শিক্ষা

জ্জীবক বার্তা, বর্ষ-, সংখ্যা-২৬, ফেব্রুয়ারী-মার্চ ২০০৬

 

'শিক্ষা সমাবেশে' নিজেদের আলোকিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করলো ভিতরবন্দ ইউনিয়নবাসী
 

'আধুনিক পদ্ধতিতে পাঠদান বাড়াবে শিক্ষার গুণগতমান'- এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ভিতরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হলো 'শিক্ষা সমাবেশ' ৷ গতানুগতিক পাঠদান ব্যবস্থার বলয় থেকে বেরিয়ে প্রগতিশীল, যুগোপযোগী ও মানসম্মত শিক্ষার আলোকে ভিতরবন্দ ইউনিয়নের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে 'আধুনিক পদ্ধতি'তে পাঠদান কার্যক্রম শুরুর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে জেলা প্রশাসন এবং ইউনিয়নবাসী

ভিতরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ভিতরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিউল আলম শফি
৷ উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোঃ অজিজার রহমান, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. বদিউল আলম মজুমদার, নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাজিবুল ইসলাম এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ম. হাসান আতিকুর রহমান ৷ এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কেদার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজার রহমান, নারায়নপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম

আলোচনায় কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক বলেন, "কুড়িগ্রাম জেলার ইতিহাসে আজ একটি ব্যতিক্রমি দিন
৷ কেননা আজ পর্যন্ত কুড়িগ্রাম জেলার কোন ইউনিয়ন এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণই করে নি ৷ শুধুমাত্র ভিজিএফ বা রিলিফ বিতরণ ইউনিয়ন পরিষদের প্রধান কাজ হওয়া উচিত নয় ৷ এ উদ্যোগগুলোই একটি ইউনিয়নকে আদর্শ ইউনিয়নে পরিণত করবে" ৷ তিনি উপস্থিত অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের এ ধরণের ব্যতিক্রমি উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানান

অতিথিগণ প্রত্যেকেই তাদের বক্তব্যে এই ব্যতিক্রমি উদ্যোগ গ্রহণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদকে সাধুবাদ জানান
৷ ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, একসময় গ্রাম পর্যায়ের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেই দেশবরেণ্য ব্যক্তিগণ তাদের শিক্ষাজীবন শুরু করেছিলেন পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন ৷ কিন্তু বর্তমানের চিত্র ভিন্ন ৷ আজকে শহরের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছে, পিছিয়ে পড়েছে গ্রাম পর্যায়ের স্কুলগুলো ৷ গ্রামীণ শিক্ষার মানে ধ্বস নেমেছে ৷ এ অবস্থার স্থায়ী সমাধান দরকার ৷ এ জন্য শিক্ষক, অভিভাবক এবং ইউনিয়ন পরিষদকে এগিয়ে আসতে হবে ৷ শিক্ষাদান প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে হবে আধুনিক পদ্ধতিকে, তবেই তৃণমূল পর্যায় থেকে শিক্ষিত হবে সমাজ, বিকাশ হবে নতুন নেতৃত্বের ৷ জাতির বর্তমান এই সংকটময় কালে আধুনিক পদ্ধতিতে শিক্ষাদানের এখনই উপযুক্ত সময় ৷

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ এর সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে ভিতরববন্দ ইউনিয়নের ১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষকবৃন্দ এবং ইউনিয়নবাসীর উপস্থিতি সমাবেশটিকে মিলনমেলায় রূপান্তরিত করে ৷ সমাবেশে উপস্থিত বিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের হাতে শারীরিক শিক্ষার জন্য ড্রামসেট ও ফুটবল উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয় ৷ সমাবেশ শেষে প্রতিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষকবৃন্দ নিজ বিদ্যালয়ের নামাঙ্কিত ব্যানার হাতে র‌্যালীতে অংশগ্রহণ করেন ৷

- তুহীন আলম



মৌগাছিতে শিক্ষক-অভিভাবক সমাবেশ


সুস্থ সবল ও আত্মসচেতন জাতি গঠনের লক্ষ্যে ২০০৭ সালের মধ্যে মৌগাছি ইউনিয়নে প্রতিটি শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করতে ইউনিয়নের সকল শিশুকে স্কুল গমন নিশ্চিতকরণে আভিভাবক ও শিক্ষকদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে প্রায় চার শতাধিক শিক্ষক ও অভিভাবক এবং শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতিতে গত ২০ জানুয়ারি রাজশাহীর মৌগাছি ইউনিয়নের উজ্জীবকদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো শিক্ষক-অভিভাবক সমাবেশ
৷ সমাবেশে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. এ এইচ এম জেহাদুল করিম, নৃ-বিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়; হাসান মিল্লাত, মূখ্য বার্তা সম্পাদক, দৈনিক সোনালী সংবাদ; আবুল হোসেন সরদার, চেয়ারম্যান, মৌগাছি ইউনিয়ন পরিষদ; শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, মোহনপুর, রাজশাহী; সোহরাব আলী খান, প্রাক্তন চেয়ারম্যান, মৌগাছি ইউনিয়ন পরিষদ, মোহনপুর, রাজশাহী;আসাদ আলী, সহযোগী অধ্যাপক, রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগ, মোহনপুর ডিগ্রী কলেজ ; মনজুরুল হক, আঞ্চলিক সমন্বয়কারী, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ।


সমাবেশে স্বাগত বক্তব্যে উজ্জীবক ও স্বেচ্ছাব্রতী প্রশিক্ষক শামসুদ্দিন আহমেদ আগত অতিথিদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে শিক্ষার প্রসারে ভূমিকা রাখার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান ৷ সংগঠনের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার-এর মোহনপুর পার্থিব ইউনিটের প্রতিনিধি কাজল লতা ৷ এছাড়াও বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন অঙ্গীকার প্রতিবন্ধী সংস্থা, বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রচেষ্টা ও আশা প্রভৃতি বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিগণ বক্তব্য রাখেন ৷ অভিভাবকদের মধ্য থেকে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মৌপাড়া গ্রামের ডাঃ রফিকুল ইসলাম, বেড়াবাড়ি গ্রামের সুফিয়া খাতুন, মৌগাছি গ্রামের ময়েজ উদ্দিন এবং বজরপুর গ্রামের নাজমা বেগম ৷ অবিভাবকগণ নিজের এবং প্রতিবেশীদের সন্তানকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে সম্মিলিতভাবে ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন ৷

সভাপতির বক্তব্যে উজ্জীবক ও স্বেচ্ছাব্রতী প্রশিক্ষক জয়নুল আবেদিন সমাবেশে উপস্থিত শিক্ষক, অভিভাবক এবং ছাত্র-ছাত্রীদের ধন্যবাদ জানিয়ে সবাইকে স্ব স্ব কর্তব্য পালনের আহ্বান জানান ৷ সমাবেশ পরিচালনা করেন ইয়ূথ সদস্য আসির উদ্দিন ৷

স্বেচ্ছাব্রতী উজ্জীবকদের নেতৃত্বে ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষদের সংগঠিত করে মৌগাছির সার্বিক জীবনমান উন্নয়নের কাজ চলছে বিগত পাঁচ বছর ধরে ৷ উজ্জীবক ও ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার-এর অব্যাহত প্রচেষ্টায় এবং ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় জনগণের সার্বিক সহযোগিতায় ইতোমধ্যেই মৌগাছি স্যানিটেশন, শিক্ষা, মাদক প্রতিরোধ প্রভৃতি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে ৷ সমপ্রতি শিক্ষা সমাবেশের মাধ্যমে ইউনিয়নব্যাপী শিক্ষা আন্দোলন বেগবান করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টরা প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন ৷

- আসির উদ্দিন ও কাজল লতা
 


শিক্ষক অভিভাবক সমাবেশ


সকল শিশুর বিদ্যালয়ে যাওয়া নিশ্চিতকরণসহ শিক্ষার হার ও মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি কোলকোন্দ ইউনিয়নে শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতিতে চার শতাধিক শিক্ষক ও অবিভাবকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ও উজ্জীবকদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় শিক্ষক-অভিভাবক সমাবেশ ৷ সমাবেশে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুর রহমান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ নবুয়াত হোসেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওসমান গনি, কোলকোন্দ ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল প্রমুখ ৷ সমাবেশে শিক্ষার সমস্যা চিহ্নিত করার পাশাপাশি তার সমাধান নিয়েও আলোচনা করা হয় ৷

সমাবেশে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল ৷ আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুর রহমান বলেন, ''শিক্ষকরা যদি নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব ঠিকমত পালন করেন এবং সময় মেনে চলেন তবে শিক্ষার মান বাড়বে বলে আমার বিশ্বাস''৷

শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চর চিলাখাল বিদ্যালয়ের শিক্ষক গোলাম আহমেদ রব্বানী, কোলকোন্দ এম এ এম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুর রশীদ, প্রমুখ ৷ তারা তাদের বক্তব্যে অবিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধির কথা বলেন ৷ সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা যেমন, বাল্যবিবাহ-এর কারণে শিক্ষার হার কমে যাওয়া রোধে শিক্ষকগণ ইউনিয়ন পরিষদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ৷ অভিভাবকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মোঃ আবু বকর সিদ্দীক ৷ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ''একটি দেশের গণতন্ত্রের হার ও মান নির্ভর করে সে দেশের মানুষের শিক্ষার মানের ওপর ৷ এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা রুগ্ন, এই রুগ্নতা কাটিয়ে উঠতে হবে ৷ এবং আজকে থেকেই তা শুরু হোক''৷ তিনি বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের খালি পদ পূরণের আশ্বাস দেন ৷

সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আমজাদ হোসেন, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর আহসানুল কবির ডলার প্রমূখ ৷ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন গঙ্গাচড়া মহিলা ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক মাহফুজার রহমান ৷
 


সমাবেশে গৃহীত সিদ্ধান্ত:

  • আগামী ৩ মাসের মধ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে কমিটি গঠন করা হবে শিক্ষার হার ও মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করার জন্য;
  • প্রতিটি শিক্ষক তার আশেপাশের ১৫টি পরিবারের নিরাপদ পানি ব্যবহার, শিশুদের স্কুলে পাঠানোর ব্যবস্থা, স্যানিটেশন ও বাল্যবিবাহ রোধের দায়িত্ব নেবেন;
  • মা সমাবেশের আয়োজন করা হবে;
  • জেলা শিক্ষা অফিসার কর্তৃক প্রতি ৩ মাস পর পর ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক ও অভিাভাবকদের চিঠি দিয়ে বসার ব্যবস্থা করা হবে;
  • সপ্তাহে একদিন শিশুদের সাথে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে বৈঠক করা হবে;
  • বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের ইউপি'র পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেয়া হবে;
  • প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে শিক্ষায় এগিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানকে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থানের ভিত্তিতে এডিবি'র শিক্ষা খাতের টাকা দেয়া হবে;
  • প্রতিবছর সব স্কুল, মাদ্রাসার ৫ জন কৃতী ছাত্র-ছাত্রীকে মাসে ১০০ টাকা বৃত্তি দেয়া হবে এবং হাই স্কুলের বেলায় ১৫০ টাকা দেয়া হবে;
  • প্রতিবছর শ্রেষ্ঠ শিক্ষককে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সংবর্ধনা দেয়া হবে ৷
    - জাহানারা সিমা
 

Previous Article<Index>Next Article


Home  / Feedback / Subscribe

© 2006 The Hunger Project-Bangladesh. All rights reserved.