|
মুক্তিনগরে গণগবেষকদের বাল্যবিবাহ বিরোধী আন্দোলন
ঘটনা-১
গণগবেষকদের চাপে মুক্তিনগরের কচুয়া গ্রামের অধিবাসী মোঃ আকালু মিয়া
তার পুত্রের বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে বাধ্য হন
৷ গত ২০ মার্চ, ২০০৬-এ
গাইবান্ধার মুক্তিনগর ইউনিয়নের আকালু মিয়ার পুত্র আব্দুল আজিজের
বাল্যবিবাহ হবার কথা ছিল
৷ গণগবেষকরা খোঁজ নিয়ে দেখেন পাত্রের বয়স (১৮
মার্চ, ২০০৬) মাত্র ১৬ বছর
৷ পরিণত বয়স না হবার কারণে গণগবেষক রমিসা বেগম এ
বিয়ে বন্ধ করার পরামর্শ দেন
৷ এ পরামর্শ অমান্য করে পাত্র পক্ষ চূড়ান্ত কথা
দেয় এবং বিয়ের তারিখ (২০ মার্চ, ২০০৬) ঠিক করে
৷ এ খবর পেয়ে রমিসা বেগম
গণগবেষক ও উজ্জীবক এনামুল এবং মমিনকে সাথে নিয়ে এই বাল্যবিবাহ বন্ধ করার
জন্য পাত্র পক্ষ ও কন্যাপক্ষকে চাপ দেন এবং তাদের উভয়কে আইনের বিধান
শোনান
৷ গণগবেষকরা জানিয়ে দেন, এরপরেও যদি এ বিয়ে পড়ানো হয় তবে পাত্র পক্ষ,
ঈমাম, কাজী, ঘটক ও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে
৷ এ কথা শুনে
উভয়পক্ষ ভয় পায়
৷ পরে আলোচনার মাধ্যমে বিবাহ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয় এবং
তারা বলে যে, আমরা ভুল করতে গিয়েছিলাম, আর বাল্যবিবাহ করাবো না,
বাল্যবিবাহ হতেও দেবো না
৷ এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়
৷ পুরো গ্রামে
এখন সবাই বলাবলি করছে রমিসা, এনামুল, মমিন প্রমুখ গণগবেষকরা বাল্যবিবাহ
বন্ধ করে বেড়ায়
৷
ঘটনা-২ মুক্তিনগর ইউনিয়নের খামার ধনারুহা গ্রামের মোঃ সইদালী তার
মেয়েকে গত ১৫ মার্চ, ২০০৬ বিয়ে দেন
৷ বিয়ের সময় মেয়ের বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর
তিন মাস
৷ বিয়ের আগে গণগবেষকগণ বিশেষ করে স্থানীয় 'ক্ষুধামুক্ত সমিতি'র
সভাপতি আব্দুল মমিন, সম্পাদক এনামুল হক, গ্রাম উন্নয়ন সমিতির সাবেক সভাপতি
রমিসা বেগম ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও
এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে এ বিয়েতে বাধা দেন
৷ ইউনিয়নের
চেয়ারম্যানকেও তারা এ ব্যাপারে অবহিত করেন
৷ কিন্তু সইদালী এতে কান না দিয়ে
মেয়ের বিয়ে দেন
৷ এ বাল্যবিবাহ রেজিস্ট্রি করেন শ্যামপুর গ্রামের মোজাম্মেল
কাজী আর বিয়ে পড়ান ঈমাম আব্দুল হান্নান
৷ আইন অমান্য করায় গণগবেষক আব্দুল
মমিন, এনামুল, রমিসা বেগম ও ওমর আলী ইউনিয়ন বোর্ডে ঈমাম ও কাজীর বিরুদ্ধে
মামলা দায়ের করেন
৷ বর্তমানে মামলা চলছে
৷ গ্রামবাসীরা এ কাজে এগিয়ে আসার
জন্য গণগবেষকদের উত্সাহ দিচ্ছে
৷ এর ফলে এ সময়ে আরো যারা বাল্যবিবাহ দেবার
কথা ভাবছিল তারা এখন ভয় পাচ্ছে
৷ ভয় পেয়ে একই গ্রামের মোঃ ছকু মিয়া তার
পুত্র সাদ্দাম হোসেনের বাল্যবিবাহ বন্ধ করেন
৷ তিনি ঠিক করেছিলেন মার্চ
মাসেই ছেলের বিয়ে দেবেন
৷ কিন্তু গ্রামে বাল্যবিবাহ বন্ধে গণগবেষকদের
তোড়জোড় দেখে তিনি আর এগোবার সাহস পান নি
৷
ঘটনা-৩
মুক্তিনগরের পুটিমারী গ্রামের মোঃ আমীর আলী তার কন্যা মোছাঃ অংগুরা
খাতুনকে ১৯ মার্চ, ২০০৬-এ বিয়ে দেবার দিন ঠিক করেন
৷ অংগুরার বয়স তখন মাত্র
১৪ বছর
৷ এ বিয়ের খবর শোনার সাথে সাথে গণগবেষক রমিসা বেগম মেয়ের বাড়িতে
গিয়ে বিয়ে বন্ধের পরামর্শ দেন
৷ তিনি তাদের বলেন যে, আমি মমিন, এনামুলকেও এ
খবর জানাবো
৷ তিনি মেয়ের বাবাকে বলেন যদি আইন না মানেন, তাহলে তারা কিন্তু
মামলা দায়ের করতে পারে
৷ তখন কিন্তু আপনাদের কোন রেহাই নেই, জেল খাটতে হবে
৷
পরে রমিসা বেগম মমিন ও এনামুলকে সাথে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদেও এ বাল্যবিবাহ
বন্ধের অনুরোধ করেন
৷ এ খবর শোনার পর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তখনই গ্রাম
পুলিশের মাধ্যমে নোটিশ পাঠান
৷ নোটিশে বলা হয়, এ বিয়ে এখনি বন্ধ না করলে
তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে
৷ উক্ত নোটিশ পাবার পর মেয়ের অভিভাবক
তার মেয়েকে বাল্যবিবাহ দিতে পাত্র পক্ষকে অপারগতা প্রকাশ করেন
৷
- এনামুল হক, গণগবেষক ও উজ্জীবক
|
|
চিত্রাঙ্কন ও শুদ্ধ বানান প্রতিযোগিতা
ব্রাক্ষণবাড়ীয়া জেলা সদরের ফারুকী পার্কে ১৫ এপ্রিল, ২০০৬ তারিখ বিকাল
৩.০০-৬.০০টা পর্যন্ত 'সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক' এর আয়োজনে বাংলা
নববর্ষ-১৪১৩ বরণ উপলক্ষে শিশুদের জন্য 'বৈশাখ উদযাপন' বিষয়ক চিত্রাঙ্কন ও
শুদ্ধ বানান প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়
৷ অনুষ্ঠানে এলাকার ২৫০ জন নারী ও ১৫০
জন পুরুষ উপস্থিত ছিল
৷ শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল সংখ্যক
ছাত্র-ছাত্রী প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্বে অংশগ্রহণ করে
৷ শিশুদের বাংলা
বানানের প্রতি যত্নবান হতে উত্সাহিত করার পাশাপাশি বাঙ্গালী সংস্কৃতি ও
ঐতিহ্যকে আপন করে নেয়ার মানসিকতা সৃষ্টিতে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়
৷
দেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিক দায়িত্ববোধ থেকে সক্রিয়
ব্যক্তিবর্গ স্থানীয় পর্যায়ে এ আয়োজনে প্রধান ভূমিকা পালন করেন
৷
প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান সরকার, 'সুজনে'র সভাপতি অধ্যক্ষ
মোখলেছুর রহমান, 'সুজনে'র সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর একেএস শিবলী, তাজুল
ইসলাম বাবু, মিজানুর রহমান, তাসলিমা সুলতানা নিশাত, রুনাক সুলতানা পারভীন,
এবিএস রুবেলসহ 'সুজন' ব্রাক্ষণবাড়ীয়া জেলা শাখার সকল নেতৃবৃন্দ
প্রতিযোগিতা স্থলে উপস্থিত ছিলেন
৷
পরবর্তীতে ১৯ এপ্রিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত বৈশাখী মেলা
মঞ্চে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন গ্রুপে বিজয়ীদের নাম প্রকাশ করা হয় এবং
বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়
৷ পুরষ্কার বিতরণী
অনুষ্ঠানে সুজনের সদস্যবৃন্দসহ বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডের ব্যাবস্থাপনা
পরিচালক মুজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন
৷ আয়োজনটি এলাকার শিশুদের মেধার
বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে এলাকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আশা
প্রকাশ করেছেন
৷
- এ কে এম শিবলী
|
উজ্জীবক সংগঠনের নেতৃত্বে পোলিও টীকা কর্মসূচি সম্পন্ন
বাংলাদেশ থেকে পোলিও নির্মূল করতে সরকার হাতে নেয় ১৩তম বিশেষ পোলিও
টীকাদান কর্মসূচি-২০০৬ ৷ দেশজুড়ে এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয় ৷ সরকারের এ
কাজকে সফল করতে উজ্জীবকরা সামাজিক দায়বদ্ধতার চেতনা থেকে স্বতঃস্ফূর্ত
ভূমিকা পালন করে ৷
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার গোকর্ণ উজ্জীবক সংগঠনের সদস্যগণ প্রতিবারই এরূপ
সরকারি কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে ৷ এবারও এলাকায় পোলিও
টীকাদান কর্মসূচি সফল করতে উজ্জীবক সংগঠনের সদস্যগণ নেতৃত্বের ভূমিকায়
ছিলেন ৷ গোকর্ণ ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের ০-৫ বছরের প্রায় ৩,১০০ জন
শিশুকে পোলিও টীকা খাওয়ানো হয়েছে ৷ স্বেচ্ছাব্রতী উজ্জীবকগণ নির্ধারিত দিনে
এলাকার প্রতিটি বাড়ি, রাস্তা, বাজার, বাস স্ট্যান্ড প্রভৃতি স্থানে গিয়ে
শিশুদের টিকা খাওয়ান ৷ ১ম ও ২য় রাউন্ড যথাক্রমে গত ১৬ এপ্রিল ও ১৩ মে শেষ
হয়েছে ৷ ৩য় রাউন্ড খাওয়ানো শুরু হবে আগামী ১১ জুন ৷ ১ম ও ২য় রাউন্ডে
স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন গোকর্ণ উজ্জীবক সংগঠনের নজরুল
আহমদ, মাসুদুর রহমান, রসরাজ মজুমদার, আতিকুর রহমান খান, পলাশ দেব, সরস্বতী
মজুমদার, বাসন্তি মজুমদার, শাহানা আক্তার, নুর বানু, পিনু দেব, ছায়েরা,
দিপালী, আমেনা বেগম, হাসনা হেনা, প্রেমবালা দাসসহ আরও অনেকে ৷
সামাজিক উন্নয়নে এই স্বেচ্ছাব্রতী উজ্জীবকদের নিরলস কর্মপ্রয়াসের
ধারাবাহিকতায় এবার টীকাদান কর্মসূচি শতভাগ সফল হল ৷ উজ্জীবকদের এই উদ্যোগ
এলাকায় ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে ৷
- নজরুল আহমদ
|
|
ঘোষণা |
|
মাসিক উজ্জীবক বার্তায়
পাঠকদের স্বতন্ত্র, নিজস্ব, বৈচিত্রধর্মী ও সৃষ্টিশীল ভাবনা
প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। প্রিয় পাঠক, উজ্জীবক বার্তা পাঠ করে
আপনার সুচিন্তিত মতামত, পরামর্শ, বিশ্লেষণ ও সমালোচনা লিখে
পাঠালে উজ্জীবকদের পত্রিকাটি সমৃদ্ধ হবে।
সম্পাদক
৩/৭ আসাদ এভিনিউ, মোহাম্মদপুর,
ঢাকা-১২০৭
ফোন: ৮১১-২৬২২,৮১২-৭৯৭৫; ফ্যাক্স:
৮১১-৬৮১২
ই-মেইল:
thpb@agni.com
|
|