কবিরাজপুর ইউনিয়ন :
উত্কর্ষ সাধনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এক জনপদ

মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে আড়িয়াল খাঁ
৷ এই নদীর কূল ঘেঁষে প্রত্যন্ত জনপদ কবিরাজপুর ইউনিয়ন
৷ থানা শহর থেকে জল-স্থল উভয় পথেই যোগাযোগের ব্যবস্থা থাকলেও বর্ষা মৌসুমে জল পথই হয়ে ওঠে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম
৷ নদী পথে থানা শহর থেকে যেতে সময় লাগে দুই থেকে আড়াই ঘন্টা
৷
মাত্র দু
বছর আগের কথা, কবিরাজপুর ছিল আর দশটা প্রত্যন্ত জনপদের মতই অবহেলিত
৷ এলাকায় যে কয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল তাতে
লেখাপড়ার অবস্থা ছিল বেহাল
৷ শিক্ষক সংকট, ছাত্র-ছাত্রীদের অমনোযোগিতা, অভিভাবকদের উদাসীনতা ইত্যাদি
৷ এর মধ্যে আবার ছাত্রী উপস্থিতি নিত্যান্তই নগণ্য
৷ এলাকার মাত্র বিশ শতাংশ নারী অক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন
৷ স্বাস্থ্য চিত্রের অবস্থাও ছিল তেমনি
৷ প্রয়োজনীয় নিরাপদ পানির সংস্থান ছিলনা
৷ বারোটি গ্রামের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটি বাড়ি ছাড়া অধিকাংশ বাড়িতে স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ছিলনা
৷
কবিরাজপুরের সেই সময় পাল্টে গেছে
৷ বদলে গেছে এখানকার চিত্র
৷ জরাজীর্ণতার নাগপাশ ছিড়ে উঠে এসেছে আলোর ধারায়
৷ হঠাত্ করেই এমনটি হয়নি
৷ জনগণ স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিত করে, স্থানীয় সম্পদ দিয়ে, স্থানীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে এখানকার পরিবর্তন এনেছে
৷ আসুন জানা যাক এখানকার পরিবর্তনের গুঢ় রহস্য
৷
কবিরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মাদারীপুরে অনুষ্ঠিত হাঙ্গার প্রজেক্টের সপ্তম উজ্জীবক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পরিচিত হন উন্নয়নের এক ব্যতিক্রমী ধারার সঙ্গে
৷ প্রশিক্ষণ শেষে এলাকায় ফিরেই তিনি আত্মনির্ভরশীল ইউনিয়ন গড়ার লক্ষ্যে গ্রামে গ্রামে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে এলাকাবাসীকে সংগঠিত করতে
শুরু করেন
৷ তাঁর উদ্যোগে ও দি হাঙ্গার প্রজেক্টের পরিচালনায় ২০০১ সালের ১৮ থেকে ২১ এপ্রিল
এবং ২০
থেকে
২৩ আগস্ট
এ ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হয় দু'টি উজ্জীবক প্রশিক্ষণ
৷
প্রশিক্ষণে ১৩৪ জন নারী এবং ৩১ জন পুরুষ অংশ নেন
৷ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উদ্ধুদ্ধ হয়ে ১৬৫ জন উজ্জীবক গড়ে তোলেন কবিরাজপুর ইউনিয়ন উজ্জীবক সমিতি
৷ প্রাথমিক পর্যায়ে সঞ্চয় দিয়েই তাঁদের কার্যক্রম
শুরু করেন
৷ পরবর্তীতে সঞ্চয়ের টাকায় তাঁরা এলাকায় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, হাঁস-মুরগী পালন, নার্সারী, মাছ চাষ, সেলাই ও কৃষিসহ নানা আয়মুখী কার্যক্রম
শুরু করেন
৷
গড়ে উঠছে স্থানীয় সংগঠন
মানুষের সংগঠিত প্রচেষ্টাকে কাজে লাগিয়ে, উজ্জীবকরা গ্রামভিত্তিক স্থানীয় সংগঠনের মাধ্যমে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, আত্মনির্ভরশীল গ্রাম গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন
৷ এ সকল সংগঠনের পরিচালনায় রয়েছে এলাকার সাধারণ মানুষ
৷ সমাজের উচ্চ শ্রেণীর কোনো প্রভাব এখানে নেই
৷ সকল সংগঠন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত
৷ নারী সংগঠনগুলো পরিচালিত হয় নারীদের দ্বারা
৷
সংগঠনগুলোর নাম, সঞ্চয়ের পরিমাণসহ কিছু তথ্য নিচে দেয়া হলো (২০০১-০২ পর্যন্ত):
| ক্রম | সংগঠনের নাম | সদস্য সংখ্যা | শুরুর সময় | গ্রামের নাম | সংগঠনের প্রধান | সঞ্চয় |
| ১ | কাঁচাবালী মহিলা উজ্জীবক সমিতি | নারী - ৩৫ | ১লা জুন ২০০১ | কাঁচাবালী | হাওয়া বেগম | ১৪,৯৮৫/০০ টাকা |
| ২ | কাঁচাবালী একতা সংঘ |
নারী - ৫ পুরুষ - ২৭ |
৩১ ডিসেম্বর ২০০২ | কাঁচাবালী | মো: ওমর হোসেন |
৭,৯০০/০০ টাকা |
| ৩ | কাঁচাবালী যুব উন্নয়ন সংঘ | পুরুষ - ৩৩ | ১০ অক্টোবর ২০০১ | কাঁচাবালী | মো: ইসরাফিল তালুকদার | সচেতনতা সৃষ্টিমূলক কাজে স্বেচ্ছাব্রতী হিসেবে কাজ |
| ৪ | বিশ্বাম্বরদি ক্ষুধামুক্তি সংঘ | নারী - ২৫
পুরুষ - ১৫ |
১ মে ২০০১ | বিশ্বাম্বরদি | সেলিনা বেগম | ১৬,৯৫০/০০ টাকা |
| ৫ | শতরূপা | নারী - ২৪ | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০০১ | বিশ্বাম্বরদি | মাকসুদা বেগম | ৬,০০০/০০ টাকা |
| ৬ | শ্রীকৃষ্ণদি মহিলা উজ্জীবক সমিতি | নারী - ৩০ | ১ জুলাই ২০০১ | শ্রীকৃষ্ণদি | সালমা বেগম | ১৩,৯৯০/০০ টাকা |
| ৭ | গ্রাম উন্নয়ন প্রচেষ্টা | পুরুষ - ৪০ | ৫ আগস্ট ২০০১ | শ্রীকৃষ্ণদি | আক্কাছ আলী | ১০,৮৫০/০০ টাকা |
| ৮ | জাগরণী সেবা সংঘ | নারী - ২০ পুরুষ - ১৫ | ১ জুলাই ২০০১ | শ্রীকৃষ্ণদি | ফজলুল হক আকন | ১১,০০০/০০ টাকা |
| ৯ | আদর্শ যুব সংঘ | পুরুষ - ২৭ | ২৬ ডিসেম্বর ২০০১ | কবিরাজপুর | মো: জাকির হোসেন | ৬,৫০০/০০ টাকা |
| ১০ | কবিরাজপুর মহিলা ক্ষুধামুক্ত সমিতি | নারী - ২৫ | ২ জুলাই ২০০১ | কবিরাজপুর | আয়শা ছিদ্দিকা | ৭,৮০০/০০ টাকা |
| ১১ | নিলাম্বরদি উজ্জীবক সমিতি | নারী - ২৭ পুরুষ - ১৫ | ১ মে ২০০১ | নিলাম্বরদি | শিউলী আক্তার | ১১,০০০/০০ টাকা |
| ১২ | মহেন্দ্রদি দারিদ্র বিমোচন সমিতি |
নারী - ২৩
পুরুষ - ১৮ |
১১ জুলাই ২০০১ | মহেন্দ্রদি | ময়েন উদ্দিন ফকির | ১২,৫০০/০০ টাকা |
| ১৩ | স্বাবলম্বী মহিলা সমিতি | নারী - ১৫ | ২৭ মার্চ ২০০২ | কিশোরদিয়া | সাবিনা আক্তার | ৪,৫০০/০০ টাকা |
| ১৪ | ক্ষুধামুক্তি সংঘ |
নারী - ৭
পুরুষ - ১৪ |
৭ জুলাই ২০০২ | শোলপুর | নূর নাহার আক্তার | ৪,৯৫৫/০০ টাকা |
|
© 2005 The Hunger Project-Bangladesh. All rights reserved. |