|
৮ম উজ্জীবক পুনর্মিলনী-২০০৫ |
সংগঠিত এই
সামাজিক শক্তিই দেশের বর্তমান সংকট উত্তরণে নেতৃত্ব প্রদান করবে
নানা আয়োজনে মুখরিত অষ্টম উজ্জীবক পুনর্মিলন অনুষ্ঠিত
-বিধান
চন্দ্র পাল
২২ ডিসেম্বর,
২০০৫ ঢাকার সরকারী শারীরিক শিক্ষা কলেজ প্রাঙ্গন, মোহাম্মদপুর, ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো
দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর ৮ম উজ্জীবক পুনর্মিলন
৷ এটি ছিল
আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের লক্ষ্যে সামাজিক আন্দোলনের একটি সংগঠিত শক্তির মিলনমেলা
৷ সারাদেশের প্রত্যন্ত
অঞ্চল থেকে নিজের খরচে এ প্রাণের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিল প্রায় ১৫ হাজার
স্বেচ্ছাব্রতী উজ্জীবক
৷
অগণিত হাস্যোজ্জল মুখ আর দেশপ্রেমে উজ্জীবিত এই উজ্জীবকদের মিলনমেলায় প্রধান অতিথি
হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র, জনাব সাদেক হোসেন খোকা,
এমপি, এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বিশিষ্ট কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন
৷
৮ম উজ্জীবক পুনর্মিলন কমিটির আহ্বায়ক বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী,
উজ্জীবক ইফফাত আরা নার্গিস-এর সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন
দি হাঙ্গার প্রজেক্টের গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. বদিউল আলম
মজুমদার
৷ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের
ম্যাগসেসে পুরস্কার বিজয়ী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে উজ্জীবকদের পক্ষ থেকে সম্মাননা
প্রদান করা হয়
৷ এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন, জনাব
ফজলে হাসান আবেদ, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জনাব আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, মি. ফাদার
রিচার্ড উইলিয়াম টিম
৷
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী ভাষণে জনাব সাদেক হোসেন খোকা বলেন, দি
হাঙ্গার প্রজেক্টের সাফল্যে আমি অনুপ্রাণিত
৷ সমাজে এমন বৈরী
পরিস্থিতি বিরাজ করছে যে সর্বত্রই একে অন্যের তত্পরতা ভণ্ডুল করে দেবার চেষ্টা
৷ বিরোধীতার রাজনীতিতে
কারো পক্ষেই বাস্তব সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব হচ্ছে না
৷ এ মুহূর্তে ঐক্য
প্রয়োজন
৷ আমি মনে করি দি হাঙ্গার
প্রজেক্টের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের প্রকৃত উন্নয়নে কাজ করছে
৷ তাই আমি উজ্জীবকদের
আন্তরিক সাধুবাদ জানাই
৷ এদেরকে সহায়তা করাকে আমি
সরকারের দায়িত্ব মনে করি
৷ এ ধরনের কর্মসূচিকে
সমন্বিতভাবে আরো বেগবান করা দরকার
৷
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সেলিনা হোসেন বলেন, বাংলাদেশের একটি
উন্নত ভবিষ্যত্ নির্মাণের জন্য আপনারা উজ্জীবকরা চেষ্টা করে যাচ্ছেন
৷ মুক্তিযুদ্ধে আমরা সফল
হয়েছি একাত্তুরে
৷ আজকের বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের
সেই প্রত্যাশার বাংলাদেশ নয়
৷ চারদিকে সন্ত্রাস, উত্পাত,
বোমাবাজি আমাদের জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছে
৷ এমন সময়ে উজ্জীবকদের
এই বিশাল সমাবেশ আমাদেরকে আশাবাদী করে তোলে
৷ সমাজ পরিবর্তনের এই
বিকল্প ধারায় আমি সবসময় পাশে থাকার অঙ্গীকার করছি
৷
ড. বদিউল আলম মজমুদার বলেন, দেশের বর্তমান সংকটাপন্ন
পরিস্থিতিতে উজ্জীবক পুনর্মিলনের এই বিশাল উপস্থিতি বিশেষ তাত্পর্য বহন করে
৷ 'ক্ষুধামুক্ত ও
আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ' গড়ার লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতিশীল উজ্জীবকরা নিজেকে জয় ও
অন্যদের যুক্ত করার মধ্য দিয়ে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক সমস্যার সমাধানে এবং
আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে প্রতি মুহূর্তে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন তা আজ দেশের
অনেকের কাছেই সমাদৃত এবং প্রশংসিত
৷ আজকের বাস্তবতায়
উজ্জীবকদের কাছে আমার আন্তরিক আহ্বান জঙ্গিবাদসহ সকল অপশক্তিকে মোকাবিলা করতে একটি
সংগঠিত সামাজিক শক্তি হিসেবে উজ্জীবকদেরকে এগিয়ে আসতে হবে
৷ একমাত্র তৃণমূলের
জনগণকে সংগঠিত করে সামাজিক প্রতিরোধের মাধ্যমেই বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ
সম্ভব
৷
সম্মাননা গ্রহণের পর ম্যাগসেসে বিজয়ী জনাব জনাব ফজলে হাসান আবেদ
তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, তিনি ব্র্যাকের এক লক্ষ কর্মীদের উজ্জীবক
প্রশিক্ষণের সাথে যুক্ত করবার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং একটি পারস্পরিক সহযোগিতাপূর্ণ
সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে আশাবাদ
ব্যক্ত করেন
৷
জনাব আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, রাজনীতির কারণে রাষ্ট্র ভাগ
হয়ে গেছে, সিভিল সোসাইটি পলিটিক্যাল সোসাইটিতে পরিণত হয়েছে, শিক্ষা, সংস্কৃতি,
শিক্ষাঙ্গন দ্বিখণ্ডিত হয়েছে
৷ এটা চলতে থাকলে দেশ
এগুতে পারবে না
৷ যান্ত্রিকভাবে জাতিকে সমৃদ্ধ
করা সম্ভব নয়, বরং জাতির ভেতরের প্রেম, আত্মাকে জাগাতে হবে
৷ দি হাঙ্গার প্রজেক্ট
সে লক্ষ্যেই কাজ করছে
৷ তিনি বিশ্বাস করেন উজ্জীবকরা
জাতিকে জাগিয়ে তুলবে
৷
ম্যাগসেসে বিজয়ী ফাদার রিচার্ড উইলিয়াম টিম এবং
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী উজ্জীবকদের উদ্দেশ্যে তাঁদের অনুভূতি
ব্যক্ত করতে গিয়ে উজ্জীবকদের গণজাগরণ প্রচেষ্টাকে অভিনন্দিত করেন এবং যে কোন
প্রয়োজনে পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন
৷
সভাপতির বক্তব্যে বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী, উজ্জীবক ইফফাত আরা নার্গিস বলেন, আমরা
উজ্জীবকরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গঠনের যুদ্ধে সামিল হয়েছি
৷ যতদিন মুক্তিযুদ্ধের
সেই প্রত্যাশার বাংলাদেশ সৃষ্টি না হচ্ছে ততদিন উজ্জীবকদের এই সক্রিয়তা অব্যাহত
থাকবে
৷ তিনি অতিথিবৃন্দের প্রতি
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন
৷
সারাদিনব্যাপী আয়োজনের বিভিন্ন পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন একদল দেশ বরেণ্য চিন্তাশীল ব্যক্তি,
সাংবাদিক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব
৷ তারা উজ্জীবকদের
স্বেচ্ছাব্রতী কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ হয়ে তাঁদের মতামত ও অনুভূতি ব্যক্ত করেন
৷ তাঁদের মধ্যে
উল্লেখযোগ্য হলেন, জনকন্ঠের নির্বাহি সম্পাদক জনাব বোরহান আহম্মেদ, বাংলাদেশ
টেলিভিশনের সাবেক মূখ্য বার্তা সম্পাদক জনাব রফিকুল ইসলাম সরকার প্রমুখ
৷
অধ্যাপক আসাদ আলী, অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ, সাবিহা মোর্শেদ সুবর্ণা, আশরাফুন্নাহার
রুবী, তাহমিনা জান্নাত প্রমুখের উপস্থাপনায় সারা দেশ থেকে আসা ২৫ জন উজ্জীবক
বক্তব্য রাখেন
৷ উজ্জীবক বক্তাদের মধ্যে
উল্লেখযোগ্যরা হলেন, স্বশাসিত ইউনিয়ন পরিষদ এডভোকেসি গ্রুপের সভাপতি ও ইসলামপুর
ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব আবুল হোসেন খান, বরগুনার এ্যডভোকেট নুরুল ইসলাম, ঢাকার
এ্যডভোকেট রাশিদা আক্তার শেলী, সিলেটের মতিউর রহমান ফকরু, নেত্রকোনার শিপ্রা পাল,
নড়াইলের কোহিনুর বেগম, গাজীপুরের
আমীর হামজা, রাজশাহীর আসির উদ্দিন প্রমুখ
৷ অনুষ্ঠানে উজ্জীবকদের
উপস্থাপনায় নাচ, গান, কৌতুক, অভিনয় প্রভৃতি সাংস্কৃতিক আয়োজন পরিবেশন করা হয়
৷
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে প্রধান অতিথি দি হাঙ্গার প্রজেক্টের ওয়েব সাইট
www.thpbd.org
এবং উজ্জীবকদের সফলতার কাহিনী নিয়ে প্রকাশিত বিশেষ প্রকাশনা 'জাগরণের
গল্পগাথা' উদ্বোধন করেন
৷
স্বেচ্ছাব্রতী উজ্জীবকরা সারাদিন পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়, সফলতার কাহিনী
উপস্থাপন, অভিজ্ঞতা বিনিময়, আলাপ-আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ
ভালোবাসার মেলাকে অর্থবহ ও তাত্পর্যপূর্ণ করে তোলে
৷
|
© 2005 The Hunger Project-Bangladesh. All rights reserved. |