|
ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারের আয়োজনে মোহনপুরের ধোপাঘাটায় গণিত উত্সব
ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সহায়তায় দেশের
প্রত্যন্ত এলাকায় একের পর এক গণিত অলিম্পিয়াড আয়োজন করে চলেছে
৷ অপেক্ষাকৃত
সুবিধাবঞ্চিত গ্রাম পর্যায়ের ছেলে-মেয়েদের মাঝে গণিত চর্চার উত্সাহ
সৃষ্টি করতে এ আয়োজন ইতোমধ্যেই সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে
৷ তেমনি একটি
আয়োজন ছিল রাজশাহী জেলার মোহনপুর উপজেলার ধোপাঘাটায় অনুষ্ঠিত হওয়া গণিত
উত্সব
৷ ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার-ধোপাঘাটা ইউনিট ও পার্থিব ডিবেটিং ক্লাব এর
যৌথ আয়োজনে ধোপাঘাটা এ কে উচ্চ বিদ্যালয়ে উত্সবটি অনুষ্ঠিত হয়
৷
উল্লেখ্য, ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার দেশের একমাত্র সংগঠন যারা গণিত উত্সব
আয়োজন করছে প্রত্যন্ত গ্রামে
৷ এখন পিছিয়ে পড়া গ্রামের ছাত্রছাত্রীরাও
সমস্বরে বলছে - গণিত নিয়ে খেলা কর, বিশ্বটাকে জয় কর
৷ উত্সবে মোট তিনটি
ক্যাটাগরিতে - প্রাইমারী, জুনিয়র ও সেকেন্ডারী - ৬০০ জন ছাত্র-ছাত্রী
অংশগ্রহণ করে
৷
সেখানে ইয়ূথ ইউনিটের সদস্যরা গণিত উত্সব শুরুর এক মাস আগে থেকে
প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করে
৷ প্রথমে তারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যায়
উত্সবে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণপত্র নিয়ে
৷ প্রধান শিক্ষক-এর কাছ থেকে
অনুমতি নিয়ে উত্সবে অংশগ্রহণকারীদের নাম রেজিস্ট্রেশনের জন্য ন্যুনতম
রেজিস্ট্রেশন ফি পাঁচ টাকা নিয়ে নামের তালিকা তৈরি করে ৷ এরপর একটি শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানে উত্সব আয়োজনের জন্য স্থান নির্ধারন করা হয় ৷ অংশগ্রহণকারীর
সংখ্যা, স্থান ও সম্ভাব্য তারিখ জানিয়ে তারা দি হাঙ্গার প্রজেক্ট অফিসের
সাথে যোগাযোগ করে ৷ অফিস থেকে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সাথে
যোগাযোগ করে প্রশ্নপত্র ও সার্টিফিকেট সংগ্রহ এবং চূড়ান্ত তারিখ ও অতিথি
হিসেবে কারা সেখানে উপস্থিত থাকবেন তা ঠিক করা হয় ৷ অনুষ্ঠানের যাবতীয় ব্যয়
বহন করা হয় রেজিস্ট্রেশন ফি-র মাধ্যমে ৷ অফিস থেকে লজিস্টিকস, পুরষ্কার ও
অতিথি প্রভৃতি বিষয়ে সহযোগিতা করা হয় ৷

২১ এপ্রিল ২০০৬, গ্রীষ্মের সকালে রোদের তীব্রতা ৷ প্রখর রোদকে উপেক্ষা
করে একদল স্কুলের ছাত্রছাত্রী একত্রিত হয় গণিত উত্সবে ৷ গণিত উত্সবের
ভেন্যুতে তাদের উপস্থিতি শুরু হয় সকাল ৮টা থেকে ৷ সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে
অসংখ্য ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতিতে কানায় কানায় ভরে ওঠে প্রাঙ্গন ৷ প্রত্যেকেই
তাদের নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পোশাকে সুসজ্জিত হয়ে এসেছে ৷
ঘড়ির কাঁটা যখন ৮.৩০মি. অতিক্রম করে তখনই শুরু হয় এসেম্বলি ৷ এরপর
আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন
ঘোষণা করেন ধোপাঘাটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব আবুল কাশেম ৷
এছাড়া জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির পতাকা উত্তোলন করেন জনাব সিরাজুল
ইসলাম ৷
সকাল ৯টায় এক ঘন্টাব্যাপী লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ৷ এখানে আমন্ত্রিত
শিক্ষক ও ইয়ূথ সদস্যরা পরীক্ষা পরিচালনা ও ফলাফল তৈরিতে সহযোগিতা করেন ৷
পরীক্ষা শেষে সকল অংশগ্রহনকারী ক্লাসরুম ছেড়ে মাঠে চলে আসে ৷ এখানে
অনুষ্ঠিত হয় বন্ধুত্ব পর্ব ৷ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আসা
ছাত্রছাত্রীরা একে অপরের মধ্যে বন্ধুত্ব করে ৷ বন্ধুত্ব পর্ব শেষে ফলাফল
ঘোষণা ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শুরু হয় ৷ তিন ক্যাটাগরি থেকে মোট তিন
জনকে চ্যাম্পিয়ন অব দি চ্যাম্পিয়নস্ এবং তিনটি শ্রেষ্ঠ স্কুলের নাম ঘোষণা
হয় ৷ চ্যাম্পিয়ন অব দি চ্যাম্পিয়নস্ নির্বাচিত হয় যথাক্রমে প্রাইমারী-
মৌমিতা, ধোপাঘাটা প্রাথমিক বিদ্যালয়; জুনিয়র- শাকিলা সুলতানা, মিরপুর
উচ্চ বিদ্যালয়; সেকেন্ডারী- ইশরাত জাহান, মতিহার উচ্চ বিদ্যালয় ৷ শ্রেষ্ঠ
স্কুল নির্বাচিত হয় যথাক্রমে প্রাইমারী- মৌপাড়া সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয়; জুনিয়র- মৌপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়; সেকেন্ডারী- মতিহার উচ্চ
বিদ্যালয় ৷
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তা জনাব এ এইচ এম গোলাম কিবরিয়া ৷ তিনি তার বক্তব্যে বলেন, উত্সবের মাধ্যমে
গণিত শেখার আয়োজন করার মাধ্যমেই গণিতকে সামনে এগিয়ে নেয়া সম্ভব ৷
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ধোপাঘাটা মহাবিদ্যালয়ের উপাধ্যক্ষ বাবুল
আকতার ফারুক, মতিহার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান, ইয়ূথ
এন্ডিং হাঙ্গারের যুগ্ম ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর শরিফুল ইসলাম রনি, ইয়ূথ
একটিভিস্ট জামিল আকতার ও দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর আঞ্চলিক কো-অর্ডিনেটর
মাজেদুল ইসলাম ৷
পুরো অনুষ্ঠানে ভলান্টিয়ার হিসেবে ৬০ জন ইয়ূথ সদস্য অক্লান্ত পরিশ্রম
করেছেন ৷ তাদের মধ্যে মাহবুব, শাহরিয়ার, সারোয়র, ফিরোজ, মিলন, মিথুন
অনুষ্ঠান আয়োজনে নেতৃত্ব দেন ৷ মাহবুব গণিত উত্সব আয়োজনে তার অনুভূতি এবং
উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এভাবে, "ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার-বাংলাদেশের সাথে আমার
কাজের অভিজ্ঞতা অনেক দিনের৷ গণিত উত্সব আয়োজনের মাধ্যমে আমি নিজেকে এবং
আমার প্রিয় সংগঠনকে আরো বেশি করে পরিচিত করতে পেরেছি"৷
- শরিফুল ইসলাম রনি
|