|
বাংলাদেশের কন্যাশিশু |
|
| কন্যাশিশু দিবস সংখ্যা |
উজ্জীবক বার্তা, বর্ষ-৩, সংখ্যা-১৭, সেপ্টেম্বর-২০০৪ |
|
আয়শা খানম |
| শিশু শিশুই ৷ জন্মসূত্রে সে মানব সন্তান ৷ কিন্তু কথা উঠে, নানা কথা থেকে যায়; তা থেকে নতুন শব্দ তৈরী হয় কন্যাশিশু (Girl Child) ৷ বালক শিশু বলে আলাদা কথা নেই, বিশেষ দিবসও নেই ৷ কথা উঠে কন্যাশিশু নিয়ে, কারণ জন্মের পর মূহুর্ত থেকেই এই মানব সন্তান হয়ে পড়ে ভিন্ন আচরণের শিকার ৷ ছেলে সন্তান হলে ঘরে ঘরে আনন্দ, ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম মতে ভিন্ন ভিন্ন আনন্দের প্রকাশ- আযান, উলু ধ্বনি বা বিশেষ উত্সব ৷ আর কন্যাশিশু হলে বিমর্ষ বেদনাগ্রস্ত চেহারা পিতামাতা-সহ পরিবারের সকল সদস্যের৷ পরিবেশ উত্সবহীন ৷ |
| এতো গেলো কেবল
জন্মমুহুর্তের কথা! জন্মকাল থেকে ১৮ বছর
পযর্ন্ত যদি
শিশুকাল ধরা হয়, জীবনের এই প্রথম ও অতি গুরুত্বপূর্ণ পর্বে
কন্যাশিশুরা
সামাজিক, শিক্ষাগত, সমষ্টিগত তথা জীবনের মৌলিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধার
প্রায় সকল ক্ষেত্রে বৈষম্য এবং কোন কোন ক্ষেত্রে শোষণ ও
নির্যাতনের
শিকার হয়
৷ এই বৈষম্য, শোষণ,
নির্যাতন,
সুযোগহীনতা ও অধিকারহীনতার চিত্রটি
আর্থিক-সামাজিক
অবস্থান বা শ্রেণীগত অবস্থানের কারণে ভিন্ন ভিন্ন হয়
৷ তবে মোটা দাগে
কতকগুলো বিষয়ে প্রায় একই রকম আচরণ, একই ধরণের বৈষম্য, একই ধরণের
সুযোগহীনতার শিকার হয় কন্যাশিশুরা
৷ যেমন: ১. শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা, পুষ্টিকর খাদ্য এসব ক্ষেত্রে কন্যাশিশু ও বালক শিশুর মাঝে পরিবার-সমাজের বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি এখনও ব্যাপকভাবে বিদ্যমান ৷ ২. যৌন হয়রানী, যৌন নির্যাতন, শারীরিকভাবে অন্যান্য নির্যাতন পরিবারে ও পরিবারের বাইরেও বিদ্যমান ৷ ৩. দৃষ্টিভঙ্গিগত কারণে পরিবারে ও সমাজে এখনও কন্যাশিশুদের ৮/১০ বছর বয়স হয়ে গেলেই সহজ বাধাহীন চলাফেরা, মেলামেশায় নানা ধরণের শর্ত আরোপ করা হতে থাকে ৷ কন্যাশিশুর যতই বয়স বাড়তে থাকে প্রথা, সংস্কার, ঐতিহ্য এবং ধর্মের নামে তাদের পায়ে তত বেড়ি পরতে থাকে এবং ক্রমেই তা শক্ত হতে থাকে ৷ |
| ৪. কন্যাশিশুদের
অনেক পরিবারেই বোঝা মনে করা হয়
৷ উত্তরাধিকার
আইনে বৈষম্য থাকায় কন্যাশিশুরা পিতার সম্পত্তির সমান অংশ পায় না
৷ মেয়েকে বিয়ে
দিতে গেলেই যৌতুক দিতে হবে-এই ভাবনা থেকেই কন্যাশিশুদের বোঝা মনে করা হয়
৷ অন্যদিকে ভাবা
হয়- পুত্র সন্তান বড় হলে অর্থ-বিষয়-সম্পদ আসবে
৷ সেজন্য
Son preference
বা পুত্র প্রাধান্য বিরাজ করে পরিবারগুলোতে
৷ এসব কারণেই
কন্যাশিশুরা অবহেলা উদাসীনতার শিকার হয়
৷ ৫. নারীত্বের যত প্রকারের, যত ধরণের লাঞ্ছনা-বঞ্চনা, নিপীড়ন, নির্যাতন আছে কন্যাশিশু তার সবগুলোরই শিকার ৷ কোনটা প্রবল, কোনটা হয়তো তুলনামূলক কম ৷ দৈহিক-মানসিক তথা সকল প্রকার নির্যাতনই কন্যাশিশুদের ভাগ্যে জোটে ৷ ESCAP কর্তৃক পরিচালিত "দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া নারী নির্যাতন" শীর্ষক গবেষণায় দেখা যায়, জন্মের পর থেকে ১৮ বছর বয়সের মধ্যেই কন্যাশিশুরা বহুমাত্রিক নির্যাতনের অভিজ্ঞতা লাভ করে ৷ এই নির্যাতনের ধারাবাহিকতা চলতে থাকে জীবনভর ৷ জন্মের আগেই কন্যাশিশু যে বৈষম্যের শিকার হয়, 'ভ্রূণহত্যা' তার অন্যতম উদাহরণ ৷ এই সমস্যা বাংলাদেশে এখনও প্রকট না হলেও প্রতিবেশী দেশ ও দক্ষিণ এশিয়ায় যথেষ্ট হারে বিদ্যমান ৷ আমাদের দেশে সাড়ে ৩ বছরের সোনিয়াকে ধর্ষণের মতো শিশু-কিশোরী ধর্ষণের সংখ্যা ভয়াবহ মাত্রায় বাড়ছে ৷ ধর্ষণ, অপহরণ, চাকুরির লোভ দেখিয়ে দেহ ব্যবসার জন্য বিদেশে পাচার, জোর করে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করা, বিক্রি করে দেয়া, পরিবারের সদস্যদের দ্বারা বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানীর শিকার হওয়া, গৃহ পরিচারিকা বা সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে শারীরিক নির্যাতন, মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়া ইত্যাদির মাত্রাও বেড়ে চলেছে ৷ আর এই নির্যাতন যেমন পরিবারে, তেমনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, তেমনি কর্মস্থলে এবং সর্বত্র ৷ রাস্তাঘাটে যাতায়াত করার কোন নিরাপত্তা নেই ৷ বাংলাদেশে স্কুল-কলেজে যাওয়া মেয়েরা ব্যাপকভাবে রাস্তাঘাটে তরুণদের দ্বারা উত্যক্ত হচ্ছে ৷ অপহৃত হচ্ছে শত শত কন্যাশিশু ৷ বাংলাদেশের কন্যাশিশুরা পিতৃতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও চিন্তা চেতনার জন্য বরাবরই অনাদর, অবহেলা ও উদাসীনতার মাঝে বড় হতো ৷ সাম্প্রতিক সময়ে দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি এদের জীবনের নিরাপত্তাকে আরো সংকটপূর্ণ করে তুলেছে ৷ ঘরে বাইরে কোথাও কোন ধরণের নিরাপত্তা নেই বাংলাদেশের কন্যাশিশুর৷ বাংলাদেশের শীর্ষ স্থানীয় ধনাঢ্য পরিবারের ১৫ বছরের কন্যা শাজনীন যেভাবে মৃত্যুবরণ করে, তাতে বোঝা যায় কন্যাশিশুরা বাংলাদেশের বর্তমান পিতৃতান্ত্রিক পারিবারিক ও সামাজিক বৈষম্যমূলক সংস্কৃতির এই পরিবেশে কতটুকু প্রান্তিক অবস্থানে আছে ৷ ধর্ষণ-নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুমুখে পতিত রুমি, তানিয়া, তৃষা, মহিমাসহ শত সহস্র কন্যাশিশুর কথা নাই বা বললাম ৷ |
| কন্যাশিশুদের
শিক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
৷ বর্তমানে
স্কুল-কলেজে নারী বা কন্যাশিশুদের ভর্তির হার বাড়ছে-এটা আশার কথা
৷ কিন্তু
Dropuot
বা পরবর্তীতে
ঝড়ে পড়ার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
৷ এই
Dropuot-এর
অন্যতম প্রধান কারণ অভাব বা পরিবারের দারিদ্র
৷ বাংলাদেশের
'মীনা'রা স্কুলে যেতে শুরু করেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই শিক্ষা চালিয়ে
যেতে পারছে শতকরা কত ভাগ- সেটা সমীক্ষা ও গবেষণা করে সঠিক তথ্য দেয়া দরকার
৷ দারিদ্র্যের
সঙ্গে সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
৷ কন্যাশিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিধানের ক্ষেত্রে, সুস্পষ্ট ছাপ আছে পিতৃতান্ত্রিক শিক্ষা সংস্কৃতির ৷ কেবলমাত্র দারিদ্রই নয়, পুত্র সন্তানকে প্রাধান্য দেয়ার মানসিকতার কারণেও খাদ্য বন্টনের ক্ষেত্রে কন্যাশিশুরা বৈষম্যের শিকার হয় ৷ এর পিছনে আরেকটা বৈষয়িক কারণও রয়েছে ৷ তা হলো বাংলাদেশে বিদ্যমান 'উত্তরাধিকার আইন' ৷ এ আইনে কন্যাসন্তান পিতার সম্পত্তিতে পুত্রের সমান অংশীদার হতে পারে না ৷ তার ফলে পুত্র সন্তান পরিবারের কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে ৷ বলা হয়ে থাকে, 'বংশের বাতি' হলো পুত্র সন্তান ৷ কন্যাসন্তান অন্য পরিবারে চলে যাবে- এই ঐতিহ্যগত ভাবনার বাইরে অতি সম্প্রতি কিছু শিক্ষিত, সচেতন পরিবার কন্যাশিশুকে সম্মান, মর্যাদা, সমান অধিকার এবং সুযোগ-সুবিধা দিতে শুরু করেছে ৷ পারিবারিক ও সামাজিকভাবে কন্যাশিশুরা পূর্বের তুলনায় অধিকার ও সুযোগ খানিকটা বেশি পাচ্ছে ৷ তবে আইনগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু ক্ষেত্রে তাদের সমঅধিকার এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি ৷ বাংলাদেশে উত্তরাধিকার আইন সংশোধন করাও একান্ত জরুরী ৷ কারণ, এতে পিতার সম্পত্তিতে পুত্র ও কন্যা সমঅধিকার ভোগ করে না ৷ |
| গ্রামের দরিদ্র
পরিবারের কন্যাশিশুরা এ সকল সমস্যার শিকার হয় আরও তীব্রভাবে
৷ শোষণ
নির্যাতনের মাত্রাও সেখানে বেশি
৷
নিরাপত্তাহীনতাও ব্যাপক
৷ সাধারনভাবে
একটা দরিদ্র পরিবার কিংবা ভূমিহীন প্রান্তিক কৃষকের গোটা পরিবারই থাকে চরম
সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার মাঝে
৷ এমন পরিবারে
কন্যাশিশু বিক্রি হয়ে যাবে অথবা অপহৃত হয়ে যাবে অথবা পাচার হয়ে যাবে এটাই
বেশি স্বাভাবিক
৷ সুতরাং দেখা যাচ্ছে-
দারিদ্রের দুষ্টচক্র থেকে জনগোষ্ঠীর মুক্তি ও কন্যাশিশুদের জীবনের
মানোন্নয়নের প্রশ্নটি পরষ্পর
সম্পর্কিত
৷
তবে তার পাশাপাশি কন্যাশিশুর প্রতি সমতাপূর্ণ, বৈষম্যমুক্ত দৃষ্টিভঙ্গি ও
সংস্কৃতি গড়ে তোলাও জরুরী
৷ সেজন্যই
কেবলমাত্র বাংলাদেশ বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া নয়, বৈশ্বিকভাবে কন্যাশিশুর
পারিবারিক-সামাজিক অবস্থান নিয়ে আরো গভীরভাবে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে
৷ চতুর্থ বিশ্ব
নারী সম্মেলনের বেইজিং কর্মপরিকল্পনায়, সমাজে নারীর উন্নয়নের জন্য চিহ্নিত
১২টি বিষয়ের মাঝে অন্যতম ইস্যু
হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে Right of the
Girl Child বা
কন্যাশিশুর অধিকার
৷ এতে কন্যাশিশুর
পারিবারিক, সামাজিক, শিক্ষা, স্বাস্থ্যগত অধঃস্তন অবস্থান ও তা থেকে
উত্তরণের জন্য বেশ কিছু সুপারিশ পেশ করা হয়েছে
৷ এছাড়া
Convention of the Rights of
Children (CRC)-এও
কন্যাশিশুদের কথা বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে এবং কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ
পেশ করা হয়েছে
৷
কন্যাশিশুদের প্রতি ক্ষতিকর নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও আচার-আচরণ, বাল্যবিবাহ,
যৌন নির্যাতন ও হয়রানী (এগুলো পরিবারে, কর্মক্ষেত্রে ও রাস্তাঘাটে
সর্বত্রই ঘটে), খাদ্য বন্টনে বৈষম্য, স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির তীব্র সংকট,
অল্পবয়সে গর্ভধারণ- এই সমস্যাগুলো বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে গ্রামে, শহরে এবং
গরীব তো বটেই, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারেও বিদ্যমান
৷
বাংলাদেশে
প্রসূতি মৃত্যুর
হারও অনেক বেশি
এবং স্বাভাবিকভাবেই মৃত্যুমুখে
পতিত এইসব প্রসূতির বড় অংশটিই অপরিণত মাতা তথা কন্যাশিশু
৷ এসব সমস্যা
বিবেচনায় রেখে সরকার, রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের করণীয় বিষয়ে বেইজিং
সম্মেলনে সুপারিশ পেশ করা হয়েছে
৷ এগুলোর মধ্যে
আছে -জন্মনিবন্ধীকরণ, খাদ্য, চিকিত্সা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি ৷ এসব
ক্ষেত্রে যাতে কোন বৈষম্য না হতে পারে, সেজন্য আর্থিক অবস্থার উন্নতির
পাশাপাশি সামাজিক শিক্ষার উপরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এবং এ দায়িত্বটিকে সরকার
ও রাষ্ট্র যেন যথাযথ গুরুত্বের সাথে নেয়- সেজন্য আহ্বান জানানো হয়েছে ৷
|
| নিরীক্ষা, সমীক্ষায়
দেখা যায় বাংলাদেশে ২০০০ সালে ধর্ষিতা নারীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশই
কন্যাশিশু এবং তাদের অনেকেই ধর্ষিত হবার পর আত্মহত্যা করেছে
৷ সম্প্রতি
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে
Suicide in Bangladesh
শীর্ষক একটি গবেষণা পরিচালনা করা হয়
৷ এই গবেষণা
থেকে জানা যায়, তরুণীরা যাদের বয়স ১০-১৮ বছর, তাদের অধিকাংশই ধর্ষিতা হয়েছে
বলে অপমানে, অভিমানে, ভবিষ্যত ব্যর্থ ও অনিশ্চিত জীবনের কথা ভেবে আত্মহত্যা
করেছে
৷ এই চিত্র থেকে আমরা
সহজেই উপলব্ধি করতে পারি বাংলাদেশের কন্যাশিশুরা কেমন আছে
৷ কন্যাশিশুর উপর অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে শোষণ চলে ভয়াবহ মাত্রায় ৷ এটি যেমন কারখানায়, তেমনি বাড়িতে ৷ অতি অল্পবয়সী মেয়েদের গৃহপরিচারিকা হিসেবে রাখা হয় এবং তাদের শৈশব ও কৈশোর জীবনের সকল প্রকার অধিকারের কথা ভুলে যাওয়া হয় ৷ উপরন্তু তাদের উপর দৈহিক নির্যাতনও করা হয়৷ বাংলাদেশ 'Convention of the Rights of Children' ((CRC), শিশু অধিকার সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ ৷ তবু পারিবারিক ও সামাজিকভাবে এর প্রচার এবং এ বিষয়ে সচেতনতার ক্ষেত্রে এখনও আমরা অনেক পিছনে রয়েছি ৷ যতটুকু সুযোগ আছে তা-ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, শিক্ষা, প্রচলিত কুপ্রথা ও আন্তরিকতার অভাবে পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছেনা ৷ |
| বাংলাদেশের কন্যাশিশুদের জীবনকে আরো নিরাপদ করতে, ভবিষ্যতকে সমতাপূর্ণ করতে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ও পাঠ্যসূচিতে কন্যাশিশুদের পূর্ণ মানব সন্তান হিসেবে বেড়ে উঠার সকল দিক যুক্ত করতে হবে ৷ আজকের একজন কন্যাশিশুই আগামী দিনের একজন পরিপূর্ণ নাগরিক ৷ তাই তার বিকাশের সকল প্রকার আয়োজন জীবনের শুরুতেই করতে হবে ৷ এই আয়োজন হতে হবে শিক্ষার কাঠামোগত দিক থেকে, আইনী ব্যবস্থা ও সাংস্কৃতিক চেতনাগত দিক থেকে, দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে৷ তার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে ৷ সবোর্পরি পরিবার, পিতামাতা, অভিভাবক, শিক্ষক তথা পুরো সমাজকে এক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে এগিয়ে আসতে হবে ৷ বাংলাদেশ সরকারকে শিশু অধিকার সনদ, নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপের সনদসমূহ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আরো আন্তরিক ও উদ্যোগী হতে হবে ৷ 'কন্যাশিশুরা পরিবার বা সমাজের বোঝা নয়, সম্পদ'-এই ভাবনা রাষ্ট্রীয়ভাবে গ্রহণ করতে হবে৷ পারিবারিক ও সামাজিকভাবেও গ্রহণ করতে হবে ৷ |
|
© 2005 The Hunger Project-Bangladesh. All rights reserved. |