|
সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা, নারীকে দেবে সমতা
দেশব্যাপী আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০০৬ উদযাপিত

প্রতিটি বছর ঘুরে হাজির হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস
৷ নারীরা তাদের গুটানো পাখা মেলার সুযোগ পায়
৷ প্রতিবছরই এই দিবসকে কেন্দ্র করে নারীর অন্তর্জগত নাড়া খায়, একটু একটু পরিবর্তিত হয়
৷ অন্দরমহলের বন্দী নারী কিছুটা
বহির্মুখী হয়, কিছুটা অগ্রসর হয় ৷ আর অধিকার সচেতন নারীদের পদভারে মুখরিত হয়ে ওঠে প্রতিবছরের ৮ মার্চ ৷ বর্তমান বছরটি অর্থাত্ ২০০৬ সালও এর ব্যতিক্রম নয় ৷ দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ এর যাবতীয় কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয় নারীকে অগ্রাধিকার দিয়ে ৷ তারই ধারাবাহিকতায় এই স্বেচ্ছাব্রতী সংস্থা এবং নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সক্রিয় প্লাটফর্ম 'জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম' এককভাবে এবং বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যৌথভাবে ব্যাপক উত্সাহ উদ্দীপনার মাধ্যমে উদ্যাপন করেছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০০৬ ৷ এবারে নারী দিবস
উদযাপনের প্রতিপাদ্যটি ছিল "সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা, নারীকে দেবে সমতা" ৷ পরিবার থেকে রাষ্ট্র - সর্বস্তরের সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবং যুগ যুগ ধরে সমাজে বিদ্যমান নারী-পুরুষ বৈষম্যকে উপড়ে ফেলে একটি সমতার সমাজ নির্মাণের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে নানাবিধ কর্মসূচির মাধ্যমে এবার দিবসটি উদ্যাপিত হয় ৷
মার্চ ৭, বিকেল ৪.০০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পাদদেশে এসিড সারভাইভর্স ফাউন্ডেশন, জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট, ব্র্যাক ও কেয়ার-বাংলাদেশ এর সম্মিলিত উদ্যোগে নারীর প্রতি এসিড সহিংসতার বিরুদ্ধে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় ৷ প্রায় পাঁচ হাজার নারী-পুরুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গন ৷ এ বিশাল সমাবেশের উদ্দেশ্য ছিল এসিড সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা ৷ উক্ত অনুষ্ঠানে সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, লেখক, খেলোয়াড়, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ত্ব, আইনজীবী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সংহতি প্রকাশ করেন ৷ বক্তারা বলেন, বিশ্ব আজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে ৷ বিশ্বের অন্যান্য দেশে নারীরা অনেক দূর এগিয়ে গেলেও আমাদের দেশের নারীরা এখনো অনেক পিছনে অবস্থান করছে ৷ প্রতি মুহূর্তে নারীরা বিভিন্ন সহিংসতার শিকার হচ্ছে ৷ শিকার হচ্ছে এসিড আক্রমণের মতো ভয়াবহ নির্যাতনের ৷ প্রতিদিন অগণিত নারী ও কন্যাশিশু এই ঘৃণ্য আক্রমণের শিকার হয়ে হারাচ্ছে তাদের স্বপ্ন, সম্ভাবনা এমনকি জীবন পর্যন্ত ৷ তারা বলেন, সমাজ, রাষ্ট্র থেকে উপড়ে ফেলতে হবে এই জঘন্য অপরাধকে ৷ গড়ে তুলতে হবে সামাজিক প্রতিরোধ ৷ এ ক্ষেত্রে পুরুষদেরকে এগিয়ে আসতে হবে৷ তাদেরকেই দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে, যাতে এসিড আক্রমনে আর একটি মুখও ঝলসে না যায়৷ ৭ মার্চের পড়ন্ত বিকেলের অন্ধকারে আলোর প্রদীপ জ্বালিয়ে সমবেত সকল নারী পুরুষের সম্মিলিত কন্ঠস্বরে ভেসে উঠেছিল "আজ পুরুষের অঙ্গীকার, এসিড নিক্ষেপ নয় আর" এই প্রত্যয়৷ অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বার বার উচ্চারিত হওয়ার মধ্য দিয়ে সেদিনের শহীদ মিনার প্রাঙ্গন মুখরিত ছিল ৷
মার্চ ৮, জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম এবং প্ল্যান বাংলাদেশ ও সহযোগী সংস্থাসমূহ-এর যৌথ উদ্যোগে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় ৷ দেড় সহস্রাধিক নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য র্যালিটি শিশু একাডেমী থেকে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয় ৷ এরপর প্রেসক্লাব মিলনায়নে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ৷ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ ৷ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্ল্যান-বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর এডওয়ার্ড থমাস এস্পে, অধ্যাপক লতিফা আকন্দ, অধ্যাপক হালিমা খাতুন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক নীলুফার বেগম ও দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. বদিউল আলম মজুমদার ৷

প্রতিবছরের মত এ বছরও রমনা পার্কের গাবতলায় ছায়াঘেরা উন্মুক্ত পরিবেশে জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম-এর উদ্যোগে আয়োজন করা হয় আলোচনা সভা এবং সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান ৷ সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ, মাননীয় সংসদ সদস্য কাজী শাহেরা আনোয়ারা শাম্মী শের, অধ্যাপক লতিফা আকন্দ, ড. হালিমা খাতুন এবং ফোরামের বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যবৃন্দ৷ সভাপতিত্ব করেন উপস্থিত ছিলেন ড. বদিউল আলম মজুমদার ৷ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন উপমা দাশগুপ্ত এবং রফিকুল ইসলাম সরকার ৷

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফোরামের সচিব নাছিমা আক্তার জলি ৷ স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ৯৫ বছর ধরে আমরা একইভাবে নারীদের অধিকার আদায়ের জন্য নারী দিবসসহ বছরব্যাপী আন্দোলন করে আসছি ৷ এই দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে নারীদের অধিকার কতটুকু প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা আজ বিশ্লেষণ করে দেখা প্রয়োজন ৷ তিনি আরও বলেন, আমরা হতাশ নই, আমরা আশাবাদী ৷ অব্যাহত সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় একদিন নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে
৷ সমঅধিকারের বলে বলীয়ান হয়ে এগিয়ে যাবে নারীরা, নেতৃত্ব দেবে সমগ্র বিশ্বকে ৷ এজন্য আমাদেরকে আরও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে ৷ আলোচনা সভায় উপস্থিত সকলকে তিনি জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানান ৷
আলোচনা সভা শেষে রোকেয়া স্বর্ণ পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ রোকেয়া মান্নান এবং সমাজসেবী শ্রীমতি সাহাকে ফোরামের পক্ষ থেকে সন্মাননা প্রদান করা হয় ৷ সম্মাননা গ্রহণের পর রোকেয়া মান্নান বলেন, ছোটবেলা থেকেই মা-বাবা আলাদাভাবে ভাবতে শিখিয়েছেন ছেলে ও মেয়ে কীভাবে ভবিষ্যত্ জীবনের জন্য তৈরি হবে ৷ বুঝিয়েছেন গৃহকর্মের সব দায়িত্ব মা এবং কন্যাশিশুর উপর ৷ ছেলে এবং বাবা সাহায্যের হাত বাড়ান না ৷ বাড়ান সুবিধা ভোগের হাত ৷ সুতরাং 'গোড়ায় গলদ' থেকে রেহাই পেতে হলে ছেলে এবং মেয়েকে আলাদা করে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে ৷ কাজটি শুরু করতে হবে পরিবার থেকেই ৷
শ্রীমতি সাহার অনুপস্থিতিতে তাঁর পক্ষ থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেন ভারতেশ্বরী হোমস-এর শিক্ষক হেনা সুলতানা ৷ তিনি শ্রীমতি সাহা'র পক্ষ থেকে এডভোকেসী ফোরামের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ৷ দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা যে চেতনা নিয়ে মানুষের সেবার জন্য নিজেকে উত্সর্গ করেছিলেন সবার প্রতি তিনি সেই চেতনায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ৷
অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ বলেন, আমি আমার ব্যক্তি জীবনে নারীর মূল্যবোধের চর্চায় প্রভাবিত হয়েছি ৷ একজন মানুষের জীবনে নারীর যে স্নেহময় স্পর্শ তাকে সমৃদ্ধ করে এটাকে স্বীকৃতি দিতে হবে ৷ আজকে যে নারীর ক্ষমতায়নের কথা উঠছে তা আমাদের সমাজের সর্বস্তরে আমরা সঞ্চারিত করতে পারি নি ৷ জাতিকে এগিয়ে নিতে হলে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে ৷
সংসদ সদস্য কাজী শাহেরা শাম্মী শের বলেন, পূর্বের তুলনায় বর্তমানে নারীরা অনেকটা এগিয়ে যাচ্ছে ৷ তারপরও তারা সামাজিক, পারিবারিক ও রাজনৈতিকভাবে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে ৷ এজন্য পরিবার থেকে রাষ্ট্র সকল স্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে ৷
অধ্যাপক লতিফা আকন্দ বলেন, নারী নির্যাতন রোধ করতে এবং নিজেদের অধিকার আদায় করতে নারীদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে, জেগে উঠতে হবে, সংগঠিত হয়ে নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে ৷ যুদ্ধ করেই এই সমাজে নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হবে নারীদের ৷
ড. হালিমা খাতুন এদেশের নারীদের জীবন-সংগ্রাম নিয়ে নিজের লেখা একটি কবিতা পাঠ করেন ৷ তিনি নারীর অবস্থা ও অবস্থান পরিবর্তনের কাজে সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান ৷
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমরা সবাই নারীর ক্ষমতায়, নারীর অধিকার এবং নারীর সমতায় বিশ্বাস করি ৷ আমরা পুরুষরাই নারীর অধিকার ছিনতাই করেছি, আমরা তাদেরকে পিছনে রেখেছি ৷ তাই পুরুষদের থেকেই পরিবর্তনের কাজ শুরু করা দরকার ৷ নারী অধিকার সমুন্নত করা দরকার, অধিকার ফিরিয়ে দেয়া দরকার ৷ নারী-পুরুষ বৈষম্য দূর করার মাধ্যমে আমরা একটি সমৃদ্ধ দেশ গঠন করতে সক্ষম হব ৷
এছাড়াও ফোরামের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন সিসিডিবি'র ডা. আফরোজ মহল,
ডাব্লিওবিবি'র সৈয়দ মাহবুবুল আলম, মায়ের ডাক-এর আলমাস পারভীন প্রমূখ ৷ ফোরামের সদস্য সংগঠন হিসেবে এই আলোচনা সভায় সংহতি প্রকাশ করে অমি, অপরাজিতা নারী সংগঠন, আস্থা, ইউএসটি, ইউএসসি কানাডা বাংলাদেশ, ইউসেপ-বাংলাদেশ, ইভেন্টফুল বাংলাদেশ সোসাইটি, উদ্দীপক, উদ্দীপন, এএসডি, এ্যাকশন এইড বাংলাদেশ, এসকেপিআর, এসিড সারভাইভর্স ফাউন্ডেশন, এসো মিলে করি, ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশ, ওয়াইডব্লিওসিএ অব বাংলাদেশ, কারিতাস-বাংলাদেশ, কোডার, টিএমএসএস, ডাব্লিউএসিসি, নারী মৈত্রী, প্রাকৃতজন, গুড নেইবারস্ বাংলাদেশ, পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র, পুষ্পনদী, ফর ইউ ফর এভার, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি, মায়ের ডাক, মানবী, যুবক, সঞ্চয়িতা সমবায় সমিতি, স্যাপ-বাংলাদেশ, সিসিডিবি, স্টেপস্ টুওয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট, সমতা, সেলফ স্যালভেশন বাংলাদেশ, সিউর, হীড বাংলাদেশ, পিএসটিসি, প্ল্যান (নর্থ), প্ল্যান (সাউথ), আনন্দধারা বহুমূখী সমবায় সমিতি, চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম, একতা দুঃস্থ সমবায় সমিতি, কদমতলী বহুমূখী সমবায় সমিতি, তরুণ ঐক্যজোট, বেগম বদরুন্নেসা সরকারী মহিলা কলেজ, দারিদ্র্য সমাজ সেবা সংঘ, গ্রামীণ আত্ম-উন্নয়ন সেন্টার এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর উজ্জীবক ও ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারের সদস্যবৃন্দ ৷

দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশের উদ্যোগে নারী দিবস উপলক্ষে এ বছর প্রথমবারের মতো নারীদের সংগ্রাম ও সফলতা নিয়ে একটি বিশেষ সংকলন প্রকাশিত হয়েছে ৷ 'নারীর কথা' শিরোনামের এ প্রকাশনায় দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর নারী উন্নয়ন দৃষ্টিভঙ্গী ও কর্মপ্রয়াস বিষয়ক লেখা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বেশ কয়েকজন লড়াকু নারীর জীবনের কথা গ্রন্থীত হয়েছে ৷
নারী দিবস উদযাপনের আয়োজনগুলোকে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম গুরুত্বের সাথে জাতির কাছে তুলে ধরেছে ৷ ইলেকট্রনিক প্রচার মাধ্যম এনটিভি, এটিএন বাংলা, বাংলা ভিশন, চ্যানেল আই, ৩৩টি জাতীয় এবং প্রায় শতাধিক স্থানীয় পত্রিকায় বিভিন্ন সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে ৷ দেশব্যাপী
উদযাপিত বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যদিয়ে নারীর জন্য সমতার সুন্দর ভবিষ্যত্
বিনির্মান আজ যেন একটি বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে ৷ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে সারা দেশে এ আন্দোলনের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৫ লক্ষাধিক বিভিন্ন পেশা, বর্ণ, গোত্রের নারী-পুরুষ ও কিশোরী সম্পৃক্ত হয়েছে ৷

উল্লেখ্য যে, প্রতিবছরের মত এ বছরও আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০০৬ উপলক্ষে জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশের নেতৃত্বে চ্যাপ্টার কমিটি ও স্থানীয় উজ্জীবকদের আয়োজনে দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় ৷ সমগ্র বাংলাদেশে মোট ৫টি অঞ্চলের ৫৩১টি স্থানে এ দিবস
উদযাপন করা হয় ৷ প্রায় ৩ লক্ষ নারী-পুরুষ প্রত্যক্ষভাবে এই দিবস উদ্যাপনের সঙ্গে যুক্ত হয় ৷ কেন্দ্রীয়ভাবে নারী দিবস উপলক্ষে লিফলেট, পোস্টার প্রকাশ এবং সকলের মধ্যে বিতরণ করা হয় ৷ সারা দেশে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের তথ্য নিচে তুলে ধরা হল:
|
অঞ্চলের নাম
|
স্থানের সংখ্যা
|
|
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল |
৫০টি
|
|
দক্ষিণাঞ্চল
|
১৪৮টি
|
|
উত্তরাঞ্চল
|
১৫৬টি
|
|
পূর্বাঞ্চল
|
১০১টি |
|
ঢাকা |
১৬টি
|
|
ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার
|
৬০টি
|
|
মোট |
৫৩১টি
|
নারী দিবস উপলক্ষে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে যে সকল উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বিতর্ক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, র্যালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক, বিনামূল্যে নারী ও শিশুদের চিকিত্সা প্রদান ইত্যাদি ৷ আয়োজনগুলোতে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বার, 'সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন' এর সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী, সমাজসেবক, চিকিত্সক, উজ্জীবকসহ সর্বোপরি দেশের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন ৷ সর্বস্তরে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাবার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করার মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানগুলো সম্পন্ন হয় ৷ নিচে অঞ্চলভিত্তিক নারী দিবস পালনের কয়েকটি আয়োজনের তথ্য সংক্ষিপ্তাকারে উল্লেখ করা হলো:
ঢাকা অঞ্চল
ঢাকার খিলগাঁও, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর এবং নারায়ণগঞ্জে বিপুল উত্সাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে নারী দিবস পালিত হয় ৷ এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অনুষ্ঠানটি ৷ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম সিদ্ধিরগঞ্জ শাখার উদ্যোগে ৭ মার্চ নারায়ণগঞ্জে র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় ৷ র্যালিতে পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিল ৷ আলোচনা সভায় বক্তারা নারীদের সমঅধিকার দাবি করে বলেন, একজন নারী সারাদিন পুরুষের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করে ৷ অথচ পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পুরুষরা একাই নেয় ৷ নারীকে পদে পদে হতে হয় অবহেলিত ৷ কিন্তু যুগে যুগে এটি প্রমানিত যে, নারীরাও দেশ, জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে ৷

অনুষ্ঠানে দু'জন কৃতি নারীকে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য সম্মাননা পদক প্রদান করা হয় ৷ পদকপ্রাপ্তরা হলেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সাবেক সম্পাদিকা হাজেরা বেগম ও বিশিষ্ট কবি, লেখক, শিক্ষিকা শাহিদা ওসমান ৷
উত্তর অঞ্চল
উত্তর অঞ্চলের কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, সৈয়দপুর, রংপুর, গাইবান্ধা, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন স্থানে উজ্জীবকরা নারী দিবস
উদযাপন করে ৷ রংপুর জেলা সদরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে 'সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক' রংপুর জেলা কমিটির উদ্যোগে দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করে ৷ দিনের শুরুতে একটি র্যালির আয়োজন করা হয় ৷ র্যালিতে প্রায় দেড় সহস্রাধিক বিভিন্ন পেশার নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন ৷ বিকেলে নারী দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে ৩ শতাধিক নারীর উপস্থিতিতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় ৷ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বেগম রোকেয়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক রেখা রানী সরকার ৷ এছাড়াও 'সুজন'-এর উদ্যোগে ৪০০ জন নারী ও শিশুকে বিনামূল্যে চিকিত্সাপত্র এবং ঔষধ সরবরাহ করা হয় ৷ চিকিত্সা সেবার এ মহত্ কার্যক্রমে রংপুর মেডিকেল কলেজের ১২ জন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিয়েছেন ৷ ডা. খালেকুজ্জামান বাদলের নেতৃত্বে গাইনী, চক্ষু বিশেষজ্ঞ, শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা উপস্থিত ছিলেন ৷ এ কার্যক্রমে সার্বিক সহায়তা করেছেন ডা. নাজমুল হক এবং মফিজুল ইসলাম মান্টু ৷ ঐদিন বিকেল ৩.০০টায় একটি বর্ণাঢ্য র্যালি প্রেসক্লাব থেকে শহীদ মিনারে এসে শেষ হয় ৷
বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন আলো-বাংলাদেশ এবং জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম-দিনাজপুর এর সহযোগিতায় চিরিরবন্দর উপজেলায় ৩ নং ফতেজংপুর ইউনিয়নের বড় হাশিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে নারী দিবস উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় ৷ সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন ইউপি চেয়ারম্যান জনাব মোঃ জমসেদ আলী মাস্টার ৷ র্যালিতে প্রায় চার শতাধিক নারী পুরুষ অংশগ্রহণ করে ৷ ঐদিন বিকেল ৩.০০টায় হাশিমপুর মডেল কিন্ডার গার্টেন এ একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় ৷ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ দেলোয়ার হোসেন, নির্বাহী পরিচালক, আলো-বাংলাদেশ ৷ তিনি বলেন নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চাকুরি, শ্রমের বৈষম্য দূর করার মাধ্যমে পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও তাদের প্রতি শারীরিক, মানসিকসহ সব ধরনের বৈষম্য দূর করে সমাজ ও জাতি গঠনে ব্রতী হওয়া প্রয়োজন ৷
পূর্ব অঞ্চল
পূর্বাঞ্চলের নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর, ময়মনসিংহ এবং টাঙ্গাইল জেলাসহ বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন এবং প্রত্যন্ত গ্রামে উজ্জীবক এবং স্বেচ্ছাসেবী প্রশিক্ষকদের আয়োজনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয় ৷ "সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা, নারীকে দেবে সমতা" - এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলায় এক ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয় ৷ 'করিমগঞ্জ উপজেলা উজ্জীবক ফোরাম' প্রথম র্যালি বের করে, এরপর একে একে মহিলা পরিষদ, কিন্ডারগার্টেন সমন্বয় কমিটি, জঙ্গলবাড়ী মহিলা কলেজ, অগ্রদূত মহিলা সমিতি, নয়া-কান্দি মহিলা উন্নয়ন সমিতি, আশুতিয়াপাড়া মহিলা সমিতি, চাইল্ড কেয়ার স্কুল, সী বার্ড স্কুল, কিরাটন ফাজিল মাদ্রাসার র্যালি এসে মিলিত হয় উজ্জীবকদের র্যালির সাথে ৷ করিমগঞ্জ যেন জনসমুদ্রে পরিণত হয় সে সময় ৷ সারা শহর প্রদক্ষিণ করে র্যালিটি সদর ইউপি মিলনায়তনে শেষ হয় ৷ র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন থানা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.কে.এম. রুহুল আমিন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রেসক্লাব সভাপতি, স্কুল-কলেজের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ ৷ র্যালির পর দিবসের
তাত্পর্য নিয়ে আলোচনা, কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় ৷ করিমগঞ্জের এই আয়োজন চলে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ৷

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতেও এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় ৷ কটিয়াদী উপজেলা জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম ও স্থানীয় উজ্জীবকবৃন্দ যৌথ ভাবে এ আয়োজন করে ৷ সকাল ১০টায় কটিয়াদী আদর্শ বিদ্যানিকেতন থেকে এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে গোটা কটিয়াদী পৌরসভা প্রদক্ষিণ করে ৷ এ র্যালিতে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ও মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবকসহ সমাজের সকল স্তরের নারী-পুরুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে ৷ র্যালি শেষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় ৷ এরপর কবিতা আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তৃতা, নারী দিবস উপলক্ষে কবিতা লেখা প্রতিযোগিতা এবং বিশেষ বিতর্ক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় ৷ শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপজেলার ৫টি শিল্পী গোষ্ঠীর শিল্পীগণ এক মঞ্চে নারী দিবসের উপর স্বরচিত গান পরিবেশন করেন ৷ এ অনুষ্ঠানটি সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উত্সাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করে ৷
দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় ও জাতীয় কন্যাশিশু এ্যাডভোকেসি ফোরাম, 'সুজন', স্থানীয় উজ্জীবকবৃন্দ ও ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যেগে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে টাঙ্গাইলের সর্বত্র আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়েছে ৷ কর্মসূচিগুলোতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সব পেশাজীবী নারী পুরুষের অংশগ্রহণ ছিল ব্যাপক মাত্রায় ৷ টাঙ্গাইল জেলা সদরে এক বর্ণাঢ্য
র্যালির আয়োজন করা হয়, যা পুরো শহর প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় বেসরকারি সংস্থাসমূহ
র্যালির
সাথে যোগ দেয় ৷
র্যালি শেষ করে প্রথম আলোর টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধির
কার্যালয়ে আয়োজন করা হয় এক আলোচনা সভার ৷ প্রথম আলো বন্ধুসভা'র সভাপতি তানিয়া বখশ'র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন জাতীয় কন্যাশিশু এ্যাডভোকেসি ফোরাম টাঙ্গাইলের সদস্য সচিব ও 'স্মরণী টাঙ্গাইল'-এর নির্বাহী পরিচালক মঞ্জু রাণী প্রামাণিক ৷ অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মানব প্রগতি সংস্থা'র মাহমুদা শেলী, নারী নেত্রী মিনু আনাহলী, পিকেইউএস-এর রাশেদুল হাসান সিদ্দিকী, প্রথম আলো বন্ধুসভার সম্পাদক সুবোধ গোপ, সদস্য উর্মি খান প্রমুখ ৷ বক্তারা ৮ মার্চের
তাত্পর্য তুলে ধরার পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টি শুধু আলোচনায় না রেখে বাস্তবায়নের দাবি জানান ৷ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ভারতেশ্বরী হোমসের শিক্ষক-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে নারী দিবস উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় ৷
দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চল
দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্রগ্রাম, সিলেট, নোয়াখালী, ফেনী, চাঁদপুর এবং কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন স্থানে আন্তর্জাতিক নারী দিবস
উদযাপিত হয় ৷ এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আলোচনা সভা ৷ ৮ মার্চ বিকেল ৫.০০টায় দি আলাউদ্দীন সঙ্গীতাঙ্গনে জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম আয়োজিত এ আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নারী নেত্রী নন্দিতা গুহ, রাজনীতিবিদ আল মামুন সরকার, কবি আব্দুল মান্নান সরকার, অধ্যাপক কাজী মজিবুর রহমান, ডা. মাহবুব হোসেন এবং কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার সদস্য সচিব তাসলিমা সুলতানা নিশাত ৷ আলোচনা সভায় বক্তাগণ বলেন, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক বৈষম্য দূর করতে পারলেই নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে ৷ আলোচনা সভা শেষে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় ৷ এছাড়া চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলায় পাঁচ শতাধিক নারীর অংশগ্রহণে একটি র্যালি ও আলোচনা সভা ৷

জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম কুমিল্লা জেলা শাখা এবং আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদ্যাপন কমিটি'র উদ্যোগে কুমিল্লা জেলায় নারী দিবস পালিত হয় ৷ এ উপলক্ষে সহস্রাধিক মানুষের অংশগ্রহণে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় ৷
র্যালি কুমিল্লা টাউন হল থেকে জেলা প্রশাসকের
কার্যালয় ও পুলিশ লাইন হয়ে প্রায় তিন কি.মি. রাস্তা প্রদক্ষিণ করে আবার টাউন হলে ফিরে আসে ৷
র্যালি শেষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ৷ সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট চিকিত্সাবিদ ও সমাজকর্মী ডা. যোবায়দা হান্নান ৷ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ফেরদৌস আক্তার ওয়াহিদা, জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম
কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি পাপড়ি বসু এবং নারী দিবস উদযাপন কমিটির আহবায়ক ও স্থানীয় সংগঠন 'দৃষ্টি'র পরিচালক শারমিন কাদেরসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্থানীয় উজ্জীবক ৷ আলোচনা সভায় জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম কুমিল্লা জেলা শাখার সদস্যগণ সিদ্ধান্ত নেন প্রতি বছর তারা ৫ জন প্রতিবন্ধী নারীকে দক্ষতাবৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মকর্মসংস্থান করতে সহায়তা করবেন ৷
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় স্থানীয় এনজিও ফাউন্ডেশন এবং পৌরসভার চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস
উদযাপিত হয় ৷ এতে স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন ৷ এবারই প্রথমবারের মতো উপজেলা সদরে এতটা ব্যাপক আয়োজনে নারী দিবস পালিত হলো ৷ আয়োজনে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত ৷ প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে একটি র্যালি পরিচালনার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয় ৷ র্যালিটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে অডিটরিয়ামে এসে শেষ হয় ৷ সেখানে নারী দিবসের গুরুত্ব বিষয়ক একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় ৷ সব শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাটিকার আয়োজন করা হয় ৷ অনুষ্ঠান দু'টিতে সভাপতিত্ব করেন সীতাকুণ্ড পৌরসভার চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ৷ প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যথাক্রমে 'ফর ইউ ফর এভার (ফাইফে)'-এর চেয়ারপার্সন ও সার্ক মহিলা এডভোকেসি গ্রুপ-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি উজ্জীবক রেহানা সিদ্দিকী ও সীতাকুণ্ড এনজিও ফাউন্ডেশনের সভাপতি মঞ্জুর হোসেন ভূঁইয়া ৷
দক্ষিণ অঞ্চল
দক্ষিণ অঞ্চলের সাতক্ষীরা, যশোর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ, বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, বরগুনা, খুলনা, বাগেরহাট এবং ভোলা জেলায় জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম, সুজন, উজ্জীবক এবং ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারের সদস্যরা নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে নারী দিবস পালন করে৷ কর্মসূচিগুলোতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পেশাজীবী নারী-পুরুষের অংশগ্রহণ ছিল ব্যাপক মাত্রায় ৷ সাতক্ষীরা জেলার সখীপুরে জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের সহযোগিতায় 'আশার আলো' সংগঠনের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হয় ৷ সকাল ১০.০০টায় বিশ্ব নারী দিবসের এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় ৷ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেল্লাল হোসেন এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন আশার আলো'র নির্বাহী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আজাদ ৷

প্রধান অতিথি বেল্লাল হোসেন বলেন, একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হলে, প্রতিটি উন্নয়নের ক্ষেত্রে নারীকে অগ্রাধিকার দিতে হবে ৷ আজ নারীরা যৌতুক, বাল্যবিবাহ, এসিড সন্ত্রাসসহ পারিশ্রমিকের বৈষম্যের শিকার হচ্ছে ৷ আজ সময় এসেছে নারীদের মূল্যায়নের ৷ আমরা যদি নারীদের সঠিক মূল্যায়ন না করি তাহলে আমরা সভ্যতার চলার পথ থেকে পিছিয়ে পড়বো ৷ সরকারের পাশাপাশি নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সুশীল সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন ৷
যশোর বাঘারপাড়ায় এক বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়, যা পুরো শহর প্রদক্ষিণ করে ৷ র্যালিতে চার শতাধিক নারী ও শতাধিক পুরুষ অংশগ্রহণ করে ৷ র্যালি আয়োজনে সহায়তা করে জাতীয় কন্যাশিশু এ্যাডভোকেসি ফোরাম ও প্ল্যান-বাংলাদেশ ৷ র্যালি বাঘারপাড়া মহিলা কলেজ থেকে শুরু করে উপজেলা চত্বরে গিয়ে আবার কলেজে ফিরে আসে ৷ র্যালি শেষে শুরু হয় আলোচনা সভা ৷ সভায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ মোঃ আজগর আলী ৷ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জহুরুল হক ৷ অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন কলেজের শিক্ষক ও নারী সংগঠনের প্রতিনিধিগণ ৷ প্রত্যেকেই ৮ মার্চের তাত্পর্য তুলে ধরার পাশাপাশি নারী ক্ষমতায়নের বিষয়টি শুধু আলোচনায় না রেখে বাস্তবায়নের দাবি জানান ৷ এরপর অনুষ্ঠিত হয় বির্তক প্রতিযোগিতা ৷ অনুষ্ঠান শেষে নারীর
উন্নয়নে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক আলোচনা আ |