই সাথে মসজিদ, মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সমূহের মাধ্যমে কন্যা শিশুর গুরুত্ব তুলে ধরলে সমাজ থেকে কন্যা শিশুর প্রতি ভ্রান্ত ধারণাসমূহ দূর হবে ৷ এই দিনটি পালন করার মধ্য দিয়ে সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন করে তুলতে হবে ৷ কন্যা শিশুদের প্রতি মনোভাব বদলালেই তারা এদেশের রত্নে পরিণত হবে ৷ এই দিবসকে সামনে রেখে আমরা নারী মৈত্রীর পক্ষ থেকেও প্রতিবছর এলাকা ভিত্তিক বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচীর আয়োজন করে থাকি, যাতে কন্যারা তাদের মেধা ও মননের বিকাশ ঘটাতে পারে এবং জনগণও তাদের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে৷ সকল কন্যাশিশুই ভবিষ্যতের একজন সফল নারী- এই ভাবনাটিকে সকলের মনের ভেতরে গেঁথে দিতে পারলেই কন্যা শিশুর অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব ৷ |
| এভিলিনা চাকমা, প্রোগ্রাম অফিসার, খ্রীষ্টিয়ান কমিশন ফর ডেভোলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি) |
| সিসিডিবি নারীর
ক্ষমতায়নে গভীরভাবে বিশ্বাস করে
৷ নারীকে
উন্নয়ন ও উত্পাদনের মূল কেন্দ্র থেকে দূরে রেখে জাতীয় অগ্রগতি সম্ভব
নয়
৷ আর নারীকে
উত্পাদনক্ষম, উপার্জনক্ষম, আত্মমর্যাদাবান মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার
জন্যই প্রয়োজন কন্যাশিশু তথা নারীর অধিকার সুরক্ষার প্রতি মনোযোগী হওয়া
৷ তাই
সিসিডিবি তার জন্মলগ্ন থেকেই নারীদের সার্বিক অবস্থা ও অবস্থানের
উন্নয়নের লক্ষ্যে নিজ প্রতিষ্ঠান এবং কর্মসূচি উভয় পর্যায়ে বিভিন্ন
প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে
৷ নারীরাই
হচ্ছে সিসিডিবির সকল উন্নয়ন কর্মসূচির মূল 'লক্ষ্য জনগোষ্ঠী'
৷ বর্তমানে
বাংলাদেশে ২৭টি জেলার ৫,৯০৮টি গ্রামের প্রায় ৯৮,০০০ দরিদ্র পরিবারের
সাথে সিসিডিবি কাজ করছে এবং লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীর প্রায় শতকরা ৭৯ ভাগই
হচ্ছেন নারী
৷ এই সংখ্যাটিকে
ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করে শতকরা ৮৫ ভাগে উন্নীত করার ভবিষত্ পরিকল্পনা
রয়েছে সিসিডিবির
৷ সিসিডিবি
বিভিন্ন আয় বৃদ্ধিমূলক কাজে সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে নারীদের
আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সঞ্চয় ও ঋন
কার্যক্রম, কন্যাশিশুদের মৌলিক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, স্বাস্থ্য সেবা
প্রদান, নারী-পুরুষের সমতা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ইত্যাদি কর্মসূচির
মাধ্যমে তাদেরকে উন্নয়নের মূল
স্রোতধারায়
নিয়ে আসতে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে
৷ এ ছাড়া,
তৃনমূল পর্যায়ে নারী নেতৃত্ব গঠণ ও তাদের প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও
ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ১৯৮২ সাল থেকে সিসিডিবি বিভিন্ন
স্থানীয় ক্ষুদ্র সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে আসছে, যেসব সংস্থার
প্রধান হচ্ছেন নারী
৷ সিসিডিবি জেন্ডার বা নারী-পুরুষ সম্পর্ক ইসু্যটিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসার জন্য সম্প্রতি একটি জেন্ডার নীতিমালা (এবহফবত্ চড়ষরপু) তৈরী করেছে এবং সেটি অনুসরণ করছে ৷ পাশাপাশি "কন্যাশিশু এ্যাডভোকেসি ফোরামে"র সাথে সম্পৃক্ত থেকে কন্যাশিশুর অধিকার রক্ষার সামাজিক আন্দোলনে ভূমিকা রেখে চলেছে৷ ফোরামের কর্মসূচী এবং নিজস্ব কর্মসূচীর সমন্বয় ঘটিয়ে সিসিডিবি এই আন্দোলনে আরও কার্যকরভাবে অংশগ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করছে ৷ |
| রেহেনা সিদ্দিকী, সমাজসেবী, পরিচালক, ফর ইউ ফর এভার (ফাইফে) |
| আমাদের দেশে
শিক্ষিতের হার এমনিতেই আশাব্যঞ্জক নয়৷ নারী শিক্ষার অবস্থা আলো করুণ৷
শিক্ষার নিম্নহারের কারণে সচেতনতার মাত্রাটিও নিম্ন৷ এ কারণে সমাজে
বৈষম্য-বঞ্চনা-অন্যায় শেকড় গাঁড়ার সুযোগ পায়৷ আমাদের সমাজে কন্যাশিশু
জন্মের পর থেকে শুরু করে জীবনব্যাপী বঞ্চিত হয়ে চলে৷ তারা মানুষ হিসেবে
বেড়ে উঠার সুযোগগুলো বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই পায়না৷ এর উপর নির্যাতন
নিপীড়নতো আছেই৷ জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদযাপনের মাধ্যমে কন্যাশিশুর
অধিকার সংক্রান্ত ইসু্যগুলো সামনে নিয়ে আসার সুযোগ ঘটে, মানুষকে সচেতন
করে তোলা সম্ভব হয়৷ এভাবে সমাজে কন্যাশিশু সম্পর্কে ইতিবাচক মানসিকতা
গড়ে ওঠে এবং তার বিকাশের সম্ভাবনা তৈরী হয়৷ আমাদের সংগঠন 'ফাইফে'র পক্ষ
থেকেও আমরা এ দিবসটিকে কেন্দ্র করে নানারকম কর্মসূচি পালন করে থাকি৷
আমরা এসব কর্মসূচির ইতিবাচক ফলাফল প্রত্যক্ষ করে অত্যন্ত আশান্বিত৷ এসব
কর্মসূচিতে যত বেশি সংখ্যক মানুষকে সম্পৃক্ত করা যাবে, তত দ্রুত
কন্যাশিশুর বিকাশের সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা যাবে বলে আমাদের বিশ্বাস
৷ |
| এঞ্জেলিকা পল্লবী সরকার, প্রোগ্রাম অর্গানাইজার, নারী ও শিশু শিক্ষা কার্যক্রম, হীড-বাংলাদেশ |
| নারীর প্রতি
বৈষম্য পুরুষতান্ত্রিক সমাজের জন্মলগ্ন থেকেই চলে আসছে
৷ এ বৈষম্য
সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক-সর্বোরি
মানবাধিকার- এর ক্ষেত্রে বৈষম্য৷ এ বৈষম্য রোধ করা না গেলে জাতীয়
অগ্রগতি অসম্ভব
৷ আজকের কন্যাশিশু আগামী দিনের নারী ৷ মা-ই তার আগত সন্তানের প্রথম শিক্ষক ৷ তাকে যদি আমরা পরিপূর্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যর্থ হই, তবে আগামী প্রজন্মকেই ঠেলে দেয়া হবে ঝুঁকির মুখে ৷ নারীকে গড়ে তোলার প্রথম পদক্ষেপ নিতে হবে তার শৈশবেই ৷ স্বাস্থ্যোজ্জ্বল, সমৃদ্ধ জাতির জন্য কন্যাশিশুর সমতা ও নিরাপত্তা আর অধিকার নিশ্চিত করার সামাজিক আন্দোলনে সামিল হতে হবে সকলকেই ৷ 'হীড-বাংলাদেশ' কন্যাশিশুদের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের সাথে যৌথ কার্যক্রমের পাশাপাশি, তাদের নিজস্ব উদ্যোগও অব্যাহত রেখেছে৷ কন্যাশিশু দিবসের র্যালী ও আলোচনা সভায় গত ২০০৩ সালে প্রায় ১০০০ কিশোরী স্বত:স্ফূর্তভাবে সম্পৃক্ত হয়েছে৷ আমরা এ আন্দোলনে আরও সক্রিয় হবার প্রত্যয় ঘোষণা করছি ৷ |
| মিরান্ডা রায়, প্রধান শিক্ষিকা, ওয়াইডাবলিওউসিএ ফ্রি-স্কুল |
| জীবনের শুরুতেই
কন্যা শিশুরা বৈষম্যের শিকার হয়
৷ এবং
বৈষম্যের সূত্রপাত হয় তার নিজের পরিবার থেকেই
৷ সমাজেও
ছড়িয়ে রয়েছে তার বীজ৷ এই বৈষম্য প্রতিরোধের অঙ্গীকার নিয়েই প্রতিবছর ৩০
সেপ্টেম্বর পালিত হয় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস
৷ সমাজের দরিদ্র, অবহেলিত এবং পিছিয়ে পড়া শিশুদের নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে ওয়াইডাবলিওউসিএ'র ফ্রি-স্কুল ৷ আর এই স্কুলের কন্যাশিশুদের নিয়ে প্রতিবছর পালিত হয় 'কন্যাশিশু দিবস' ৷ উদ্দেশ্য- প্রতিটি কন্যাশিশুর মধ্যে তাদের অধিকারবোধ জাগ্রত করা ৷ পুত্র সন্তানদের পাশাপাশি তাদেরও আছে সমান অধিকার৷ সঠিক দিক নির্দেশনা পেলে তারাও জাতি ও দেশের ভাবমূর্তি সমুজ্জ্বল করার ক্ষমতা রাখে ৷ প্রতিটি শিশুকন্যার সঙ্গে মায়েরাও দিবসটি উদ্যাপন করেন ৷ কন্যাশিশুকে অবহেলা না করে তাদের শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রগতির লক্ষ্যে মায়েরা আরো যত্নশীল হতে শিখেছে ৷ তাদের অধিকারকে স্বীকৃতি দেবার লক্ষ্যে কাজ করতে আরো উত্সাহী হয়েছে ৷ আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সবশেষে প্রত্যেক মা তাদের নিজ নিজ কন্যাশিশুর হাতে উপহার তুলে দেয়ার মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানটি পালিত হয়৷ বছরের একটি দিন নয়, প্রতিটি দিনই হোক কন্যাশিশু দিবস- এই আমাদের আজকের প্রত্যাশা ৷ |
| মো. আরিফুর রহমান, প্রোগ্রাম অফিসার, এ্যাডভোকেসি এন্ড কমিউনিকেশন, ইউসেপ, বাংলাদেশ |
কন্যাশিশু দিবস অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ একটি দিন ৷ বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় দিনটির গুরুত্ব সমধিক৷ লৈঙ্গিক বৈষম্য আমাদের সামাজিক ও জাতীয় উন্নয়নে আজও একটি বড় অন্তরায় হিসেবে বিদ্যমান ৷ বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রীয় ও সামষ্টিক জীবনে নারী পুরুষ উভয়ের সম অধিকার স্বীকৃত ৷ তবে বাস্তবতা হচ্ছে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে কন্যা শিশুরা প্রতিনিয়ত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বঞ্চনার শিকার ৷ আশার কথা, সামপ্রতিক দিনগুলোতে বিষয়টির প্রতি সর্বস্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে ৷ নারীরা আজ প্রতিরক্ষাসহ সরকারী-বেসরকারী গুরুত্বপূর্ণ পদে সাফল্যের সাথে কাজ করছে ৷ তারা প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সফল উদ্যোক্তা হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করছে ৷ দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক, এই নারী সমাজকে সকল অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করা ছাড়া টেকসই জাতীয় উন্নয়ন সম্ভবপর নয় ৷ এদিক বিবেচনায় রেখে 'ইউসেপ-বাংলাদেশ' তার শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে কন্যা শিশুদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে ৷ শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সদ্য-সমাপ্ত প্রকল্প মেয়াদে ইউসেপ-এ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণরত মেয়ে ছেলের অনুপাত ছিল ৪৫ঃ ৫৫, যা চলতি মেয়াদে ৫০ : ৫০ হবে বলে আশা করা হচ্ছে ৷ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশে কর্মক্ষম নারীর সংখ্যা আড়াই কোটিরও বেশী ৷ ঘরে-বাইরে বা উভয় ক্ষেত্র মিলে প্রতি সপ্তাহে একজন নারী, একজন পুরুষ অপেক্ষা প্রায় ২১ ঘন্টা বেশী পরিশ্রম করে থাকে ৷ কৈশোর বা ক্ষেত্রবিশেষে শৈশব থেকেই একজন নারী তার কর্মমুখর জীবনের সূচনা করে ৷ নারীর শৈশব সংস্করণ তথা কন্যা শিশুর তাত্পর্য অনুধাবন করতে পারা গোটা সমাজের জন্যই আজ একটা বড় চ্যালেঞ্জ ৷ |
| সৈয়দ মাহবুবুল আলম, ডব্লিওবিবি ট্রাস্ট |
| দেশের সার্বিক
উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন দেশের প্রতিটি নাগরিকের অংশগ্রহণ
৷ একটি অংশ
যদি পিছিয়ে থাকে, তাহলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন কোন ভাবেই সম্ভব নয়
৷ আমাদের
দেশের মোট জনসংখ্যার একটি উল্লেখ্যযোগ্য অংশ হচ্ছে নারী
৷ কিন্তু
আমাদের নিজেদের অসচেতনতা, কুসংস্কার ও সামাজিক বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার
কারণে তারা অধিকারবঞ্চিত হচ্ছে জন্মলগ্ন থেকেই এবং সে কারণেই দেশের
উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও তারা পিছিয়ে থাকছে
৷ কন্যাশিশুর অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই গড়ে উঠেছে 'কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম' ৷ কন্যাশিশুরা যাতে বৈষম্যের শিকার না হয়, তারা যেন তাদের অধিকার নিয়ে বড় হতে পারে এবং সমাজজীবনে একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে- এই ফোরাম সে লক্ষ্যে কাজ করছে ৷ কন্যা শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠায় জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ফোরাম বিগত দিনগুলোতে উন্মুক্ত আলোচনা সভা, র্যালি, চিত্রাঙ্কণ, রচনা প্রতিযোগিতা, পোষ্টার, লিফলেট প্রকাশ-সহ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে ৷ ফলে কন্যাশিশু ইস্যুটিতে ব্যাপক সচেতনতার সৃষ্টি হয়েছে ৷ সেই সাথে এ ফোরাম নীতিনির্ধারক মহলকে এ ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা নিতে উত্সাহিত করেছে ৷ 'ডব্লিওবিবি ট্রাস্ট' কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের এসকল উদ্যোগের সাথে শুরু থেকেই সম্পৃক্ত থেকেছে ৷ এ কাজগুলো সচেতনতার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে সহায়তা করেছে ৷ কিন্তু কন্যাশিশুর প্রকৃত অধিকার নিশ্চিত করতে আমাদের যেতে হবে আরও অনেক দুর ৷ গ্রহণ করতে হবে আরো ব্যাপকভিত্তিক কার্যক্রম ৷ আরো সংগঠনকে সম্পৃক্ত করতে হবে ৷ দেশের নীতিনির্ধারকদের এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণে সংবেদনশীল, সহানুভূতিশীল ও সক্রিয় করে তুলতে হবে ৷ তাহলেই এ দেশের কন্যাশিশুরা বড় হয়ে মানুষের মত মানুষ হবে, সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে একটি ছেলে শিশুর মতোই ৷ দেশের উন্নয়নে তারাও হবে একজন সক্রিয় অংশীদার ৷ নারী-পুরুষের ঐক্যবদ্ধ ও বৈষম্যহীন কর্ম প্রচেষ্টায় দেশের সাগমগ্রিক উন্নয়নের চাকা তখন ঘুরবে শুধুই সামনের দিকে ৷ |
|
© 2005 The Hunger Project-Bangladesh. All rights reserved. |