স্থানীয় সরকার 

জ্জীবক বার্তা, বর্ষ-, সংখ্যা-২৭, এপ্রিল - মে ২০০৬

 

স্বশাসিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন


গণতন্ত্রের শক্ত ভিত রচনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও তৃণমূল উন্নয়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কোন বিকল্প নেই ৷ কিন্তু বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা তথা ইউনিয়ন পরিষদকে অত্যন্ত দুর্বল ও প্রায় অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে ৷ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের দায়িত্ব, সম্পদ ও স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত ৷ স্বশাসিত হওয়ার পরিবর্তে এগুলো এখন জাতীয় সরকারের আজ্ঞাবহ ৷ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতাও মূলত সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে ৷ সংসদ সদস্যদের ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ব স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদকে হুমকির মুখোমুখী দাঁড় করিয়েছে ৷ এমনি প্রেক্ষাপটে জনপ্রতিনিধিদের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে স্বশাসিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ৷

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালীকরণ তথা ইউনিয়ন পরিষদকে স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্যে নির্দলীয় ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের নেতৃত্বে পরিচালিত সংগঠন 'স্বশাসিত ইউনিয়ন পরিষদ এডভোকেসি গ্রুপ-বাংলাদেশ' কাজ করে যাচ্ছে ৷ ২০০৫ সালের ৮ আগস্ট 'স্বশাসিত ইউনিয়ন পরিষদ এডভোকেসি গ্রুপ-বাংলাদেশ' আহুত এক মতবিনিময় সভায় ৪টি সক্রিয় স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের সংগঠনের আলোচনার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণের চলমান আন্দোলনকে আরো বেগবান করে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য 'বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ঐক্যজোট' আত্মপ্রকাশ করে ৷ বর্তমানে 'স্বশাসিত ইউনিয়ন পরিষদ এডভোকেসি গ্রুপ-বাংলাদেশ', 'বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরাম' ও 'বাংলাদেশ ইউনিয়ন সদস্য সংস্থা (বাইসস)' - এই ৩টি সংগঠন এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছে
৷ সংগঠনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো: ইউনিয়ন পরিষদকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা, স্থানীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং স্থানীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে তৃণমুল পর্যায়ের জনগণকে অনুপ্রাণিত, ক্ষমতায়িত ও সংগঠিত করার মাধ্যমে উন্নয়নে দৃষ্টান্ত স্থাপন ৷ বর্তমান পরিস্থিতিতে উল্লেখিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় ৷ তাই শক্তিশালী ও কার্যকর ইউনিয়ন পরিষদ প্রতিষ্ঠায় নয় দফা অভিন্ন দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আন্দোলন পরিচালনা করছে 'বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ঐক্যজোট' ৷

'বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ঐক্যজোট'ভূক্ত সংগঠনসমূহ অভিন্ন দাবি-নামার ভিত্তিতে ৯ দফা দাবি প্রণয়ন করে ৷ বর্তমানে এই ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যেই এই ফোরাম আন্দোলন করে যাচ্ছে ৷



বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ঐক্যজোটের ৯ দফা দাবিসমূহ নিম্নরূপ:

১. সংবিধানের ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদ এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে স্থানীয় সরকার আইনসমূহকে সংশোধন এবং সুপ্রীম কোর্টের ১৯৯২ সালের নির্দেশ অনুযায়ী (কুদরত-ই-এলাহি পনির বনাম বাংলাদেশ) অবিলম্বে উপজেলা নির্বাচন করতে হবে ৷
২. স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে মাননীয় সংসদ সদস্যদের সংবিধান (৬৫ অনুচ্ছেদ) বহির্ভূত হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে ৷
৩. ইউপি'র স্বায়ত্বশাসন পরিপন্থী 'ইউনিয়ন পরিষদ আইন ১৯৮৩'-এর ১২, ৬০, ৬১, ৬৫ ও ৮১ ধারা বাতিল করার মাধ্যমে ইউপি'কে সম্পূর্ণ স্বায়ত্বশাসন দিতে হবে এবং সংবিধান পরিপন্থী সকল পরিপত্র বাতিল করতে হবে ৷
৪. গ্রাম আদালতের বিচার ক্ষমতা ১,০০,০০০/= (একলক্ষ) টাকা করতে হবে এবং রায় বাস্তবায়নের যথাযথ ক্ষমতা গ্রাম আদালতকে দিতে হবে ৷
৫. ইউপি চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের পরিচয়পত্র প্রদান ও মাসিক সম্মানী ভাতা যথাক্রমে ৫,০০০ ও ৩,০০০ টাকা করতে হবে ৷ চেয়ারম্যান ও সদস্যদের যথোপযুক্ত পদমর্যাদা দিতে হবে৷ সংরক্ষিত নারী সদস্যদের কাজের পরিধি সুনির্দিষ্ট করতে হবে ৷
৬. জাতীয় উন্নয়ন বাজেটের ২৫ শতাংশ ইউপি'কে সরাসরি থোক আকারে দিতে হবে এবং স্বাধীন অর্থ কমিশন গঠন করতে হবে ৷
৭. ইউপি'র কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য ট্যাঙ্ আদায়কারী, ট্যাঙ্ এসেসর, কম্পিউটার অপারেটর এবং গ্রাম পুলিশ (মহিলাসহ) নিয়োগের ক্ষমতা ইউপি'কে দিতে হবে ৷ ইউপি'র অধীনস্ত সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীর বেতন ভাতা ইউপি'র মাধ্যমে দিতে হবে ৷
৮. ইউপি'র আওতাধীন সরকারি বিভাগ ও বেসরকারি সংস্থাসমূহ কতর্ৃক বাস্তবায়িত সকল উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কার্যসম্পাদনের ছাড়পত্র ইউপি হতে গ্রহণ করতে হবে৷ ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্যরত সকল সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীকে ইউপি'র অধীনে ন্যস্ত করতে হবে ৷
৯. ইউপি'র আওতাধীন আয়ের উত্‍স যেমন, হাট-বাজার, জল মহাল, খেয়া-ঘাট এবং খাসজমি বন্দোবস্তসহ সকল আয়ের উত্‍স অবিলম্বে ইউপি'র কাছে হস্তান্তর করতে হবে ৷

৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঐকজোটের আন্দোলন কর্মসূচি:

  • ১৬ মার্চ, ২০০৬ সারা দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারগণ কলম বিরতি পালন করেন৷ ওই দিন তারা সকল অফিসিয়াল কার্যক্রমে স্বাক্ষর প্রদান থেকে বিরত থাকেন ৷

  • ১৭ মার্চ সকল চেয়ারম্যান-মেম্বার কালো ব্যাজ ধারণ করেন ৷

  • ১৮ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত সকল জেলা-উপজেলায় বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ঐক্যজোটের কমিটি গঠন করা হয় ৷ স্বশাসিত ইউনিয়ন পরিষদ এডভোকেসি গ্রুপ-বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরাম ও বাংলাদেশ ইউনিয়ন সদস্য সংস্থার সমন্বয়ে জেলায় জেলায় ঐক্যজোটের কমিটি গঠিত হয় ৷ এই কমিটি তাদের চলমান আন্দোলন কর্মসূচী বাস্তবায়নে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করে ৷

  • বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ঐক্যজোট ২ এপ্রিল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে ৷ সাংবাদিক সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ চলমান আন্দোলনের দাবিসমূহ সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করেন ৷ তারা এমপি ও আমলা নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনিক কাঠামোর পুনর্বিন্যাস ও প্রশাসনের সকল স্তরে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ দাবি করেন ৷

  • চেয়ারম্যান-মেম্বারগন ১ এপ্রিল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য উপজেলা সমন্বয় সভাসহ সকল সভা বয়কট করেন ৷

  • ৫ এপ্রিল ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করা হয় ৷ উক্ত কর্মসূচিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার, সংরক্ষিত আসনের নারী মেম্বারসহ ইউনিয়নবাসী জনগণ স্বতঃস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন ৷ গাইবান্ধা, নওগাঁ, রংপুর, কুড়িগ্রাম, নাটোর, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ী, সিলেট, চট্টগ্রাম, যশোর, ঝালকাঠি প্রভৃতি জেলায় বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ মিছিল সমাবেশের মাধ্যমে এ সমাবেশে অংশগ্রহণ করে ৷

    প্রতীক অনশন:
    আন্দোলন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ঐক্যজোট ৩ মে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতীক অনশন কর্মসূচি পালন করে ৷ সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ প্রতীক অনশন কর্মসূচিতে সারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আগত স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিগণ ছাড়াও বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ঐক্যজোট-এর বিভিন্ন জেলার নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট নাগরিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন ৷ এই অনশন কর্মসূচিকে সফল করার জন্য ৬টি বিভাগ এর ৩৯টি জেলার ২৩৫ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন ৷

    প্রতীক অনশন কর্মসূচির বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের এই আন্দোলন কর্মসূচির সাথে যারা সংহতি জ্ঞাপন করেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ, সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু, সাবেক এমপি মোঃ মহিউদ্দিন, জাসদ নেতা আসম আব্দুর রব, 'সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক'-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম, ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, কমিউনিস্ট পার্টি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার গাজিউল হাসান খান, আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুল সামাদ, জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি, ডেমোক্রেসি ওয়াচের ওয়াজেদ ফিরোজ প্রমুখ ৷

    জনপ্রতিনিধিদের মহাসমাবেশ:
    ইউনিয়ন পরিষদ ঐক্যজোটের আহ্বানে ২৫ মে, ২০০৬ ঢাকার মুক্তাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয় চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দের মহাসমাবেশ ৷ এমপি ও আমলাদের হস্তক্ষেপমুক্ত স্বশাসিত ইউনিয়ন পরিষদ প্রতিষ্ঠা এবং থোক বরাদ্দ ও সম্মানী ভাতাবৃদ্ধিসহ অবিলম্বে সকল দাবি বাস্তবায়নসহ সাংবিধানিক আকাঙ্খার ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা তথা ইউনিয়ন পরিষদকে শক্তিশালী ও কার্যকর করার চলমান আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ঐক্যজোট এই মহাসমাবেশ কর্মসূচির আয়োজন করে ৷

    মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ঐক্যজোটের সভাপতি গোলাম সারোয়ার ৷ প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ঐক্যজোটের মহাসচিব মতিউর রহমান তপন ৷ আরো বক্তব্য রাখেন চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, রংপুর; আব্দুল মান্নান খান, ঢাকা; মেম্বার লক্ষ্মী রানী সরকার, গোপালগঞ্জ; মাহবুবার রহমান টুলু, গাইবান্ধা; মোস্তাকুর রহমান মফুর, সিলেট; মনোরঞ্জন মণ্ডল, খুলনা; থোয়াউ চিং মারমা, বান্দরবান; আনোয়ার হোসেন বাবুল, ঝালকাঠি; বেলায়েত হোসেন বেলু; সফি আহম্মদ সলমান, হাসান রাকিব আজাদ, মো: আবুল হোসেন খান, রাজবাড়ী; গোলাম সারোয়ার মিলনসহ অর্ধশতাধিক নির্বাচিত ইউপি প্রতিনিধি ৷

    বক্তাগণ স্বশাসিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন এবং ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ওপর এমপি ও আমলাদের নিয়ন্ত্রনের কথা বলেন ৷ তারা সবাই দেশে সুশাসন কায়েম এবং স্থানীয় পর্যায়ে কাঙ্খিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পরিষদের ওপর যাবতীয় নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করতে হবে বলে তারা দাবি করেন ৷ জনপ্রতিনিধিগণ অবিলম্বে ইউনিয়ন পরিষদ ঐক্যজোট ঘোষিত ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কছে দাবি জানান ৷

    আগামী ৭ জুনের মধ্যে দাবিসমূহ বাস্তবায়ন না হলে জোরদার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন ৷ ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী
    - আগামী ৮ জুন, ২০০৬ দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদে কর্মবিরতি এবং সকল জেলায় সমাবেশ ও বিক্ষোভ করা হবে ৷
    - আগামী ১৮জুন, ২০০৬ এ সংসদ অভিমূখে পদযাত্রা ও মাননীয় স্পীকারকে স্মারকলিপি পেশ করা হবে ৷

    সমাবেশে সারা দেশ থেকে পাঁচ সহস্রাধিক স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যায়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন ৷

    - সানজিদা হক বিপাশা
 

Previous Article<Index>Next Article


Home  / Feedback / Subscribe

© 2006 The Hunger Project-Bangladesh. All rights reserved.