|
সুশাসনের জন্য মানববন্ধন

সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক' এর উদ্যোগে ২২ এপ্রিল, ২০০৬ সারা দেশের
জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে সকাল এগারটা থেকে সাড়ে এগারটা পর্যন্ত
মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়
৷ সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃর্স্ফূত অংশগ্রহণে
এবং সম্পূর্ণ নাগরিক দায়িত্ববোধ থেকে পালিত এ মানববন্ধন কর্মসূচি দেশের
জন্য একটি অভূতপূর্ব ঘটনা
৷ বিভিন্ন দাবি সম্বলিত নানা রঙের ব্যানার,
ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড নিয়ে হাতে হাত ধরে সচেতন নাগরিকগণ এই মানববন্ধন রচনা
করেন
৷ বর্তমান দুর্নীতি
ও দুঃশাসন থেকে উত্তরণের জন্য নাগরিকগণ আজ সচেতন,
সোচ্চার ও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন যার বহিঃপ্রকাশ আমরা দেখতে পাই দেশব্যাপী
মানববন্ধন কর্মসূচিতে ব্যাপক জনগণের অংশগ্রহণ থেকে ৷ সারা দেশের ৬৪টি জেলা
শহরে, ১৭২টি উপজেলায় এবং ১২০৩টি ইউনিয়নসহ ১ হাজার ৪ শতাধিক স্থানে সচেতন
নাগরিকরগণ ওইদিন মানববন্ধন রচনা করেন ৷
বাংলাদেশের রাজনৈতিক তথা নির্বাচনী সংস্কার, নির্বাচনে সৎ, যোগ্য ও
নিষ্ঠাবান প্রার্থী মনোনয়ন এবং 'সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক' কর্তৃক
প্রস্তাবিত সংস্কারের দাবিতে মানবন্ধন পলিত হয় ৷ রাজনৈতিক দলসমূহকে
বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের আওতায় আনা, রাজনৈতিক দলসমূহ কর্তৃক আগামী নির্বাচনে
সৎ, যোগ্য ও নিষ্ঠাবান প্রার্থী মনোনয়ন, ভোটারদের তথ্যভিত্তিক ক্ষমতায়ন,
ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নাগরিকদের ভোটার তালিকায় অর্ন্তভূক্তিকরণ,
গ্রহণযোগ্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা, নির্বাচন কমিশনের সংস্কার,
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনয়ন, 'না'-বাচক ভোটের ব্যবস্থা করাসহ
'সুজন' প্রস্তাবিত অন্যান্য পদ্ধতিগত সংস্কার বাস্তবায়নের দাবিতে ওইদিন
সারা দেশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয় ৷ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ,
রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষক, অভিভাবক, বিভিন্ন পেশাজীবী,
ছাত্র-ছাত্রীসহ সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক মানুষ হাতে হাত ধরে এসকল দাবি
আদায়ের লক্ষ্যে সমবেত হন ৷
রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব রাজনীতিবিদদের ৷ দেশের জনগণ তাদেরকে
নির্বাচিত করে সংসদে পাঠান দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে কাজ করার
জন্য ৷ কিন্তু বাংলাদেশের জন্য দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো জনপ্রতিনিধি হিসেবে
যারা নির্বাচিত হচ্ছেন তারা রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করছেন
ব্যক্তিগত ও সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে ৷ রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক সাধারণ জনগণের
আশা-আকাঙ্ক্ষা সামান্যই গুরুত্ব পায় তাদের কাজে ৷ কিন্তু গণতন্ত্র হলো
জনগণের শাসন, রাজনৈতিক দলগুলো নাগরিকদের প্রতিনিধি হিসেবে শাসনকার্য পরিচালনা করবেন ৷
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্র পরিচালনায় দীর্ঘ দিন ধরেই
রাজনীতিবিদগণ ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন ৷ দেশের মানুষ চায় আজ যোগ্য নেতৃত্ব,
সজ্জনের শাসন আর দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ৷ এই প্রেক্ষিতে বর্তমানে প্রয়োজন
দুর্বৃত্তায়িত রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন, নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল
সংস্কার ৷ এই প্রত্যাশাকে ধারন করে সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠায়
দেশবাসীকে সংগঠিত ও সোচ্চার করার লক্ষ্য নিয়ে একটি স্বেচ্ছাব্রতী নাগরিক
উদ্যোগ হিসেবে গড়ে উঠেছে 'সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক' ৷ 'সুজন' প্রায় চার
বছর ধরে নির্বাচনী ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং সৎ, যোগ্য, জনকল্যাণে নিবেদিত
ব্যক্তিকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচনের জন্য জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করে
যাচ্ছে ৷ এ লক্ষ্যে 'সুজন' (তত্কালীন 'সিটিজেনস ফর ফেয়ার ইলেকশনস') বিগত
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সৎ, যোগ্য প্রার্থী যাতে নির্বাচিত হয় সেজন্য প্রার্থী সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে ভোটাদের জানিয়ে দেয়াসহ
অনেকক্ষেত্রেই প্রার্থীদের ভোটারদের মুখোমুখী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ৷ বিগত
ইউপি নির্বাচনে 'সুজনে'র এই কার্যক্রম প্রায় অর্ধশতাধিক ইউনিয়নে সফল
হয়েছে ৷ পরবর্তীতে ২৫টি পৌরসভা নির্বাচনে এবং জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনে
'সুজনে'র একই রকম কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে ৷

জন্মলগ্ন থেকেই 'সুজন' নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিভিন্ন
তথ্য সংগ্রহ করে জনগণের মাঝে তা বিতরণ করছে ৷ নির্বাচনে প্রার্থীদের
সম্পর্কে জনগণের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার অর্জনের জন্য 'সুজনে'র ধারাবাহিক
কার্যক্রমের প্রেক্ষাপটেই গত মে মাসে বাংলাদেশ হাইকোর্ট তার 'আব্দুল মোমেন
চৌধুরী এবং অন্যান্য বনাম বাংলাদেশ' মামলার ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন ৷
রায় অনুসারে মনোনয়নপত্রের সাথে এফিডেভিডের মাধ্যমে প্রার্থীদের আট ধরনের
তথ্য জমা নিয়ে তা সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটারদের মাঝে বিতরণের নির্দেশ দেয়া
হয় ৷ কোর্টের মতে, ''তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকার, যা
ভোটাধিকারের অর্ন্তভূক্ত"৷ আদালতের এ রায় জনগণের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার
অর্জনের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক ৷ কিন্তু রায় প্রদানের পরে অনুষ্ঠিত
উপনির্বাচনগুলোতে নির্বাচন কমিশন উল্লেখিত রায় বাস্তবায়নে অধিকাংশ
ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছেন ৷ ফলে সত্, যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের যে আশাবাদ
সৃষ্টি হয়েছিল তা শুরুতেই হতাশায় পর্যবসিত হয় ৷ এমন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেই
পালিত হল 'সুজনে'র মানববন্ধন কর্মসূচি ৷

ঢাকায় মানিক মিয়া এভিনিউতে কেন্দ্রীয়ভাবে আয়োজিত মানববন্ধনে সুজনের
সভাপতি বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ
অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ
উদ্দিন খান ও এ,এস,এম শাহজাহান, ড. মাহমুদ হাসান, মিডিয় বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ
জাহাঙ্গীর,'সুজনে'র সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিশিষ্ট কলামিস্ট ও
গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমান, বিশিষ্ট
আইনজীবী শাহদীন মালিক, অধ্যাপক লতিফা আকন্দ, ব্রতী'র নির্বাহী প্রধান
শারমিন মুরশিদ, চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনসহ সর্বস্তরের নাগরিকগণ উপস্থিত
ছিলেন ৷
মানববন্ধন শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ বলেন, দেশের
মানুষ আজ সজ্জনের শাসন চায়, মুক্ত শাসন চায় ৷ এর জন্য নির্বাচন
কমিশনের সংস্কার প্রয়োজন ৷ রাজনৈতিক দলের মাঝে গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত
করতে হবে, তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে ৷ রাজনৈতিক দলের
মাঝে স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার চর্চার জন্যই প্রয়োজন রাজনৈতিক দলের
বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ৷
হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্র চর্চা না
থাকলে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রকৃত গণতন্ত্রের চর্চা সম্ভব নয় ৷ তাই রাজনৈতিক
দলগুলোর নিজেদের সংস্কার আজ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে ৷ এ,এস,এম
শাহজাহান তাঁর বক্তব্যে বলেন, কালোটাকা ও পেশীশক্তির কলুষমুক্ত রাজনীতি
চাই, শুধুমাত্র নির্বাচনের দিনের গণতন্ত্র চাই না ৷ রাজনীতিতে জনগণের মতের
প্রতিফলনের লক্ষ্যে 'সুজনে'র দাবিগুলো আজ গণদাবিতে পরিণত হয়েছে বলে তিনি
উল্লেখ করেন ৷
সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছরেও আমাদের দেশে গণতন্ত্র
প্রতিষ্ঠিত হয় নি ৷ গণতন্ত্র আজ কলুষিত হয়ে পড়েছে ৷ গণতন্ত্র আজ নকল আর
ভেজালে ছেয়ে গেছে ৷ আজকের মানববন্ধন দেশের জনসাধারণের একটা জাগরণের ইঙ্গিত
বহন করে ৷ এ ধরনের আয়োজন সুস্থ রাজনৈতিক ধারা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন ৷
ড. আতিউর রহমান বলেন, আমাদের সুন্দর সংসদ ভবন রয়েছে, কিন্তু সচল সংসদ
নেই ৷ গণতন্ত্র আজ অত্যন্ত অনুদার
৷ কেউই ভিন্ন মত পছন্দ করে না
৷ সেই জন্যই
আজ উন্নত গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চাই
৷ আর সেটা নিশ্চিত করার জন্য
প্রচণ্ড সামাজিক চাপ প্রয়োজন
৷ 'সুজন' সেই কাজটিই করে চলেছে
৷
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, জনগণ রাষ্ট্রের মালিক
৷ কিন্তু তাদের
মালিকানা আজ অপহৃত অসত্ রাজনীতিবিদ এবং আমলাদের দ্বারা৷ জনগণ তাই তাদের
মালিকানা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সারা দেশে মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে
৷
তিনি বলেন, এভাবে জনগণের জেগে ওঠা ও দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমেই দেশ থেকে
কলুষিত রাজনীতি দূরীভূত হবে, প্রতিষ্ঠিত হবে প্রকৃত গণতন্ত্র তথা সজ্জনের
শাসন
৷
দেশের বিভিন্ন স্থানে 'সুজন'এর মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত:
সারা দেশজুড়েই সেদিন কর্মসূটি পালিত হয়েছে
৷ স্থানীয় সচেতন ও
দায়িত্ববান নাগরিক সমাজ 'সুজনে'র ব্যানারে সংগঠিত হয়ে মানববন্ধন সফল করার
ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করেন
৷ 'সুজন' কমিটি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য
সংগঠনের আয়োজনে দেশের অসংখ্য স্থানে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়
৷ নিচে কয়েকটি
এলাকার আয়োজনের তথ্য সংক্ষিপ্তাকারে তুলে ধরা হল:

রংপুর: 'সুজন' জেলা কমিটির আয়োজনে স্থানীয় প্রেসক্লাবের সামনে বেলা
১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়
৷ এতে বিভিন্ন
রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীসহ নানা পেশার নাগরিকরগণ অংশ নেন ৷ মানববন্ধনে
বক্তব্য রাখেন সাবেক পৌর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আফজাল, জেলা ১৪দলের
সমন্বয়কারী আবদুল মান্নান মিয়াজি, সিপিবির চন্দন ঘোষ, আওয়ামীলীগের
এ্যাডভোকেট ইলিয়াছ আহমেদ, সুজন জেলা সভাপতি মুকুল মোস্তাফিজ ও সম্পাদক
আকবর হোসেনসহ আরো অনেকে ৷ এছাড়া জেলার পীরগঞ্জ, গংগাচড়া, তারাগঞ্জ,
বদরগঞ্জ, বেতগাড়ি, গজঘন্টা, নোহালী, লক্ষ্মীটারী, চুরা, রায়পুর,
ভেন্ডারবাড়ি, কাবিলপুরসহ বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন পালিত হয় ৷

টাঙ্গাইল: জেলা শহরের নিরালার মোড় চত্বরে পালিত মানববন্ধন কর্মসূচি
শেষে স্থানীয় শহীদ মিনার চত্বরে সমাবেশের আয়োজন করা হয় ৷ সমাবেশে সুজনের
জেলা শাখার আহ্বায়ক এ্যাডভোকেট খান মোহাম্মদ খালেদ ও সদস্য সচিব অধ্যাপক
বাদল মাহমুদ, কন্যাশিশু এ্যাডভোকেসি ফোরামের সভাপতি ও জেলা মহিলা পরিষদ
সভাপতি অধ্যক্ষ শামসুন্নাহার, নারীনেত্রী মাহমুদা শেলী, নারীনেত্রী মিনু
আনাহলী, মঞ্জুরাণী প্রামাণিক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন ৷ এছাড়াও বিভিন্ন
রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা মানববন্ধনে উপস্থিত
ছিলেন ৷ জেলার মির্জাপুর সদর, ফতেপুর বরদাম, নাগরপুর সদর, গয়হাটা,
সলিমাবাদ, ভাররা, ভাদ্রা, ধুবুরিয়া, দেলদুয়ার, ফাজিলহাটি, কালিহাতী সদর,
নাগবাড়ী, ঘাটাইল সদর, গান্ধি, ধলাপাড়া, হামিদপুর, ঝড়কা, মধুপুর সদর,
আলোকদিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় ৷

পিরোজপুর: শহরের মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের সামনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে
মানবন্ধন কর্মসূচি পালিত হয় ৷ আগামী নির্বাচনে সত্ ও যোগ্য প্রার্থী
মনোনয়ন এবং রাজনৈতিক দলের বাধ্যতামূলক নিবন্ধনসহ 'সুজন' প্রস্তাবিত
অন্যান্য পদ্ধতিগত সংস্কার বাস্তবায়নের দাবিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ এই
মানববন্ধনে অংশ নেয় ৷ মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ শেখ সাইদুর রহমান,
এ্যাডভোকেট এম এ মান্নান, ডা. হাবিবুর রহমান, আলমগীর হোসেন, মুনিরুজ্জামান
নাসিম, মইনুল আহসান মুন্না, এ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম শামীম প্রমুখ ৷
গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জে 'সুজনে'র উদ্যোগে একই সময়ে একাধিক স্থানে
মানববন্ধন পালিত হয়েছে ৷ এরমধ্যে রয়েছে কোটালীপাড়া উপজেলার মাঝবাড়ি, সদর
উপজেলার কাঠি, কাজুলিয়া, মাঝিগাতি, রঘুনাথপুর প্রভৃতি ৷ 'সুজনে'র জেলা
কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মানিকের নেতৃত্বে মানববন্ধন কর্মসূচি
পালিত হয় ৷
ফরিদপুর: জেলা প্রেসক্লাবের সামনে মুজিব সড়কে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় ৷
মানববন্ধন শেষে 'সুজনে'র জেলা সভাপতিসহ বেশ কয়েকজন সম্মানিত নাগরিক
বক্তব্য রাখেন ৷ সুজনের জেলা সভাপতি এ্যাডভোকেট আহমেদ হোসেন মিয়া বলেন,
কালো টাকা নিয়ে মনোনয়ন কিনে নির্বাচিত হয়ে দেশের সুস্থ রাজনীতির পরিবেশকে
আজ নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে ৷ এর অবসান হওয়া প্রয়োজন ৷
ঝালকাঠি: ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সামনে সচেতন নাগরিক সমাবেশ ও মানববন্ধন
কর্মসূচি পালন করা হয় ৷ 'সুজনে'র উদ্যোগে আয়োজিত এই মানববন্ধনে একাত্মতা
প্রকাশ করে সূর্যলোক ট্রাস্ট, প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থা, সিটি
ক্লাব,জারডিসহ স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা ৷
বান্দরবান: রাজনৈতিক দলসমূহ কর্তৃক আগামী নির্বাচনে সত্ যোগ্য
প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার দাবিতে 'সুজনে'র জেলা কমিটির উদ্যোগে বান্দরবান
প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয় ৷ 'সুজনে'র জেলা কমিটির
সভাপতি রাজপ্রু চহ্লা প্রু জিমি ও সদস্য সচিব ডনাই প্রু নিলিসহ বিভিন্ন
এনজিও, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ স্থানীয় সচেতন নাগরিকবৃন্দ মানববন্ধনে অংশ
নেন ৷
বগুড়া: জেলা 'সুজন' কমিটির উদ্যোগে বগুড়ার সাতমাথায় ২২ এপ্রিল, ২০০৬
মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয় ৷ এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন 'সুজনে'র আহবায়ক
এ্যাডভোকেট আল মাহমুদ, সদস্য সচিব ডা. মশিহুর রহমান, যুগ্ম আহবায়ক
মোস্তাফিজুর রহমান ফিজুসহ বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী ও
সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিগণ ৷ এছাড়া জেলার দুপচাচিয়া উপজেলা সদরের
মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন শোভার নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল
আজাদ, জে কে কলেজের প্রভাষক আবুল বাশারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ৷
নরসিংদী: নরসিংদী জেলা প্রেসক্লাব ও উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন
কর্মসূচি পালন করা হয় ৷ মানববন্ধন শেষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় ৷ আলোচনা
সভায় 'সুজন' জেলা কমিটির আহবায়ক প্রাক্তন অধ্যক্ষ জনাব হালিম উজ্জামানসহ
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন ৷
দিনাজপুর: জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম দিনাজপুরে মানববন্ধন
আয়োজন করে ৷ দিনাজপুর জেলা 'সুজন' কমিটির সভাপতি অধ্যাপক খলিলুর রহমান,
সম্পাদক ইসলাম নূর, কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম দিনাজপুরের সচিব কানিজ
ফাতেমাসহ শতাধিক নারী-পুরুষ মানববন্ধনে অংশ নেন ৷ জেলা সদর ছাড়াও বীরগঞ্জ,
খানসামা, আমবাড়ি, পার্বতীপুর, বিরল, রামভূরি, খানসামা, রাণীরবন্দর,
চিরিরবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয় ৷
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে পালিত হয় মানববন্ধন
কর্মসূচি ৷ উক্ত মানববন্ধনে 'সুজনে'র জেলা কমিটির সভাপতি সেকেন্দার বখত
খান, প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সুফিয়ান, সাংবাদিক আসিফ সিরাজসহ সর্বস্তরের
মানুষ অংশ নেন এবং স্বাধীন, প্রযুস, তৃণমূল নাগরিক কমিটি, সূচনা, লিডসহ
স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়ন সংগঠন এই মানববন্ধনের সাথে একাত্মতা
প্রকাশ করেন ৷
গাজীপুর: 'সুজন' জেলা কমিটির আয়োজনে গাজীপুরের শিববাড়ির মোড়ে
মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয় ৷ নির্বাচনী সংস্কার, নির্বাচনে সৎ, যোগ্য ও নিষ্ঠাবান
প্রার্থী মনোনয়ন এবং 'সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক' কর্তৃক
প্রস্তাবিত সংস্কারের দাবিতে এই মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজন করা হয় ৷
নবীনগর: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে স্থানীয় 'সুজন' কমিটির আয়োজনে
প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয় ৷ ব্যানার, ফেস্টুন
নিয়ে স্থানীয় ছাত্র, শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার
নাগরিকগণ আধঘন্টার মানববন্ধনে অংশ নেন ৷
দেওয়ানগঞ্জ: জামালপুরের এই উপজেলার বাহাদুরাবাদের ঝালরচর বাজারে সকাল
১১.০০টা থেকে সাড়ে এগারটা পর্যন্ত মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয় ৷ এই
মানববন্ধনে এম মুরাদ, রুকুনুজ্জামান, বকুল, শহীদ ছালামসহ আরো অনেকে
অংশগ্রহণ করেন ৷
কালিগঞ্জ: কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে নাহিদ সুলতানা ও আবুল
খায়েরের নেতৃত্বে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয় ৷ মানববন্ধন শেষে সংক্ষিপ্ত
আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় ৷
গোবিন্দগঞ্জ: গাইবান্ধার নির্বাচন কমিশনের সংস্কার ও প্রতিটি দলের
মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে সারা দেশের ন্যায়
গোবিন্দগঞ্জে 'সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক' এর আয়োজনে মানববন্ধন কর্মসূচি
পালিত হয় ৷
ডোমার: রাজনৈতিক দলসমূহ কর্তৃক আগামী নির্বাচনে সত্ ও যোগ্য ব্যক্তি
মনোনয়ন, দলসমূহের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন এবং কালো টাকার মালিকদের মনোনয়ন না
দেয়ার দাবিসহ অন্যান্য দাবিতে 'সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক' এর আয়োজনে
মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয় ৷
দেশের নাগরিক সমাজের নিজস্ব অর্থায়নে এবং দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে
দেশজুড়ে সফল হওয়া এই বিশাল আয়োজন দেশবাসীর মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে ৷
'সুজনে'র উদ্যোগে সংগঠিত নাগরিকগণ প্রমাণ করলেন এদেশ থেকে ইতিবাচক
পরিবর্তনের সক্রিয় শক্তি এখনও হারিয়ে যায় নি ৷ এই পথ ধরেই দেশে গণতন্ত্র
প্রতিষ্ঠিত হবে, প্রতিষ্ঠিত হবে সুশাসন ৷
সামনেই নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ৷ বাংলাদেশের মানুষ চায় সত্যিকারের
গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে, আর এজন্য প্রয়োজন নির্বাচনী
সংস্কৃতির পরিবর্তন ৷ আমাদের নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ
হলে এবং সাহসী মানুষের সমন্বয়ে গঠিত হলে এ অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব হবে ৷
এজন্য প্রয়োজন নির্বাচন কমিশনসহ পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সংস্কার ৷ আইনী
যেসব দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকে দেয়া আছে এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধতার যে
ব্যবস্থা রাখা হয়েছে তা উপেক্ষিত হচ্ছে
৷ জনগণ জানতে পারছে না তাদের
প্রতিনিধি
প্রার্থীর
অর্থ ও সম্পদের বিবরণ, আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং অতীত
ইতিহাস সম্পর্কে ৷ কারণ নির্বাচন কমিশন প্রাথীদের পূরণ করা তথ্য ফরম জনগণের
কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন না ৷ নাগরিক হিসেবে যারা ভোটার হওয়ার উপযুক্ত তাদের
নাম সঠিকভাবে তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে না ৷ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের
জন্য 'সুজন' নির্বাচন কমিশনের সংস্কার, রাজনৈতিক দলের সংস্কার, নির্বাচনী
ফলাফল গণনা পদ্ধতির সংস্কার, মনোনয়ন প্রক্রিয়ার সংস্কার ও তত্ত্বায়ধায়ক
সরকার ব্যবস্থা সংস্কারের দাবি করে আসছে দীর্ঘদিন ধরেই ৷ দেশের নাগরিকদের
নেতৃত্বে সুশাসন প্রতিষ্ঠার এ আন্দোলনে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে সক্রিয়
থাকতে 'সুজন' প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ৷
- সান্ত্বনা আইউব
|