| কন্যাশিশু দিবস ও তিনটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা | |
| কন্যাশিশু দিবস সংখ্যা |
উজ্জীবক বার্তা, বর্ষ-৩, সংখ্যা-১৭, সেপ্টেম্বর-২০০৪ |
|
অধ্যাপক (ডা:) তাহমিনা হোসেন সাবেক সচিব |
| ৩০ সেপ্টেম্বর, কন্যাশিশু দিবস ৷ সাম্প্রতিক সময়ে বেশ ঘটা করেই দেশব্যাপী এ দিবসটি পালন করা হয় ৷ সমাজে নারী পুরুষের মাঝে বিদ্যমান বৈষম্যগুলোর সূত্রপাত শিশুর জন্মলগ্ন থেকেই শুরু হয়- এ বিষয়টি নতুন করে আর সচেতন মহলের কাছে বিশ্লেষণ করে বোঝাবার প্রয়োজন নেই ৷ তবে একটু গভীরভাবে ভাবতে গেলে ব্যাপারটা দুঃখজনক বৈকি ৷ জন্মলগ্ন থেকে কন্যাশিশু যে বৈষম্যের শিকার হয় - তার সাথে জড়িত আর কেউ নয়- শিশুটিরই পিতামাতা, পরিবার পরিজন ৷ দুঃখজনক এ বাস্তবতা যদি কেবল সমাজের দরিদ্র, অশিক্ষিত বা অর্ধশিক্ষিত পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতো তাহলেও একটা কথা ছিলো ৷ তখন সমাজ হতে কেবল অশিক্ষা, দারিদ্র এসব দূর করার প্রচেষ্টা নেয়া যেতো এবং এগুলো দূর হবার সাথে সাথে এ সমস্যা দূর হয়ে যেতো ৷ কিন্তু বাস্তবে যে চিত্র - তাতে দেখা যায় কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য সমাজের শিক্ষিত, স্বচ্ছল পরিবারগুলোতেও রয়েছে ৷ কন্যাশিশুর প্রতি ব্যক্তি মানসের ছায়াই যেন প্রভাবিত করেছে সমাজমানসকে ৷ আর সে কারণেই ব্যক্তিমানস তথা সমাজমানসের পরিবর্তনে কন্যাশিশু দিবস পালনের যে প্রয়াস, যে দর্শন কাজ করছে তা যথাযথ বলেই আমি মনে করি ৷ |
| সমাজে নারী
পুরুষের মাঝে বিদ্যমান বৈষম্য, কাঙ্খিত
সমতা, সমঅধিকার, নারীর মানবাধিকার ইত্যাদি আরো অনেক বিষয় এ যাবত জাতীয়
ও আর্ন্তজাতিক
পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে
৷ নারীর
ভাগ্যোন্নয়নে একের পর এক অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪টি বিশ্ব সম্মেলন
৷ সর্বশেষ
বেইজিং সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ দলিল
Platform
For Action
এর দিক
নির্দেশনায় রাষ্ট্রসমূহ কাজ করছে৷ নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করার প্রয়াসে
রয়েছে জাতিসংঘের
Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination Against
Women (CEDAW)৷
বাংলাদেশের এসব গুরুত্বপূর্ণ সনদে স্বাক্ষর
করেছে
৷ সরকারী/বেসরকারী
পর্যায়ে রয়েছে সনদ বাস্তবায়নে গৃহীত বিভিন্ন কর্মকান্ড/কর্মসূচি
৷ রাষ্ট্রীয়
পর্যায়ে নারীর অবস্থানের
ক্ষেত্রে
ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে - একথা স্বীকার করতেই হবে
৷ রাষ্ট্রীয়
প্রশাসন থেকে শুরু
করে কর্মক্সেত্রের
বিভিন্ন পেশায় নারীর অংশগ্রহণও অনেক বেড়েছে
৷ কিন্তু
এতদসত্ত্বেও বৈষম্যের মূল যে জায়গা অর্থাত্ ব্যক্তি তথা 'সমাজমানস'
সেখানটায় পরিবর্তন কতটা এসেছে তা আমাকে প্রায়শঃই ভাবায়
৷ ব্যক্তিগত
ও পেশাগত জীবনের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সম্মুখীন হওয়া কিছু ঘটনা আমাকে
প্রশ্নতাড়িত করেছে
৷ সে সব
ঘটনা হয়তো বিচ্ছিন্ন ঘটনামাত্র মনে হতে পারে, কিন্তু ঘটনার বিশ্লেষণে
তাকে খাটো করে দেখার কোন অবকাশ নেই
৷ সে রকমই
তিনটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে নিয়ে আমার আজকের এই লেখা
৷ |
| পেশাগত জীবনে
সরকারী প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে সম্পৃক্ত হবার আগে একজন ডাক্তার হিসেবে,
পৃথিবীতে আগমনের অনেক ঘটনা অনেক কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে
৷ সে রকমই
একটি ঘটনা
৷ নিকটাত্মীয়ের
মধ্যেই এক দম্পত্তির আগেই দুটো মেয়ে রয়েছে
৷ তৃতীয়
সন্তানটিও যখন মেয়েই হলো- সমাজ তো অনেক পরের ব্যাপার, জন্মদাতা পিতার
কাছেও এ শিশুর
আগমন ছিলো এতটা অনাকাঙ্খিত
যে হতাশা ও ক্রোধের এক পর্যায়ে নবাগতাকে দেখাতো দূরের কথা, হাসপাতাল
থেকে চলে গিয়েছিলো সে
৷ কেবলমাত্র
তাঁর স্ত্রীর জন্যই নয়, গোটা সমাজের জন্যই এ ব্যথা ও লজ্জা রাখার জায়গা
কোথায়? এটা কি একজন শিক্ষিত
পিতার কাছে আশা করা যায়? এ
ক্ষেত্রে
গ্রামের অশিক্ষিত
দরিদ্র অনেক কন্যাসন্তানের পিতা ও এই শিক্ষিত
পিতার আচরণে মৌলিক কোন পার্থক্য আছে কি? অথচ কন্যা সন্তানের প্রতি এ
অনীহার আদৌ কোন কারণই নেই
৷ আমার সে
আত্মীয়ের কন্যাসন্তানটি লেখাপড়া করে জীবনে আজ সুপ্রতিষ্ঠিত
৷ একজন ছেলে
জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবার মাধ্যমে বাবা-মাকে যে তৃপ্তি, যে নিশ্চয়তার
আশ্বাস দেয়, এ মেয়েটির
ক্ষেত্রেও
তা প্রযোজ্য
৷ কন্যাসন্তান বলে
সে পিছিয়ে নেই
৷ কিন্তু এ
পৃথিবীতে তার আবির্ভাব ছিলো অনাকাঙ্খিত
৷ এ ঘটনাটির
সময়কাল
ছিলো ৭০ এর দশকের শুরুতে,
অথচ আজ এতগুলো বছর পরও কন্যাসন্তানের জন্মলগ্নের চিত্রে কোন পার্থক্য
আছে কি? বিশেষ করে তা যদি হয় পুত্র সন্তানের অনুপুস্থিতে, পর পর
কন্যাসন্তান জন্মের কোন ঘটনা
৷ আজও
সমাজকে
motivate
করতে হচ্ছে কন্যাসন্তানের সমঅধিকার এর বিষয়টিতে
৷ আর কত সময়
প্রয়োজন হবে এ সমাজমানসে পরিবর্তন আনার জন্য? |
| দ্বিতীয় যে
ঘটনাটি বলতে যাচ্ছি তা কয়েক বছর মাত্র আগের ঘটনা
৷
হৃদরোগজনিত জটিলতার কারণে আমি তখন বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের
CCU
তে রয়েছি
৷ প্রথম ধাক্কাটা
সামলে উঠার পরও শরীর মন দুইই দুর্বল
৷ ঔষধের
প্রভাবে আচ্ছন্নও বটে
৷ ঘুমের ঔষধ
খেয়েও খুব ভালোভাবে ঘুমাতে পারছিনা
৷ আধো
ঘুম-আধো জাগরণ - এর মাঝেই
CCU
এর ঠিক বাইরে খুব হৈ চৈ
শুনতে
পেলাম যা হবার কথা নয়
৷ অসুস্থতা
তথা তন্দ্রাচ্ছন্নতার কারণে বুঝতেও পারছি না কিসের এতো হৈ চৈ
৷ কিন্তু
এতটুকু মনে আছে যে, রাতের দীর্ঘ সময় ধরেই কতগুলো মানুষের উত্তপ্ত বাক
বিতন্ডা আমার কানে পৌঁছেছিলো
৷ পরদিন
একটু সুস্থ বোধ করলে - একজন ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করলাম আগের রাতের হৈ চৈ
এর কারণ কি? একজন ডাক্তার হবার কারণেই বোধ হয়
CCU
এর বাইরে হৈ চৈ - এর ঘটনা আমাকে আরও বেশি উত্কন্ঠিত করেছিলো
৷ যা
শুনলাম,
সেটা কি শুধুই
বিচ্ছিন্ন ঘটনা?
CCU-তে
আমার পাশেই রয়েছেন একজন
Brain
Haemorrhage
- এর রোগী
৷ অবস্থা
এতটাই জটিল যে রোগীর বাঁচার সম্ভবনা
ক্ষীণ
৷ উন্নত চিকিত্সার
জন্য তাকে মাদ্রাজ নেবার পরিকল্পনা চলছে
৷ আর ঘটনার
সূত্রপাত সেখানেই
৷ অসুস্থ
ভদ্রলোকের ২ টি মেয়ে রয়েছে যারা কলেজে পড়াশুনা
করছে ভদ্রলোকের কোন পুত্র সন্তান নেই
৷ যাওয়ার
প্রস্তুতি পর্বের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে বাক বিতন্ডা শুরু৷ রোগীর অবস্থা যেহেতু খুবই সংকটাপন্ন - মেয়ে দুটির মাতৃকূলের অনুরোধ: এ রোগীকে নিয়ে যাবার আগে তার সম্পত্তির বিষয়ে যেনো একটি সুরাহা করা হয় ৷ যাতে করে কোন কারণে রোগীর মৃত্যু হলে মেয়ে দুটির ভবিষ্যত্ অনিশ্চয়তার মাঝে না পড়ে ৷ কিন্তু এতে মেয়ের পিতৃকূলের তথা চাচাদের যারপরনাই আপত্তি ৷ রাতভর চেঁচামেচির কারণও এই বৈষয়িক জটিলতা ৷ যেহেতু মুসলিমদের ধর্মীয় বিধান মতে বাবার সম্পত্তিতে কন্যাসন্তানের অধিকার পুত্রের অর্ধেক, আবার পুত্রের অনুপুস্থিতিতে চাচা/চাচাতো ভাইও অংশীদার, সে কারণে পিতার অনুপস্থিতিতে কন্যাসন্তানের অবস্থান দুর্বল বৈকি ৷ কেবলমাত্র কন্যা হওয়ার কারণে তার ভবিষ্যত্ এতোটাই অনিশ্চিত যে প্রিয়জনের মৃত্যুর মূহুর্তেও তাকে ঘিরে চলে আপনজনদের বাকবিতন্ডা ৷ এ ক্ষেত্রে আইন প্রণয়ন/ আইনের সংশোধন যেমন জরুরী, তেমনি প্রয়োজন সমাজমানসের পরিবর্তন ৷ সচেতন শিক্ষিত সমাজও যখন কন্যাসন্তানের অধিকারের বিষয়ে সনাতন মানসিকতার পরিচয় দেয়, তখনই প্রশ্ন জাগে - সচেতন হতে আরো কত সময় দরকার? নাকি আমরা এ ক্ষেত্রে জেগে ঘুমাতে পছন্দ করছি? |
| তৃতীয় যে
ঘটনাটির কথা উল্লেখ করতে চাচ্ছি তা হলো, স্থানীয় সরকার পর্যায়ে সংরক্ষিত
আসনে নির্বাচিত মহিলা কমিশনারদের দায়িত্ব বন্টনের
ক্ষেত্রে
সমান ক্ষমতা
প্রদানের বিষয়ে আদালতের রায়ে মহিলা কমিশনারদের জয়
৷ মহিলা
কমিশনারদের জয় হয়েছে, কারণ আদালত সাংবিধানিক বিধান সমুন্নত রেখে ন্যায়
প্রতিষ্ঠিত করেছে
৷ বিষয়টি
নিঃসন্দেহে চারপাশের অনেক হতাশার মাঝেও আলোকিত ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়,
মনকে আশান্বিত করে, সামনে এগুবার প্রেরণা যোগায়
৷ কিন্তু
প্রশ্ন থেকে যায় স্থানীয় সরকার বিভাগের বিতর্কিত সেই সরকারী আদেশটি
নিয়ে, যা ছিলো কমিশনারদের মতা বন্টনের
ক্ষেত্রে
সংরক্ষিত
আসনে নির্বাচিত মহিলা কমিশনারদের প্রতি স্পষ্টতঃই বৈষম্যমূলক
৷ সরকারী সে
আদেশটিতে বলা হয়, কেবলমাত্র সাধারণ আসন হতে নির্বাচিত কমিশনারগণ সিটি
কর্পোরেশনের আইন শৃঙ্খলা
রক্ষা,
স্বাস্থ্য রক্ষা,
জন্ম-মৃত্যু
নিবন্ধিকরণ, উত্তরাধিকার, জাতীয়তা, চারিত্রিক সনদ দেয়ার মতা রাখবেন
৷ অর্থাত্
উল্লিখত
ক্ষেত্রগুলোতে
সংরক্ষিত
আসনে নির্বাচিত মহিলা কমিশনারদের কোন
ক্ষমতা
থাকবে না
৷ এ আদেশের বৈধতা
চ্যালেঞ্জ করে ১০ জন মহিলা কমিশনার রিট আবেদন দাখিল করলে, আদালতের রায়ে
তাদের ন্যায়সঙ্গত দাবী প্রতিষ্ঠিত হয়৷ সংরক্ষিত
আসনে নির্বাচিত নারী কমিশনারদের
কর্তৃত্ব,
ক্ষমতা
এবং কর্তব্য সাধারণ আসনে নির্বাচিত কমিশনারদের সমান হবে বলে আদালত রায়
দেন
৷ আদালতের রায়ে
আমরা খুশী, আশাবাদী সন্দেহ নেই
৷ কিন্তু
প্রশ্ন হলো, আদালত পর্যন্ত যেতে হলো কেন? |
| নারীর রাজনৈতিক
ক্ষমতায়ন
নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে
স্থানীয় সরকার পর্যায়ে মহিলা কমিশনার তথা সদস্যদের জন্য আসন সংরণ ও
অংশগ্রহণ নারী সমাজের অধিকার অর্জনের
ক্ষেত্রে
এক মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত
৷ তাহলে
নির্বাচিত মহিলা কমিশনারদের
ক্ষমতা
প্রদানের ক্ষেত্রে
এ বৈষম্য কেন? বৈষম্যমূলক এ অবস্থান নিয়ে জনগণের সেবায় সমানভাবে
দায়িত্ব পালনতো তাদের পক্ষে
সম্ভব
নয়ই, উপরন্তু বিষয়টি তাদের মর্যাদার উপর আঘাত
৷ আদালত যে
সাংবিধানিক বিধানসমূহের অবতারণা করে ন্যায়ের পক্ষে
রায় দিল -
সে বিধানগুলো তো সরকারের ঐ মন্ত্রাণালয়টিরও জানা ছিল
৷
এতদসত্ত্বেও সংবিধান পরিপন্থী অবস্থানে গিয়ে এমন একটি সরকারী আদেশ জারি
হলো কিভাবে? এখানে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট
মন্ত্রণালয়টির সংশ্লিষ্ট
ব্যক্তিবর্গের মধ্যে কারো কারো নেতিবাচক ব্যক্তিমানস কাজ করেছে, যার
প্রতিফলন ঘটেছে আদেশটিতে ফলশ্রুতিতে মূলতঃ সরকারকেই বিব্রত হতে হলো
৷ ৩০ সেপ্টেম্বর কন্যাশিশু দিবসকে সামনে রেখে বিংশ শতাব্দীর ষাটের দশক থেকে শুরু করে একবিংশ শতাব্দীর এ সময় পর্যন্ত ঘটে যাওয়া বিচ্ছিন্ন তিনটি ঘটনা মনে পড়েছিলো এগুলো আমাকে প্রায়শঃই প্রশ্নের মুখোমুখি করে ৷ এগুলো কি শুধুই বিচ্ছিন্ন ঘটনা? নাকি ঘটনা পরমপরায় এদের মাঝে রয়েছে এক অদৃশ্য যোগসূত্র? চারপাশে ঘটে যাওয়া এমন হাজারো উদাহরণ বিচ্ছিন্ন ঘটনা হতে পারে না ৷ এগুলো মূলতঃ পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার আদলে গঠিত সমাজ মানসে নারীকে দুর্বলতর অবস্থানে রাখার এক নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা ৷ এ ধারার অবসানে রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রয়াস যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন ব্যক্তিজীবনেও এর অনুসরণ ৷ নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রয়াসে প্রণীত বিভিন্ন সনদ/সংবিধানিক আইন/বিধান ইত্যাদির সাথে আমাদের কাজের যেন অমিল না হয় ৷ নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার সব গুরুত্বপূর্ণ দলিলের আলোকেই যেন আমাদের ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনের গতিধারা পরিচালিত হয় ৷ তাহলে আগামী প্রজন্মের কন্যাসন্তানদের মানবাধিকারের প্রশ্নে আলাদা করে কোন দিবস পালনের প্রয়োজন হবে না - যেমনভাবে পুত্র সন্তানের জন্য প্রয়োজন হয় না কোন দিবস পালনের ৷ |
|
© 2005 The Hunger Project-Bangladesh. All rights reserved. |